আজ একটি গল্প শোনাবো।
তার ও আমার গল্প।
তার সাথে কথা শুরু হয়েছিলো
নীল সাদার জগতে
নতুন ইংরেজি বছরের শুভেচ্ছা বিনিময়ে।
ব্যস।
এতোটুকুই।
এরপর হঠাৎ একদিন
খুব সকাল বেলা
আবারো কথা শুরু হলো।
সে কথার পিঠে কথায় পরিচয়।
জানতে পারলাম সে ভীনদেশী যুবক।
এরপর?
এরপর শুরু হলো
একটা সুন্দর
অথচ খুবই তিক্ত সংক্ষিপ্ত গল্প।
যে গল্পে একটা একাকী, বিষন্ন মেয়ে ছিলো।
যে ছিলো অনুভূতিহীন।
আর ছিলো এক একাকী,পাগলাটে পরদেশী যুবক।
যে থাকতো নিজ দেশ ছেড়ে পরদেশে।
একা?উঁহু।
ভুল বললাম।
তার ছিলো হাজারো স্বপ্ন।
হাজারো ইচ্ছে,দায়িত্ব।
ছিলো নীল আকাশের মেঘের ফাঁকে
উড়তে চাওয়ার ইচ্ছে।
ছিলো দেশ বিদেশ দেখতে চাওয়ার ইচ্ছে।
প্রেম ভালোবাসা?
এসব তো তার জন্যে নয়।
কিন্তু হলো কি?
সেই অনুভূতিহীন মেয়েটি,
ভালোবাসলো,
সেই দুরন্ত স্বপ্নের পথিকটিকে।
মুখ ফুটে বলতে পারলো না
ভয়, সংকোচ, লজ্জায়,হীনমন্যতায়।
অথচ জানতে ও পারলো না
পরদেশী-ও যে ভালোবাসে তাকে।
মেয়ে বুঝতেই পারলো না
তার কৃষ্ণকায় ডাগর চোখ
পরদেশীর ঘুম কেঁড়ে নেয়।
তার কোমল ওষ্ঠদ্বয়
আর তার নিচে ছোটো কালো তিলটি,
ভিনদেশীকে আকর্ষণ করে
চুম্বকের মতো।
কালো নয়।
বরং তার হালকা বাদামী কেশ-ই
বিদেশি যুবকের মন বেঁধেছে অবলীলায়।
মেয়ে জানলো-ই না যে,
সে শ্বেতাঙ্গ যুবক?
তাকে আলতো অথচ গভীর অনুভূতিময়
একটি স্বচ্ছ চুম্বন উপহার দিতে চায়,
কপালের লাল টুকটুকে
টিপ এর একটুখানি উপরে।
কিন্তু মেয়েটি যখন জানলো?
হারিয়ে গেছে পরদেশী
তার বিস্তৃত স্বপ্নের সাথে।
দোষ দিইনা ভিনদেশীর
কারণ তার যে অনেক স্বপ্ন আছে।
আছে আকাঙ্ক্ষা।
তারপর?
আমার গল্প টি ফুরলো
নটে গাছটি মুড়োলো।
আর মেয়েটি?
মেয়েটি রইলো একা পড়ে
অসমাপ্ত গল্পটির
এক সুন্দর ইতির আশা নিয়ে।