১৯৭৩ সালে ১লা জানুয়ারী আমার জন্ম পশ্চিম বঙ্গের দ: ২৪ পরগনার মথুরাপুর গ্রামে। স্নাতক ক: বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ১৯৯২ সালে বাণিজ্য শাখায়। আমি যখন পঞ্চম শেণীতে পড়ি তখন আমার পিতৃ বিযোগ ঘটে। তারপর আমার মা আমাকে ব্হু সংগ্রামের মধ্য দিয়ে বড় করেন। এখন আমি বিবাহিত, ৫ বছরের একটি পুত্র সন্তান আছে - রূদ্র প্রসাদ বন্দ্যোপাধ্যায়। বর্তমানে আমি Power Sector-এ Accounts Dept.-এ কর্মরত।  


যখন আমি কলেজের প্রথম বর্ষে পড়ি তখন থেকে লেখালেখি শুরু করি।  সময়টা ১৯৯২ সাল। তার ১ বছর পর একটি লিটিল ম্যাগাজিনের (নব-বার্ণিক) সহ-সম্পাদক হিসাবে যোগদান করি।  প্রায় ৭ বছর ধরে এই কাজ করতে থাকি।  এ সময় আরো নানান পত্রিকায় লেখা পাঠাতে থাকি।  আমার প্রিয় কবি হিসাবে আমি প্রথমেই রবি ঠাকুর ও তার পরেই সুনীল গঙ্গোপাধ্যায় মহাশয় কে পছন্দ করি। মানুষের মাঝখানে থেকে মানুষের কথা লিখে নয়, তাদের সাথে পথ চলা শুরু সেই ১৯৯২ থেকেই শুরু হয়েছিল  .... আজও তা চলমান।  বেশিরভাগ লেখাই তাদের নিয়ে  ..... আমি ভালোবাসি আন্দোলন  .... বাঁচি আন্দোলনের মধ্য দিয়ে। ২০০৫ সালে একটি কবিতা 'সুনীল' বাবুকে পাঠাই (প্রার্থী), তাঁর  আস্থাভাজন হই ও অনেক শুভেচ্ছা পাই।  আমি নিজে কবিতা লিখি বটে তবে অন্যের কবিতা আবৃত্তি করতে বেশি ভালবাসি। ২০০৮ সালে চণ্ডীগড় থেকে সপ্তম বর্ষের আবৃত্তির কোর্ষে প্রথম শ্রেণীতে ডিগ্রী লাভ করি। এছাড়াও নানা জায়গায় আবৃত্তি করে থাকি আমন্ত্রিত শিল্পী হিসাবে।


আর যতদিন লিখব, তাদের নিয়েই লিখব যারা সর্বহারা  .....লিখব তাদের আগামী দিনের ঘোষণা। আপনাদের সাথে আজ শেয়ার করলাম।  
পথ চলা শুরু হলো ...
==================



বিজ্ঞাপন নয়, একটি প্রস্তাব
- সৌমেন বন্দ্যোপাধ্যায় (পীযূষ কবি)
বাংলা কবিতা ডটকমের পক্ষ থেকে দ্বিতীয় মাসিক সভা হয়ে যাওয়ার পর কবি চিত্তরঞ্জন সরকার মহাশয়ের নিকট থেকে প্রস্তাব আসে আমার নিকটে। প্রস্তাবটি হল - "আসরের অনেক কবিগণ তাদের একক কাব‍্য সংকলন প্রকাশ করেছেন। কিন্তু প্রচারের অভাবে বেশিরভাগ বই (কাব‍্য) তাদের আলমারির শোভা বর্ধন করছে মাত্র। সেগুলি যদি আমরা এই মাসিক সভায় নিয়ে এসে একত্রিত করার পর, সাহিত্য বিষয়ক মেলায় বা গ্রামীণ মেলায় তা প্রচার বার্তাসহ (Audio) উক্ত বই হতে ১টি বা ২টি কবিতা আবৃত্তিসহ বিক্রয়ের ব‍্যবস্থা করি (৫০% ছাড়া দিয়ে) এবং সেখান থেকে যে অর্থ পাওয়া যাবে তা দিয়ে প্রতি বছর কবি সম্মেলনের সাথে সাথে যৌথভাবে পত্রিকা প্রকাশ করতে পারি এবং পত্রিকা প্রকাশের জন‍্য কবিদের নিকট থেকে সাহায্য অর্থ গ্রহণ না করেই।"


