প্রিয়তম হে,
আমার খোলা চিঠি আজও হয়নি তোমার পড়া-
সেই চিঠি আজ অনেক পুরোনো,
বার কয়েক হয়েছে উড়ো হাওয়ায় পাঠানো,
তাই দুমড়ে মুচড়ে একাকার।
এক কোনায় সামান্য লাল ছোঁয়া পাবে,
তোমাকে দেব বলে ভেবেছিলাম, যে লাল গোলাপটি-
তারই একটি পাপড়ি ঘষেছিলাম সামান্য।
হয়তোবা সতর্ক চোখে গুটিকতক আবছা পেন্সিলের ড্রইং পাবে,
কারন তোমার মুখচ্ছবি আঁকার জেদ ধরেছিলাম।
হায়রে, অবুঝ আমি!
পেন্সিলের ছোঁয়ায় কি তোমাকে ফুটিয়ে তোলা সম্ভব?
পারিনি, তাই তো! আমার জেদ ধরেই বা কি হবে?
আমি তো সারাজীবন তোমার ছায়ায় বন্দি হবারো জেদ ধরেছিলাম,
কই? হতে পারিনি তো!
জেদ ধরেছিলাম তোমার খোলা চুল একবার ছুঁয়ে মনকে বুকভরা নিঃশ্বাস দেবার,
কই! ছুঁতে পারিনি তো?
পারিনি হতে একফোটা শিশির,
তোমার অবারিত সুরভিত ভোরবেলায়,
পারিনি হতে রোমাঞ্চ, যখন তুমি নিমগ্ন,
ইজিচেয়ারে বসে জীবনানন্দ পড়ায়।
আমি তাও অনেক স্বপ্ন দেখি!
স্বপ্ন-এক ছোট্ট পাখির,
পাখিটি তুমি।
রোজ আমার স্বপ্নগুলোতে তুমি গান গাও।
আর আমি?
স্বপ্নে আমি তোমার ঠোঁটের সেই গান।
হায়! এ তো শুধু নিছক কল্পনা।
হায়! তোমার গান হয়েই যদি বাস্তবে বেঁচে থাকতে পারতাম!
যাইহোক-
আশা করি, এই আঠারো নম্বর চিঠি খানা তোমার কাছে পৌঁছবে।
ইতি
তোমার ভবঘুরে কবি