অনেক ঝড় হয়তো বয়ে গেছে জীবন প্রদীপের আলোকে ঘিরে।
অনেক আশার পাতে হয়তো লাঞ্ছনার প্রত্যাঘাতে-
দুমরে মুচরে হৃদয় ভেঙেছে নয়ন চিঁরে।
প্রাণের পরতে লুকিয়ে থাকা ভালোবাসার নীড়ে হয়তো আছড়ে পড়েছে-
অপ্রাপ্তি প্রহরে প্রহরে।
রোদ ঝিলমিল তাপসে ছুটতে ছুটতে ক্লান্ত অবসন্ন দেহের ডানা-
বিশ্রাম চেয়েছে হয়তো সায়াহ্নে।
হয়তো পারেনি; মনের তপস্যা মিনতি করেছে,
সময় ভুলেনি; পাপড়ি মেলে চেয়েও হয়তো খুঁজে ফেরেনি অয়নে।
বিহঙ্গের উড়ে চলার প্রান্তে প্রান্তে মুক্ত বাতাসের খেলায়-
দমবন্ধের মতো প্রায়াধেক জীবন কেটে গেছে হয়তো নিছক অবগ্রহনে।
বারবার খুঁড়েছে সমাধি পারেনি কিছু তবুও করতে-
কেন হৃদয় জেনেছে চেয়ে দেখেছে দু’টি চোখ?
নির্বাক নিথর দেহ হয় তা যে মরণে।
দীর্ঘ চারিত জমাট লোনা কষ্ট কোষে কোষে প্রোথিত।
তাড়িত করে চৈত্রের দগ্ধ দুপুর,
ঢেউয়ে ধেয়ে আসা জলও আছড়ে পড়ে পাড় মেনে নেয় ভাঙ্গনেও-
এ যে সুখের মতো ব্যাথায় ক্ষয়ে যায় বহুদূর।
প্রকৃতি মেনে নিতে পারে যদি বর্ণে বর্ণে-
কে কোন সে তবে তারই বাহিরে?
প্রলয় বয়ে যায় দোর্দণ্ডে শেষে ধ্বংসের তীরে দুকূল ছাপিয়ে-
শীতল নব বাতাসের মণিতে আবারো শ্রমে উদ্যমে গড়ে উঠে-
আশ্রয়ে রাঙা আগামীর শুক্লা।
ধ্বংসযজ্ঞ; তোমার বিনাশী চোখে এতো প্রহসন!
এতো অমানবিকতা; এতো কালক্ষেপণ; ভয়ার্ত গ্রাসে রচা এমনই বিচরণ!
মন ভেঙ্গে যাওয়া; দু’চোখের মাঝে জেগে উঠা-
হেতুক স্বপ্ন ভঙ্গের না ছুঁতে পারা কল্পনা।
হারতে হারতে শেষ দেয়ালে ঠেকে যাওয়া-
দু’খের প্রদীপটাও নিভে যাওয়া।
সময়ের পিঠে চড়ে যেন বসে দেখে ফেলা ঘূর্ণিপাকে থাকা পৃথিবীটাকে।
তারপর...............
শেষ থেকে শুরু-
নতুন অত্যুজ্জ্বল অতুলনীয় অভিপ্রায়ে তরঙ্গ ভেজা দু’টি পায়ে-
কে যেন মলয়ে জলের নূপুর জড়িয়ে দেয়।
কাঁদতে কাঁদতে অধীর চোখের কোণ বেয়ে আর জল পড়ে না।
সেখানে সচেতনে পথ চলে নির্লজ্জ অসময়কে হারিয়ে-
সুমনার ভিড়ে নিজেকে সমর্পণ করা।
দীর্ঘ মৃতপ্রায় মুহূর্তগুলোকে জোড়া লাগিয়ে সে সময়টুকুকে-
হাসির আবিরে রাঙিয়ে দেয়া।
অমানুষেরও মানুষ হতে চাওয়া।
গল্পের শেষ আছে; পঙক্তির শেষ নেই যতোদিন নিঃশ্বাসে মানস ভাসে।
স্বপ্ন আকাশ ছোঁয়া সবার যেমন ইচ্ছে বেঁচে থাকা প্রশ্বাসে।