রবীন্দ্রনাথ এবং হাফিজের আধ্যাত্মিকতার মধ্যে সুস্পষ্ট পার্থক্য লক্ষ্য করেছি। যেমন: রবীন্দ্রনাথের গানগুলো অদৃশ্য এক সত্তাকে লক্ষ্য করে গাওয়া, কিন্তু হাফিজের গজলগুলো দৃশ্যমান কাউকে।হাফিজের গানগুলো এমনভাবে লেখা যেন সে আপনার সমুখে বসে আছে, আপনাকে সুরা ঢেলে দিচ্ছে, কিন্তু রবীন্দ্রনাথের নাথ বাস করে দূরে যাকে কেউ কখনো দেখে নি, ছোয় নি।হাফিজ তার আধ্যাত্মিকতায় একটি সুন্দরী নারীর দেহ-অবয়ব সৃষ্টি করেছে এবং এই নারী সকলের চেনা: তার চুল গভীর কালো যেখান থেকে মেশকের সুবাস ভেসে আছে,তার ঠোট দু'টি সুরার মতো মিষ্ট ও লাল, তার  চোখ টানা টানা। এবং এমন দেহ অবয়ব সৃষ্টি করেছে কারণ হাফিজ তার প্রভুকে দেখেছে একজন প্রেমিকের চোখে;তাদের দু'জনার সম্পর্ক হচ্ছে প্রণয়ের।কিন্তু রবীন্দ্রনাথের ব্যাপারটা ভিন্ন। তার নাথের সাথে তার সম্পর্ক হচ্ছে প্রভু ও ভৃত্যের - চরণতলে লুটিয়ে পড়া,ক্ষমা করো নাথ ইত্যাদির মধ্যে মূলত ভালোবাসার চেয়ে শ্রদ্ধাই প্রকাশ পেয়েছে বেশী। আর তাই রবীন্দ্রনাথ সম্ভবত কখনো  চোখ তুলে তাকায়নি তার প্রভুর দিকে;সে থাকে দূরে দূরে, কথা কয় বার্তার মাধ্যমে। ব্যাপারটা বড়ই আশ্চর্যের যে রবীন্দ্রনাথ একজন হিন্দু মানবাকৃতির দেবীর পূজা করতো। অপরদিকে হাফিজ একজন মুসলিম যাদের আল্লাহর আকার-আকৃতি এখনো অমিমাংসিত।অথচ তারা দু'জন ঈশ্বরের স্বরূপ ব্যাপারে সম্পূর্ণ স্ববিরোধী দৃষ্টিভঙ্গির পরিচয় দিয়েছে। সে যাই হোক।মূলকথা এই যে,
রবীন্দ্রনাথের গান হচ্ছে দেহ-শূন্য আত্মা। তাই তার গানগুলো বিশুদ্ধ, নিষ্কলঙ্ক কিন্তু মরহুম শ্রদ্ধেয়। আর হাফিজের গজলগুলো রসালো,লোভনীয় কিন্তু মাতাল নিন্দনীয়।