একুশ এলেই গুঞ্জরণ
অজিত কুমার কর

দৃষ্টিগোচর হয় না ওদের শহিদমাতার অশ্রুজল
পলাশ-শিমুল খেলছে আবির বার্তা পাঠায় পায়ের মল।
একুশ এলেই গুঞ্জরণ
কোথায় আত্মসংবরণ
বিস্মরণ
বিলক্ষণ।

বাংলা ভাষার অমর্যাদায় ফুসছে মানুষ গুপ্ত ক্ষোভ
উদগীরণের জন্য সবার সংঘবদ্ধ এ বিক্ষোভ।
কাঁপলো বাতাস শব্দ জোর
নামল হঠাৎ আঁধার ঘোর
হয় না ভোর
ছিন্ন ডোর।

শহিদরক্ত হয় না বিফল দর্পচূর্ণ জিঘাংসা
যদিও লাগল অনেক সময় একাত্তরেই মিমাংসা।
জন্মগ্রহণ বাংলাদেশ
একুশ তারিখ দিন বিশেষ
অধ্যাদেশ
হর্ষ বেশ।

ইউনেস্কোর স্বীকৃতি লাভ নিশ্চয় খুব গৌরবের
কিন্তু নিবিড় চর্চা কোথায় দায় দায়িত্ব দু'বঙ্গের।
দৃঢ় প্রত্যয় অঙ্গীকার
দীপ্তি বাড়াব এই ভাষার
মসির ধার
দুর্নিবার।

ভাষাভান্ডার সুসমৃদ্ধ অন্দরে তার রত্নরাজি
রবীন্দ্রনাথ-জীবনানন্দ-দত্ত কবির ভর্তি সাজি।
কত সুখ্যাতি ভূমন্ডলে
ওদের প্রাপ্তি কর্মফলে
কী ঝলমলে
ভাষার বলে।

বুকের ভিতর ব্যথার পাহাড় জমাট বরফ অশ্রুজল
ফেব্রুয়ারির একুশ এলেই বাঁধ ভাঙা স্রোত অনর্গল।
বাঙালিরা হার মানতে জানে না জানুক বিশ্ব বিন্ধ্যাচল
শিয়রে দাঁড়িয়ে গিরি হিমালয় পদতলে জল ছলাৎছল।

© অজিত কুমার কর