*কাব‍্য সংকলন (৫০% ছাড়া দেওয়ার পর) বিক্রয়ের অর্থ যদি কোন কবি পুরোপুরি ফান্ডের জন‍্য না দিয়ে, কিয়ৎ অংশ দিতে চান সে বিষয়েও উল্লেখ করবেন আশারাখি।


আমার কাছে প্রস্তাবটি খুবই গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে হয়েছে। এখন আপনাদের মতামতের অপেক্ষায়। প্রচারবার্তাসহ কবিতা আবৃত্তির কাজ আমি বাংলা কবিতা ডটকমের জন‍্য নিজ কন্ঠে ও নিজ খরচে করতে ইচ্ছুক। তবে হিসাবরক্ষক হিসাবে কবি সুখেন্দু মাইতির নাম প্রস্তাব রাখলাম।


আসুন, কবিতায় বাঁচি।
=============
ভোঁদড় নাচ


ঝাঁটা মারি, ঝাঁটা মারি অমন আইনের মুখে
এ সমাজে মানুষ নেই, দাঁড়ায় না কেউ রুখে!
পরকীয়ার রস মধু
যে জন খায় সেই যদু,
খোলাখুলি কোলাকুলি টানাটানি হাসছে সুখে।


এখানে এপর্যন্ত ১৮টি মন্তব্য এসেছে।


শহিদ খাঁন ২৯/০৯/২০১৮, ১১:৪৮ মি:
গভীর ধারনার অনুভূতিপূর্ণ "ভোঁদড় নাচ" নামক রূকতার নান্দনিক কাব্যের অপরূপ রূপায়নের কাব্যিকতায় বিমোহিত হ'লাম আসর বরেন্য সুপ্রিয় কবি বন্ধুবর। রইল আন্তরিক প্রীতি ও শুভেচ্ছা। ভাল থাকুন কবি প্রিয়।


১১৯.৩০.৩৫.২১০উত্তর দিন    মুছে ফেলুন
স্বপন গায়েন (উদয়ন কবি) ২৯/০৯/২০১৮, ১০:৪৮ মি:
অনন্য!


১১৭.১৯৪.২৩৭.৬৫উত্তর দিন    মুছে ফেলুন
অনিরুদ্ধ বুলবুল ২৯/০৯/২০১৮, ০৯:৩০ মি:
"ঝাঁটা মারি অমন আইনের মুখে"
কবিতার এই লাইনটিকে কেউ কেউ হয়তো আদালতকে অসম্মান করার পর্যায়ে বিবেচনা করতে পারেন। কিন্তু গভীরভাবে দেখলে বোঝা যায়; যে আইন সমাজ ও সভ্যতাকে পেছনে নিয়ে যায় সে আইন শুভ নয়, দুষ্ট। আর যে কোন সভ্য সচেতন মানুষ মাত্রেই সে আইনের প্রভাব প্রতিক্রিয়া নিয়ে উদ্বিগ্ন হবেন। সভ্য মানুষের কাছে এটাই স্বতঃসিদ্ধ। এর দ্বারা বিচারক বা বিচারিক প্রতিষ্ঠানকে হেয় করা বা অবজ্ঞা নয় বরং ন্যূনতম বোধ সম্পন্ন বিবেকবান মানুষ হিসাবে সভ্যতা ধ্বংসকারী দুষ্ট আইনের প্রতি ঘৃণার থুতু ছিটানো হয়েছে মাত্র।


১১৬.৫৮.২০২.১০৪উত্তর দিন    মুছে ফেলুন
খলিলুর রহমান ২৯/০৯/২০১৮, ০৭:০২ মি:
ঘটনা সম্পর্কে খুব বেশী অবগত নই। নীচের মন্তব্য থেকে কিছু আঁচ করলাম।


গৃহদাহ -তে তো পরকীয়া প্রেমের কোন মাহাত্ম দেখানো হয়নি, বরং তার শিকার এক নারীর অসহায় রূপ এবং ভয়াবহ পরিণতি ও সবকিছুর পরেও উদার প্রেমের যে সহনীয় ও মহিমান্বিত রূপ তাই দেখানো হয়েছে।
বৈষ্ণবকাব্যের পরকীয়া তো রূপকে মহাসত্বার সাথে প্রেম বলেই বুঝতাম, যে প্রেম ভক্তকে চিরাচরিত সংসার ধর্মের প্রতি বিরাগী করে তোলে।
আমি মনে করি, চৈতন্য জাগরুক আপনার ক'টি চরণ এ সব বিতর্কের উর্ধে এক সামাজিক রোগের বিরুদ্ধে প্রতিবাদী বিদ্রোহ।


