প্রিয়তমা,
তোমাকে আগে বলেছি স্বপ্নচারিতার কথা।
যমালয়ে বিচারসভার প্রথম পর্বের উল্লেখ
করেছি আগে।এবার বলছি বিরতির পরে
সভার দ্বিতীয় পর্বের শুরুতে ছিল পৃথিবীর
ভূগর্ভস্থ জল উত্তোলন প্রসঙ্গ।ভেবে দেখো
বক্তব্য, ঠিক কতটা।
রাজসাক্ষীর বক্তব্য,বসুন্ধরা কলসি কাঁখেই
নিয়ত দিচ্ছেন জলের যোগান।সেই জলের
চলছে যথেচ্ছ অপচয় ও অপব্যবহার।তাই
এখন পৃথিবীতে জলের হাহাকার।ভয়ানক
জল-সংকট।
প্রিয়তমা,আমার উপস্থিতিতেই রাজসাক্ষী
যমরাজের সামনে দাঁড়িয়ে বিষ মাখানো
অভিযোগের তীর সরাসরি ছুঁড়তে শুরু
করলো মানুষের বিরুদ্ধে।মনে হলো সে
নেমেছে এক যুদ্ধে।
রাজসাক্ষী জানালো,তবু মানুষেরা আজও
বন্ধ করেনি জলের অপচয়।তারা ভূগর্ভস্থ
সঞ্চিত জল নিঃশেষ করে বৃষ্টিতে ভেজা
শাড়ি নিগড়ানোর মতো প্রকৃতির নাড়িকে
নিগড়ে বের করে আনতে চায় অবশেষ।
করছে বাড়াবাড়ি।
প্রিয়তমা,ভেবে দেখো অভিযোগের গুরুত্ব।  
স্বীকার করতেই হয় এই ঘটনা একেবারে
সত্য।রাজসাক্ষী স্মরণ করালো পৌরাণিক
সমুদ্র মন্থনের কাহিনী।
আজ ভূগর্ভের থেকে উঠে আসছে ভয়ঙ্কর
আর্সেনিকের যৌগ,বিষ।দেখা যাচ্ছে কালো
মেঘের ছায়া।এবার হবেই মানুষের চরম
দুর্দশা।
প্রিয়তমা,সভায় পরবর্তী প্রসঙ্গ জল দূষণ।
রাজসাক্ষী তথ্য ও ছবি সহযোগে দেখালো
মানুষ কৃষি জমিতে কত পরিমাণে ছড়ালো
কীটনাশক।ফলে মরছে শত শত প্রজাতির
পাখি ও কীট-পতঙ্গ।ভাবছি,এই বিশ্ব জুড়ে
চলছে কত রঙ্গ।
দেখেছি যমালয়ের বিচার-সভায় উপস্থিত
সেই মৃত পাখি ও কীটপতঙ্গ দের আত্মার
প্রতিনিধিরা।সকলে ছুটে এসেছে যমরাজের
কাছে মানুষের বিরুদ্ধে নালিশ জানাতে।
প্রিয়তমা,রাজসাক্ষী তার এই বক্তব্য তুলে
ধরার সাথে সাথে প্রতিনিধিরা ও দাঁড়িয়ে
তাকে সমর্থন করলো।
রাজসাক্ষীর বক্তব্য ছিল জলে ধুয়ে সেসব
কীটনাশক এবং শিল্পের রাসায়নিক বর্জ্য
নিয়ত পৌঁছে যাচ্ছে পুকুর,জলাশয়,নদীতে
ও সাগরে।এই জলদূষণে ইতিমধ্যে বিলুপ্ত
হয়েছে শত শত প্রজাতির জলচর প্রাণী।
তিমি,ডলফিনের মতো প্রাণীরা ও এখন
অস্তিত্বের সংকটে।সমুদ্রের প্রবাল-প্রাচীর
আজ ধ্বংসের পথে।
প্রিয়তমা,যমরাজের কাছে এখন মানুষের
বিরুদ্ধে অভিযোগের তালিকা টি দেখলেই
বিস্মিত হতে হয়।সুদীর্ঘ তালিকার শেষ
খুঁজে পাওয়াও দুষ্কর।
এই সভায় আরো যে প্রসঙ্গ গুলি উঠলো
সেগুলো ও শোনাবো পরপর।ধৈর্য চ্যুতি
যদি হয়,তাই আজ আর নয়।আবারও
সেকথা হবে আগামীকাল।