প্রিয়তমা,
অদ্ভুত পরিস্থিতিতে আজ  কী করা উচিত
আর কী করা উচিত নয় সেসব ভাবতেই
লাগলো অনেক সময়।আবার এই ভাবনা
গুলোকে চুলের বেণী র মতো বাঁধাও ছিল
কষ্টকর।তবু নানান তথ্য ও যুক্তির উপর
নির্ভর করে সে কাজ করেছি রাত জেগে।
তবে এসব করতে হতো না আগে।
আমার শৈশব থেকে আজ অবধি যখনি
পড়েছি বিপদে,সেসব সমস্যার সমাধানে
সিদ্ধান্ত গ্রহনের আগে অন্ধের যষ্টির মতো
নির্ভরতায় পরামর্শের জন্য ছুটেছি বাবার
কাছে।তিনি বিমুখ করেন নি কখনো।বরং      
প্রতিবার পেয়েছি তার অসীম অনুপ্রেরণা
ও সু পরামর্শ।
প্রিয়তমা,কিন্তু তাঁর একাশি বছর বয়সে  
লক ডাউনের কারণে আমার এই সমস্যা
সমাধানে তাঁকে ভাবিত করা সঙ্গত হবে
না ভেবে এই পরিস্থিতি নিয়ে তাঁর সাথে
আলোচনা করো না।
তার আশীর্বাদের উপর ভর করে আজ
একটা স্থির সিদ্ধান্ত নিয়েছি।এখন সবই
বলবো তোমাকে।তার আগে বলছি এই
সময় খোকন ও বাবা-মা’র যেন কোনও
কষ্ট না-হয় সেদিকে লক্ষ্য রেখো।নিজের
কথাও ভাববে সব সময়।
প্রিয়তমা,যুগের সন্ধিক্ষণ কিনা জানি না,
অতি অল্প সময়ে মানুষের চিন্তা,চেতনা
জীবনদর্শন কত বদলে গেছে।দেখো ফিরে,
চারদিকে এই করোনা ভাইরাসের সংক্রমণ
কালে পরিযায়ী শ্রমিকদের সংকট শিয়রে।
সমাজের ভিত যারা বস্তুত রেখেছে ধরে,
তাদের দুর্দশা কত গভীরে,কি কি উদ্যোগ
নিলে তাদের সমস্যা গুলির কিছুটা সুরাহা
হবে,বিশিষ্ট ব্যক্তি গণ বিবেক তাড়িত হয়ে  
সেসব খোঁজেনি কখন।তারা ভাবেনি এখন
দুর্যোগ সুনামির মতো ভয়াল হলে কিভাবে
করবে নিয়ন্ত্রণ।
প্রিয়তমা,কালের স্রোতে কিভাবে মানুষের
জীবন-তরণী হেলে দোলে,ভাবতে অবাক
লাগে।ভেবেছি রাতে,শৈশব থেকে এযাবৎ
জীবন-সংগ্রামে আমাকে কত প্রতিকূলতা
পেরোতে হলো।
প্রিয়তমা,যে সিদ্ধান্ত ও পদক্ষেপ ইতিমধ্যে
নিয়েছি সেকথা ই তোমাকে বলবো এখন।
মনোযোগ দিয়ে শোন।
এখানে বেশ ক’দিন আমার কাটলো বন্দি
দশায়।এই ক’দিনেই আমি যেন মৃতপ্রায়।
তাই দুর্দশা সহ্য করতে না-পেরে জীবন
বাজি রেখে এদিকে সেদিকে ভালোভাবে
দেখে আমি এখন বেড়িয়ে পড়বো বাড়ির
উদ্দেশ্যে।এখন দুপুর।হেঁটে এগোতে হবে,
চৈত্রের প্রখর রোদে।সড়কে পুলিশের টহল
তাই নিয়ত লুকোচুরি খেলতে হবে।বত্রিশ
কি মি পথ গেলে রেল স্টেশন।দ্রুত হেঁটে
সেথায় পৌঁছতে চাই সন্ধ্যার আগে।
যখন যেখানে থাকবো,সেই খবর ও পাবে।
চিন্তা করো না মোটে।রাখছি এখন।