অসীম শ্রদ্ধা ও শুভেচ্ছা রেখে গেলাম আপনার জন্যে।


১২৪.১৭৭.৫১.৯১উত্তর দিন    মুছে ফেলুন
সহিদুল হক ২৯/০৯/২০১৮, ০৩:০১ মি:
আমরা আবার সেই আদিম যুগে ফিরে যেতে চলেছি। সেই দিন বোধ হয় আর বেশি দূরে নেই বিবাহ প্রথা চালু হওয়ার আগের সেই বর্বর যুগে আবার পৌঁছানোর ‌।
দারুন লিখেছেন সময় উপযোগী কষাঘাত। আদালতের পক্ষে-বিপক্ষে বড় কথা নয়। এ হলো সাহসী মানুষের যথার্থ উচ্চারণের সাহসিকতা। যারা সাহিত্যের দোহাই দিয়ে এই রায়ের স্বপক্ষে ওকালতি করছেন ওকালতি করছেন তাদের স্বামী বা স্ত্রী রাখার যদি বুক ফুলিয়ে তার সামনে প্রকাশ্যেই পরকীয়ায় লিপ্ত হয় তাদের কেমন লাগবে জানতে ইচ্ছে করে। স্যালুট কবি।


২৪০৫:২০৫:৬০০e:d৯১৭:৯e১৩:৬৬e১:bb৭d:d১১cউত্তর দিন    মুছে ফেলুন
রীনা বিশ্বাস-হাসি (মৈত্রেয়ী কবি) ২৮/০৯/২০১৮, ২৩:১০ মি:
হায় পরকীয়া !
কি লিখি তোমারে দিয়া!


দেখে যাই আর কি কি হয় আমাদের স্বাধীন দেশে---------
শারদ প্রীতি রইল ভাই------------


১৪৬.১৯৬.৪৬.৯৮উত্তর দিন    মুছে ফেলুন
গোলাম রহমান ২৮/০৯/২০১৮, ২০:২১ মি:
দারুণ ক্ষোভের লিমেরিক কাব্যে বিমোহিত!
প্রিয় কবির জন্য রক্তিম শুভেচ্ছা ও গভীর ভালোবাসা রেখে গেলাম।
ভালো থাকুন দাদা সব সময়!!


১০৩.২০২.৫৫.৮৯উত্তর দিন    মুছে ফেলুন
তমাল ব্যানার্জি ২৮/০৯/২০১৮, ২০:১৪ মি:
লেখা হলো বেশ।
শুভেচ্ছা অশেষ।


৪২.১১০.১৬০.২২৯উত্তর দিন    মুছে ফেলুন
শ্রীতরুণ গিরি ২৮/০৯/২০১৮, ১৯:৫৯ মি:
এই লেখা পড়ে (কবিতা বলতে পারছি না, দুঃখিত) বেশ ধন্ধে পড়ে গেছি। বিশেষত আপনার মত একজন অভিজ্ঞ কবির এমন তরল রচনা দেখে। তার উপর কয়েকজনের মন্তব্য দেখে আরও চমৎকৃত হয়েছি। পরকীয়ার অর্থ অনেক ব্যাপক। (সুপ্রিম কোর্টের রায়ে পরকীয়াকে সমর্থন করা নেই, ঐ আইনে স্ত্রীকে যেভাবে স্বামীর অধীন সম্পত্তির মত ট্রিট করা হত তা বাতিল করা হয়েছে। যাইহোক, এটা গেল আইনের কথা।)
কিন্তু বৈষ্ণব রসসাহিত্যের প্রায় পুরোটা (বাৎসল্য, দাস্য, সখ্য, বাদ দিলে) পরকীয়া নির্ভর। এতদিন তাহলে আমরা ভোঁদড়ের রস গ্রহণ করেছি। ঘরে বাইরে, গৃহদাহ ইত্যাদি ভুরি ভুরি সব বিখ্যাত রচনা যা সাহিত্যে উজ্জ্বল বলে জানি, সে গুলি মানুষের সমাজের যোগ্য নয়?
কি জানি এতদিন হয়তো ভুলই জানতাম।


