*
                   বাড়ি আমার জলসাঘর
                       অজিত কুমার কর


  মনের কোণে উঁকি মারে আমার ঘরে চাঁদের হাট
কে নেই সেথা, সবাই আছে, পাতা আছে দড়ির খাট।
              রবি দুখু মানিক লালন
               শুভলক্ষ্মী এটি কানন
উদয়শংকর, আলাউদ্দিন, আল্লারাখা, দবীর খান
খুশি আমার উথলে ওঠে ওদের দেখে জুড়ায় প্রাণ।


দুখু মিঞার জন্ম যে আজ ওরা সবাই হাজির তাই
রবি ঠাকুর গান ধরেছে, 'আমার সোনার হরিণ চাই।'
                 আমি ছিলেম একটু দূরে
                   দুয়ার ধরি গানের সুরে
ইশারাতে ডাকে আমায়, 'আয় এদিকে, কাছে আয়'
ভাগ্য আমার খুবই ভালো এমন আদর ক'জন পায়।


রবির আদেশ, গাইবে এবার হীরে মাণিক সত্যজিৎ
  বাধ্য হয়ে করলো শুরু নেই এখানে হার বা জিৎ।
                তবলা বাজায় আল্লারাখা
                 সবাই জানে শিল্পী পাকা
  উদয় বলে, 'নাচবো আমি, রইবো বসে কতক্ষণ
গানের তালে অঙ্গ দোলে প্রায়ই আমার হয় এমন।'


  গাইবে এবার দ্বৈতকন্ঠে শুভলক্ষ্মী দবীর খান
করতালি থামে না যে শ্রোতারা বেশ তৃপ্তি পান।
            এটি কানন হাসছে দেখে
            এখন বাকি রইল কে কে
এর পরে কি আমার পালা, আমার পরে চাই লালন
    একতারাটি চলছে বেজে উড়ু উড়ু কেমন মন।


সবার শেষে আলাউদ্দিন সেতারে হাত এখন তার
  বাইরে তখন বৃষ্টি শুরু ঠান্ডা বাতাস চমৎকার।
               জন্মদিনের এই আসরে
                নক্ষত্র সব আমার ঘরে
ফুলের মালা সবার গলে পরিয়ে দিলাম সযত্নে
    মধুরেণ সমাপয়েৎ, পিতাজি আজ প্রযত্নে।


  দুখু মিঞার জন্মদিনে বাড়ি আমার জলসাঘর
   গল্প গুজব হাসি ঠাট্টা ভাব বিনিময় পরস্পর।
                   স্বপ্ন যদি সত্য হতো
                মজা হতো আরো কতো
কত কী তো ঘটছে রোজই এমন কেন ঘটছে না
আমন্ত্রণের চিঠি পাঠাই অবুঝ এ মন মানছে না।