বিকালে বৃদ্ধের সাথে সাক্ষাতে      
বিষাদগ্রস্ত বৃদ্ধ যেটুকু দেখেছেন  
স্মৃতির ডায়েরী হতে সেইটুকু      
পড়ে শোনালেন।তিনি লিখেছেন-
বাষট্টি বছর কেটে গেছে আমার    
আয়ুষ্কাল থেকে।মনের করিডোর
দিয়ে একাকী দেহ-কুটিরের সব  
বিষয়াদি তল্লাসে আছি বিভোর।
নানান ব্যাধি দুয়ারে কড়া নাড়ে  
এই অবেলায়।তাদের বলেছি,ওরে  
ফিরে যা।বজ্জাতরা সেই অবসরে
দেহ-কুটির নেড়ে তামাশা করে।
নড়বড়ে পিলারগুলি আঁকড়ে ধরে  
নাড়ে উৎফুল্লে।নাছোড়-বান্দাদের  
নিয়ে পড়েছি মুস্কিলে।উল্লাস ভরে    
আগে এসব করতে দেখিনি ওদের।
অপরাহ্ণে আমি ভয়ে,কাপুরুষতায়    
আমার শৈশবের বন্ধুদের খুঁজেছি।  
প্রিয়া!নষ্টপ্রায় স্মৃতিগুলির পাতায়
তোমার ঠিকানার তল্লাশ করেছি।
খুঁজে না পেয়ে তোমার ঠিকানা,  
নিয়ে বসেছি মা-র ডায়েরীখানা  
যেখানে দিনের কাজের শেষে মা  
লিখতেন অসংখ্য জানা-অজানা।
শুনেছি মা-র ডায়েরীতে আমার  
ঘনিষ্ঠ শৈশবের বন্ধুদের ঠিকানা
লেখা ছিল।ডায়েরীর সব পাতার  
লেখা-ই বিবর্ণ,যেন পড়তে মানা।
একটা বিবর্ণ ছেঁড়া চিরকুট খুঁজে    
পেয়েছি ডায়েরীর একেবারে শেষে।
চিরকুট পড়ে জেনেছি তুমি ‘নিদ্রা’
প্রথম সাক্ষাতে ছিলে লাজুক বেশে।  
যেদিন প্রথম এলে আমার শিয়রে  
সেদিন আমি ছিলাম অজ্ঞাতবাসে
মাতৃ-জঠরে।তুমি তখন অবসরে  
বলেছ রোজ থাকবে পাশে পাশে।
সেদিন থেকে এযাবৎ কোনদিন    
সেই অঙ্গীকারের বিচ্যুতি ঘটেনি।
তোমার ঠিকানাটুকু তাই আমার
ডায়েরীতে কোনদিনও লিখিনি।
শয্যায় একটি সাদা চাদর পেতে  
গত রাত্রিতে তুমি আসবে ভেবে
একটি পাজামা ও পাজ্ঞাবী পড়ে
একান্তে শুয়েছিলাম নিজ স্বভাবে।  
পাশের বসত ঘর থেকে গিন্নীর  
নাকের গর্জন ঘরের দেওয়ালকে  
এফোঁড়-ওফোঁড় করে অপলকে
ঘরে ঢুকে মগজে বিঁধেছে তীর।
অসহ্য যন্ত্রণায় জুড়েছি চিৎকার  
উহু: আঃ।কেহ ছিলনা দেখবার।
প্রিয়া!তুমি তো আসো নি এবার
একাকীত্বে রাতে হয়েছি জেরবার।
আমি সারারাত কাটালাম জেগে    
এপাশ-ওপাশ করে।রাত কাটলে
ভাবছি এই প্রথম রাত জাগালে  
একান্ত অভিমানে,নয়তো আবেগে।