২৪০৯:৪০৬৪:৪০f:৩২১৪:৭৯fd:৪e৮c:৭১e০:bf৪উত্তর দিন
জয়দীপ ২৯/০৯/২০১৮, ১৯:০৪ মি:
শ্রীতরুণবাবু,
আজকাল সোসাল মিডিয়ায় কোর্টের রায় নিয়ে কটাক্ষ করার ব্যাপারে সুপ্রীম কোর্ট চিন্তাভাবনা করছেন(অপপ্রচার বিষয়ক)।
আদালতের রায় নিয়ে সমালোচনা করার একটা মাত্রা আছে তবে
'ঝাঁটা মারি আইনের মুখে' কথাটা সেই মাত্রা ছাড়িয়ে গেছে।এই কবি
আবেগের বশে নিজের সীমানা লংঘন করেছেন কাজেই বিপরীত কিছু ফলাফল পেতেই পারেন।আপনি ছাড়া অনেকেই যারা বাহ্ বাহ্
করছেন তারা এই কবির কতটা সুহৃদ কে জানে নাকি গড়বড় হলে
'আমার কি'এই গোছের?


২৪০১:৪৯০০:৩৬১৩:৮৪f০:৮০c০:৮৯f৫:cbe৯:৮ec৩উত্তর দিন    মুছে ফেলুন
সৌমেন বন্দ্যোপাধ্যায় (পীযূষ কবি) ২৮/০৯/২০১৮, ২১:৩১ মি:
হুঁ!!!!
হোক সৃষ্টি আরো গৃহদাহ ... গৃহদাহ ২, গৃহদাহ ৩....
"৪৯৭ ধারাকে অসাংবিধানিক ঘোষণা করে রায়দানের সময় প্রধান বিচারপতি মন্তব্য করেন, ‘‘এই আইন জোর করে চাপিয়ে দেওয়া এবং স্বেচ্ছাচারিতার সমান। এখন এটা বলার সময় হয়েছে যে, কোনও মহিলার স্বামী তাঁর প্রভু বা মালিক হতে পারেন না।’’ কোনও নারী কখনওই স্বামী বা কারও সম্পত্তি হতে পারেন না বলেও পর্যবেক্ষণ সাংবিধানিক বেঞ্চের।
রায়ে আরও বলা হয়েছে, কারও যৌনতার অধিকারকে আইনি পরিসরে বেঁধে দেওয়া ঠিক নয়। কাউকে সমাজের ইচ্ছানুযায়ী ভাবতে এবং কাজ করতে বাধ্য করার অর্থ তাঁর স্বাধীনতা খর্ব করা। এটা মহিলাদের অধিকার রক্ষা এবং সমানাধিকারের পরিপন্থী।"
লিখুন আপনিও.... কালজয়ী হবেই - পরকীয়া।


ততক্ষণে এই তরল উড়ে যাবেই।


২৪০৫:২০৫:৬৪a২:২৩৩৫:f৬e৭:e৯৪২:২b৩২:f৮c৫উত্তর দিন    মুছে ফেলুন
রণজিৎ মাইতি ২৮/০৯/২০১৮, ১৯:৫৩ মি:
চমত্কার লিমেরিকে মুগ্ধ হলাম। বেশ ভালো লাগল কবিবর । অনেক শুভেচ্ছা ও ভালবাসা জানবেন


২৪০৯:৪০৬০:২০১e:৬৯১:০:০:১ead:১০adউত্তর দিন    মুছে ফেলুন
সঞ্জয় কর্মকার ২৮/০৯/২০১৮, ১৯:২৪ মি:
মানুষ আর পশুর কোনও ব্যাবধান আর রইল না। আন্তরিক শু ভকামনা রইল প্রিয় কবি।


২০২.১৪২.৮০.১৭৩উত্তর দিন    মুছে ফেলুন
এম ওয়াসিক আলি ২৮/০৯/২০১৮, ১৯:০৫ মি:
খুব সুন্দর প্রকাশ!
মুগ্ধতা রেখে গেলাম প্রিয় কবিদাদা।
অনেক অনেক শুভ কামনা এবং ভালোবাসা নিরন্তর।


