প্রিয়তমা,
গতকাল বিচারালয়ে মানুষের অপরাধের
বিচার পর্বে তোমাকে যা বলেছি,পরের
ঘটনাবলী শোন।তালিকা ধরে রাজসাক্ষী
যেসব অভিযোগ করলো সেগুলো যদিও
মানুষ মানতে চাইবে না কখনো,তবুও
সেই অভিযোগ গুলো সত্য নয় সেটাও
মানুষ প্রমাণ করতে পারবে না কখনো।
রাজসাক্ষী বলিষ্ঠ তথ্য ও প্রমাণ দিয়ে
যমরাজকে দেখিয়ে দিলো সমগ্র বিশ্বের
গড় উষ্ণতা বৃদ্ধি তে মানুষ কতটা দায়ী।      
রাজসাক্ষী মানুষদের পাপিষ্ঠ বলে ধিক্কার
দিয়ে বিস্তৃত তথ্যপঞ্জির সাহায্যে দেখালো
পৃথিবীর ক্ষয় ক্ষতি।বালকসুলভ অপরিণত
বুদ্ধিতে কিংবা দুঃসাহসে এই পৃথিবী টাকে
ঘিরে থাকা তার সুরক্ষায় কম্বলের মতো  
ওজোন গ্যাসের স্তর টিকে মানুষ শত-ছিদ্র
করে কিংবা পাতলা চাদরের মতো করে
ধরণীকে নাকি ঠেলে দিলো আজ ভয়ঙ্কর            
ধ্বংসের দিকে।
প্রিয়তমা,বলতে পারো এখন সূর্য থেকে
আসা অতি বেগুনি ও তেজস্ক্রিয় রশ্মিকে
ঠেকাবে কে?ভাবি,মানুষ নিজের ভালো
বুঝতে শিখলো কবে!
এখন সূর্য থেকে দ্রুত হারে প্রতিনিয়ত
রশ্মি ছুটে আসছে ধরণীর দিকে।অচিরে
ভূপৃষ্ঠ জ্বলবে ইট ভাটা গুলির মতো।কৃষি
জমিতে ধরবে ব্যাপক ফাটল।সুগম হবে
সীতা দেবীর পাতালে প্রবেশ পথ।
প্রিয়তমা,একটু ভেবে দেখো কৃষি কাজের
কী দশা হতে পারে।জমিতে সেচের এবং
পানীয় জলের কথাও ভেবে রেখো।আর
একটা কথাও ভাবতে হবে,শরীরের ত্বক
পুড়বে মাত্রাতিরিক্ত সূর্যের অতি বেগুনি
এবং তেজস্ক্রিয় রশ্মির প্রভাবে।
তখন করোনা ভাইরাসের ভয়ে না-হলেও
হয়তো ত্বকের ক্যান্সারের ভয়ে আবার
লক-ডাউনের মতো স্বেচ্ছায় গৃহে বন্দি
হয়ে থাকতে হতে পারে।
প্রিয়তমা,হয়তো তুমি ক্লান্ত।এসব শুনতে
এখন আর ভালো লাগছে না।তাই এখন
এ ব্যাপারে আর বলবো না।তবে মনে
রেখো এটা হবে পরবর্তী পর্যায়ের প্রথম
আলোচ্য বিষয়।
প্রিয়তমা,যা বলতে চেয়েছি শোনো।লক
ডাউন এখনো বহাল।এখান থেকে বহু
দূরে রেল লাইন দেখা যায়।ট্রেন চলছে
না।তাই আশপাশ থেকে টুকিটাকি ফল
খেয়ে এখন এখানে থাকছি।লক ডাউন
উঠলেই ট্রেন ধরবো।সিদ্ধান্ত পরিবর্তন
করলেও জানাবো।সকলে ভালো থেকো।
রাখছি এখন।