প্রিয়তমা,
হয়তো এখন তুমি মোবাইলটা পাশে নিয়ে
আমাদের খোকন কে বুকে জড়িয়ে শুয়ে আছ
ঘরে।জানি,সে রূপকথার গল্প,পরীদের অবাধ
বিচরণ নিয়ে গল্প-গাঁথা শুনতে ভালোবাসে।
এখানে আসার আগে তার শৈশবেই দেখেছি
রাতে যখন তার ঘুমনোর সময় হতো,তখন  
তুমি তার পাশে শুয়ে মাথায় হাত বোলাতে
বোলাতে তাকে নিয়মিত রূপকথার গল্প গুলি  
শোনাতে।মনে হয় আজও খোকনকে সেসব
শুনিয়ে ঘুম পাড়ানোর পর খাওয়া দাওয়ার
পর্ব মিটিয়ে মোবাইল হাতে এই সময় বসে
কিংবা শুয়ে হয়তো প্রতীক্ষা করছো আমার
একটা ম্যাসেজের।
রাত হয়েছে বেশ।ঠিক গ্রাম ও নয়,আবার
শহর ও ঠিক নয় আমাদের বাসস্থান,যাকে
শহরতলী বলা যায়,সেই পরিবেশে এখনো
আঁধার রাতে জোনাকিরা দল বেঁধে উড়ে
বেড়ায়,ঝোপে-ঝাড়ে ঝিঁঝিঁ পোকার ডাক
শোনা যায়,সন্ধ্যা গড়ালে গভীর রাত বলে
মনে হয়,এই অবস্থায় নিশ্চয় পাশের ঘরে
এখন বৃদ্ধ বাবা -মা খাওয়া দাওয়া সেরে
ঘুমিয়ে পড়েছেন আলো নিভিয়ে।
গত রাতে যে কথাটি বলা হয়নি তোমাকে
সে কথাটি বলছি আগে।তোমার কি আজ
মনে পড়ে,বাড়ি ছেড়ে আমার এখানে চলে
আসার আগের রাত্রিতে তুমি সারাটা রাত
কেঁদেছ বালিশে মুখ চেপে।
কামারের হাপরের মতো ফুঁপিয়ে সে-কান্না,
মাঝ রাতে এমন বাঁধভাঙ্গা হলো যে রাতটা
অনিদ্রায় কাটলো আমাদের দু’জনার।বাস্তব
পরিস্থিতিকে অগ্রাহ্য করে তুমি তখন এমন
শিশুসুলভ আচরণ করলে আমি ধৈর্য চ্যূত
হয়ে সে’রাতে গেলাম ভয়ানক ক্ষেপে।
পুরুষেরা অর্থ রোজগারে ব্যর্থ হলে,সংসারে
দায়দায়িত্ব যথার্থ ভাবে পালনে অসমর্থ হলে
মনের কী অবস্থা হয়,তা তোমাকে কিভাবে
বোঝাব।তুমি সেটা বুঝতে পারবে না,আমি
সে-রাতে ভুগেছি কতটা মানসিক যন্ত্রণায়।
সেসব কথা আজ থাকুক।বলছি,জেনে রাখো    
এখানে এসে পড়েছি ব্যাপক অর্থের অভাবে।
বলা ভালো,এই বিভুঁই-এ তবু সাময়িক এক
কাজ জোটাতে পেরেছি।অদক্ষ শ্রমিক হিসাবে।
নিরুপায়,এ-কাজে দিয়েছি সায়।এখনি কাজ
থেকে ফিরেছি।ক্লান্ত বেশ।আলোটা নিভিয়ে
ঘুমিয়ে পড়বো তাড়াতাড়ি।ম্যাসেজে তোমাকে
তাই প্রথম খবরটা দিলাম তড়িঘড়ি।
আজ এটুকুই থাক।পরে বিস্তারিত কথা হবে।
আমাদের খোকন সোনা ও বাবা-মাকে নিয়ে
ভালো থেকো।