১০৬.২১৯.১৩৩.১১৬উত্তর দিন    মুছে ফেলুন
গোপাল চন্দ্র সরকার ২৮/০৯/২০১৮, ১৮:০১ মি:
জন ভাবনা, তার দ্রোহের রূপ কাব্যে আনা , কষ্টকর বিষয় বটে !
অনন্য কাব্যে মুগ্ধ !! অশেষ শুভেচ্ছা প্রিয়কবিকে ।


২৭.৫৭.১৫৬.২২৬উত্তর দিন    মুছে ফেলুন
মনোজ ভৌমিক(দুর্নিবার কবি) ২৮/০৯/২০১৮, ১৭:৩৩ মি:
জমিয়ে দিলেন দাদা।শুভকামনা


২১০.৮৯.৫৬.৮৬উত্তর দিন    মুছে ফেলুন
রক্তিম ২৮/০৯/২০১৮, ১৭:২৬ মি:
বাহ বেশ জমে গেছে । আর একটা কুরুক্ষেত্রের জন্য অপেক্ষা । সেদিন খুব বেশি দেরী নেই ।


১৪.১৩৯.২২৩.১০০উত্তর দিন    মুছে ফেলুন
অজিত কুমার কর ২৮/০৯/২০১৮, ১৭:১৯ মি:
ঝুলে আছে কত কেস
পরকিয়া চলে বেশ।
কী আনন্দ
লাগে ধন্দ
রসাতলে যাক দেশ।


