প্রিয়তমা,
যমরাজের বিচার সভায় রাজসাক্ষীর সব
বক্তব্য থেকে তুমি নিশ্চয় ভাবছো এখন
মানুষের দৌরাত্ম্যে সমগ্র বিশ্বের কোথাও
নেই বাঁচার আশ্বাস।সত্যিই তাই।করবে
কাকে বিশ্বাস?রাজসাক্ষীর দেয়া তথ্য চিত্র
দেখে যমরাজ ফেললেন দীর্ঘশ্বাস।হয়তো
ভাবলেন,বসুন্ধরা থেকে এভাবে প্রাণীরা
দলে দলে ফিরলে কোথায় দেবেন ঠাঁই।
তাছাড়া,যমালয়ে এতো স্থানও খালি নাই।
হয়তো ভাবলেন ঘাতকদের জুতসই কিছু
একটা শিক্ষা দেওয়া চাই।
প্রিয়তমা,ভেবে দেখো,কী করছে ঘাতকের
দল।শিউলি-ফোটা মনোরম সকাল এখন
দেখতে ও পায় না কচিকাঁচা শিশু সকল।
ঘাতকরা তবুও ধরণীর গলা টিপে ধরতে  
এখনো অবিচল।
ওদের অত্যাচারে,বসুন্ধরা ও হয়েছে বন্ধ্যা।
বিশ্বের সবুজ বনানী লুপ্তপ্রায়।আমাজনের
বনভূমি নিঃশেষিত প্রায়।আফ্রিকার অরণ্য
কাটাচ্ছে ভয়ানক দুর্দশায়।
ভাবতে অবাক লাগে,তবু ঘাতকরা এখনো
বিষ ঢেলে যাচ্ছে এই ধরণীর গুলবাগিচার
শিরায় শিরায়।
প্রিয়তমা,ঘটনাবলী শুনে তুমি হয়তো ক্লান্ত।
শুনতে ভালো লাগছে না আর।নির্ঝর কোন
স্বপ্নভঙ্গের দশা।তবু ঘটনা গুলো জেনে রেখো।
করোনার দুর্দশা ঘুচলেই ঘাতকেরা স্ব-মূর্তি
ধরবে আবার।
প্রিয়তমা,প্রকৃতির ক্ষয় ক্ষতির কিছু নমুনার
পরে রাজসাক্ষী তুলে ধরলো বিশ্বে মনুষ্য-সৃষ্ট
রাষ্ট্র-ব্যবস্থার খতিয়ান।বহু দেশে অর্থনৈতিক,
রাজনৈতিক এবং সামাজিক সুরক্ষা প্রতিষ্ঠার
নামে কিভাবে এই ঘাতকেরা করছে সমাজের
ব্যাপক ক্ষয় ক্ষতি।
প্রিয়তমা,রাজসাক্ষী বললো,বিশ্বের এই মানুষেরা
মান-হুশ সম্মত হলে কখনো মানুষ বাঁচানোর
অভিপ্রায় ছেড়ে শুধু অর্থ-লালসায় জীবন দায়ী
ঔষধে পেটেন্ট দাবী করতো না।
সে আরো দেখালো,এই বিশ্বে অর্থনৈতিক বৈষম্য
ভেঙ্গেছে সামাজিক কাঠামো।খরস্রোতা নদীদের
তীব্র জল স্রোতে নদীর পলির সঞ্চলনের মতোই
অর্থ বল রাষ্ট্র পরিচালন ব্যবস্থার দায়ভার কে
পৌঁছে দিচ্ছে ধনীদের দখলে।
প্রিয়তমা,তুমি হয়তো জানতে চাইছো ফলশ্রুতি।
রাজসাক্ষী এ ব্যাপারে কি বললো জানতে একটু
অপেক্ষা করো।এখন এটুকু থাকুক।তার বক্তব্য
জানাবো পরে।