একুশে মানে ভালোবাসা, একুশে মানে স্বাভিমান, একুশে মানে স্বাধীনতা। রবীন্দ্রনাথ যদি বাংলার আইকন হন, তাহলে আজ দলমত নির্বিশেষে একুশে ঠিক একই আইকনের দাবিদার। একুশে আজ আর কোনো আন্দোলন নয়,কোনো দিন নয়, অথবা কোনো তারিখ নয়। একুশে আজ শুধু আমাদের বাংলা। একুশে আজ দুই বাংলার ঐক্যবদ্ধ আইকন। আর একুশে যদি আইকন হয়, তাহলে তার সংগীতালেক্ষ হচ্ছে 'আমার ভাইয়ের রক্তে রাঙানো একুশে ফেব্রুয়ারী,আমি কি ভুলিতে পারি,। পঁচিশে বৈশাখ এ যেমন 'হে নুতন দেখা দিক বারবার' না গাইলে তাঁর জন্মদিনের পরিপূর্ণতা আসেনা, ঠিক একইভাবে একুশেতে এই গানটি না গাইলে সম্পূর্ণতা আসেনা। তাই দুই বাংলার পাড়ায় পাড়ায় এক অখ্যাত কবি সাংবাদিক 'আব্দুল গাফফার চৌধুরী' র লেখা এই গানটি গেয়ে শিশু কিশোরেরা নগ্নপদে প্রভাত ফেরি করে। বিংশ শতাব্দীর শেষ ভাগে আর কোনো বাংলা গান সামগ্রিকভাবে  আর এতো ব্যাপকভাবে জনপ্রিয়তা লাভ করেনি বা এতো ব্যাপকভাবে প্রচারিত হয়নি। এই দিনটিতে সারা বিশ্বের সমগ্র বাঙালি জাতি নতুন করে শপথ নেয় মাতৃভাষার ওপর যে কোনো আঘাতের প্রত্যুত্তর দেবার।
বাঙালি জাতি এই যে একটি ক্ষেত্রে একুশে আইকনের তলায় ঐক্যবদ্ধ হয়েছে, তা অস্বীকার করার কোনো উপায় নেই । যখন জীবনে কোনো জটিলতা আসে, মানবসভ্যতা ততই বেশি আইকনের দিকে ঝুকে পড়ে।জননী জন্মভূমির সঙ্গে আসে সমস্ত আনুষাঙ্গিক স্মৃতি ও আইকন। আর এক্ষেত্রে সবচেয়ে বেশি গুরুত্বপূর্ণ হলো মাতৃভাষা।তখন সবচেয়ে বেশী করে প্রয়োজন হয়ে পড়ে অভিন্নতা, একরূপতা ও একতা। আমাদের অর্থাৎ এপার বাংলা ও ওপর বাংলার সেই একতা এনে দিয়েছে একুশে আইকন। বাংলা সভ্যতা শুরুই হয় ভাষাকে ভিত্তি করে,বিভিন্ন ধর্মের সম-অবদানের মধ্যে দিয়ে। মুসলমান বলুন, হিন্দু বলুন আর ক্রিস্টিয়ান বলুন, সবাইকার এই ভাষা তৈরী করেছে এমন এক সভ্যতা, যেখানে ভাষাই একমাত্র মাতৃদুগ্ধ। বাঙালির কাছে মাতৃভাষার ওপরে আর কিছু হতে পারেনা। জাতি গঠনের জন্যে ভাষার স্থান সবার ওপরে।


উপসংহার :-
ভাষাকে যারা ধর্মের সঙ্গে জুড়ে দিয়ে রাজনৈতিক খেলা খেলেন, তাদের সাবধান হওয়া উচিত যে আমরা একুশে আইকনের তলায় ঐক্যবদ্ধ।পৃথিবীর কোনো শক্তি নেই এই ঐক্য কে ভেঙে দেবার।


জয় একুশে, জয় আমাদের মাতৃভাষা!!!


আসরের সবাইকার জন্যে রইলো আমার অকৃত্রিম ভালোবাসা ও শুভেচ্ছা।