শুভেচ্ছা রইলো।


২৪০৫:২০৫:৬২২৯:৪e৩d:৯c০a:২c৯:৫২১b:১f২৪উত্তর দিন    মুছে ফেলুন


অভিযোগ সমূহ
ভোঁদড় নাচ সম্পর্কে উত্থাপিত অভিযোগ সমূহ নিচে দেয়া হল।


অভিযোগ ব্যান
মোডারেটর: ভারতের সর্বোচ্চ ন্যায়ালয় মহামান্য সুপ্রিম কোর্ট পরকীয়া সম্পর্ক নিয়ে এক রায় দিয়েছেন। কবি সেই আইনের বিরুদ্ধে সরাসরি "ঝাঁটা মারি অমন আইনের মুখে" লাইনটি বলে অত্যন্ত বেঠিক এক কাজ করেছেন। এক্ষেত্রে নিয়মাবলীর ক ৫ লঙ্ঘিত হয়েছে। তাই কবিতাটি ব্যান করা উচিত বলে মনে করি। হ্যাঁ
মোডারেটর: খ) এর ৫ নং নিয়ম ভঙ্গের জন্যে ব্যান করা হোক। হ্যাঁ
অতিথি: যে কোন দেশের সর্বোচ্চ আদালতকে নিয়ে ব্যঙ্গ করা গর্হিত কাজ। এই কবিতা বিতর্কের সূচনাকারি হিসাবে বাদ দেওয়াই শ্রেয়।
মোডারেটর: আরে মশাই রাখুন তো আপনার সর্বোচ্চ আদালতের রায়। আপনার বিবেক কি বলে। রায় বড় না সভ্যতা বড়। সারাদেশের বিবেকবান মানুষদের উচিত এই রায়ের বিপক্ষে তীব্র আন্দোলন গড়ে তোলা। ঘরে ঘরে অশান্তির আগুন জ্বলতে অত্যন্ত সহায়ক এই রায়। এই কবিতাটি একটি বলিষ্ঠ কবিতা। মিনমিনে কবিতার চেয়ে হাজার গুণ ভালো। কাজী নজরুলের বিদ্রোহী কবিতার কথা মনে পড়ছে। কবিরা আদালত বা অন্য কারো দাস নয়।
মোডারেটর: প্রিয় ১ম মোডারটর বলেছেন ক ৫) নিয়ম লঙ্ঘিত হয়েছে। প্রিয় ২য় মোডারেটর বলেছেন খ) ৫ নিয়ম ভঙ্গ হয়েছে। কিন্তু কেন তা হয়েছে বলা হয় নি। খ) ৫ নিয়ম ভাঙ্গার কোন প্রশ্নই ওঠে না। ক ৫) নিয়মও ভাঙ্গা হয় নি - এটা কোন সংবেদনশীল বিষয় নয়। হলেও যথেষ্ট সতর্কতা অবলম্বন করা হয়েছে বলে আমার কাছে মনে হয়েছে। কবিরা মানবিকতার বিবেক। পরকীয়ার জন্য শাস্তির বিধান রাখা যেমন ভাল নয় (এই পর্যন্ত ঠিক ছিল) তেমনি অবাধ পরকীয়ার অনুমোদন অনৈতিক ও অসামাজিক (এই অংশের প্রতিবাদ কবিতাটিতে)। যারা বিষয়টি সম্পূর্ণ জানে না তারাই এই কবিতাকে ব্যান করার কথা বলতে পারেন। কবিতাটি একটি অবাধ পরকীয়া সংক্রান্ত কোর্টের রায়ের বলিষ্ঠ প্রতিবাদ। প্রিয় কবিকে অনেক ধন্যবাদ এই সাহসী প্রতিবাদের জন্য।
মোডারেটর: "ঝাঁটা মারি অমন আইনের মুখে" কবিতার এই লাইনটিকে কেউ কেউ হয়তো আদালতকে অসম্মান করার পর্যায়ে বিবেচনা করতে পারেন। কিন্তু গভীরভাবে দেখলে বোঝা যায়; যে আইন সমাজ ও সভ্যতাকে পেছনে নিয়ে যায় সে আইন শুভ নয়, দুষ্ট। আর যে কোন সভ্য সচেতন মানুষ মাত্রেই সে আইনের প্রভাব প্রতিক্রিয়া নিয়ে উদ্বিগ্ন হবেন। সভ্য মানুষের কাছে এটাই স্বতঃসিদ্ধ। এর দ্বারা বিচারক বা বিচারিক প্রতিষ্ঠানকে হেয় করা বা অবজ্ঞা নয় বরং ন্যূনতম বোধ সম্পন্ন বিবেকবান মানুষ হিসাবে সভ্যতা ধ্বংসকারী দুষ্ট আইনের প্রতি ঘৃণার থুতু ছিটানো হয়েছে মাত্র। মনে হয় কবিতার গতি প্রকৃতি বিশ্লেষণে কোন কোন পর্যবেক্ষক 'আইন' এবং 'আদালত' শব্দ দুটিকে এক করে দেখছেন। আইন কোন শাশ্বত ঐশীবাণী নয় যে, তা অক্ষয় বা বদলানো যায় না। সময় এবং প্রণেতার দৃষ্টিভঙ্গির পরিবর্তিত প্রেক্ষাপটে যদি মনে হয় তা অশুদ্ধ তখন তার গতি প্রকৃতি ও ধরন-ধারণ বদলাতে হয়। তখন দুষ্ট আইন বলে চিহ্নিত পূর্বতন আইনটি বাতিল করে পরিবর্তিত ও পরিমার্জিত হয়েই থাকে। ১৮২৯ সালের ডিসেম্বরে সতিদাহ প্রথা বিলুপ্ত হওয়ার পূর্বে পর্যন্ত এটটিও এক অলিখিত আইন রূপেই চর্চিত হতো (তখন কোন লিখিত প্রশাসনিক আইন ছিল না)। দিল্লির সুলতানি রাজত্বকাল থেকেই এর উপর প্রশাসনিক নজরদারিত্ব বাড়তে থাকে যা - ১৮২৯ সালে এসে রাজা রামমোহন রায়ের আন্দোলনের প্রেক্ষিতে বেঙ্গল গভর্ণর লর্ড উইলিয়াম বেন্টিংকের মাধ্যমে আইনী কার্যক্রমের অন্তর্ভুক্ত হয়। সুতরাং কেউ সতিদাহ প্রথার মুখে ঝাঁটা মারলে তা নিশ্চয় সেই প্রথার প্রণেতাদের মুখে মারা হয় না! যে কোন আইন বা প্রথার বিরুদ্ধে কথা বলার অধিকার প্রতিটি মানুষেরই আছে। এ অধিকারও আইন বলেই সিদ্ধ।
অতিথি: এই ওয়েবসাইট আন্তর্জাতিক পর্যায়ের কাজেই এখানে কোন বিতর্কিত পোষ্ট না থাকাই শ্রেয়,বিশেষ করে সুপ্রীম কোর্টের সমালোচনামূলক লেখা। আদালত অবমাননার দায়ে অভিযুক্ত হওয়ার সম্ভাবনা বর্তমান কাজেই এই জাতীয় পোষ্ট (কবিতার মাধ্যমে) অপসারন করাই শ্রেয়।