সুন্দরের প্রতি মানুষের আকর্ষণ তাঁর স্বভাবজাত।যেমন মক্ষিকা ছুটে চলে মধুর লোভে । তেমনই সৌন্দর্য পিয়াসী মানুষ সৌন্দর্যের টানে ছুটে যায় তুষারাবৃত পাহাড়ে,সবুজ বনানী ঘেরা জঙ্গলে,সাগরের ঢেউয়ে খোঁজে জীবনের ওঠাপড়া । হারিয়ে যায় উষর মরুতে।পুষ্প কাননে অথবা কমলাকরের সামনে দাঁড়ালে ভুলে যায় গুরুত্বপূর্ণ কাজের কথা।


কিন্তু সৌন্দর্য কি ধরাছোঁয়া যায় ? মাঝ রাতে যখন নক্ষত্রপতি প্লাবিত করে সমগ্র আকাশ ও ভূলোক,তখন মনে হয় পেড়ে আনি রুপোর থালাটি মহাশূন্য থেকে হাতের মুঠোয় । কিন্তু কি আশ্চর্য সম্ভব তো হয়ই না বরং থেকে যায় কল্পনার কোনও দূরতম রাজ্যে! সৃষ্টি করে মায়াজাল।এই আরও দূরে সরে যাওয়ায় মনে হয় চাঁদ আরও আরও সুন্দর,শ্রেষ্ঠ রূপসী । অবশ্য চাঁদ নারী নন সবার মামা।


তাই এই নাগালে না পাওয়া চাঁদের মায়াপাশ কাটিয়ে সৌন্দর্য পিয়াসী প্রিয় কবি রীনা বিশ্বাস-হাসি(মৈত্রেয়ী কবি) নেমে আসেন বাস্তবের প্রকাশ্য রাস্তায় । সেখানে তিনি পেয়ে যান আর এক চাঁদের সন্ধান । সে পূর্ণ শশীর সারা মুখে লেগে থাকে অমলিন হাসি,নিষ্পাপ ও সারল্যে ভরা। কবি পারেন না তা এড়িয়ে যেতে ।বরং জড়িয়ে যান। কে সেই চাঁদ? ছোট্ট মানব শিশুই এখানে বাস্তবের চাঁদ । যে খিলখিল হাসিতে ভরিয়ে দেয় কবির ভূবন। কবি বলেন যতোই কাব্য লিখি না কেন শিশুর অমলিন হাসির কাছে সব কাব্য ম্লান ।তাই তিনি বাস্তব চাঁদকে ভালো না বেসে থাকতে পারে না।


দুই স্তবকের ছোট্ট কবিতা । কিন্তু কবিতার ব্যাপ্তি আকাশের মতো বিশাল । অমলিন সৌন্দর্যের আবেশে মোড়া নান্দনিক বোধের পরিচায়ক । নভোনীলে তাকিয়ে যখন ছুঁতে চেয়েও ছুঁতে পারেন না অপরূপ চাঁদ মামাকে তখনই কবি উপলব্ধি করেন অমোঘ সত্য এবং অনিবার্যতা।হে সুন্দর তুমি তো ধরাছোঁয়ার বাইরে । এই উপলব্ধিই কাব্যটিকে সৌন্দর্যের উৎকর্ষে পৌঁছে দেয়।এবং কবি বাস্তবের মাটিতে পা দিয়ে সন্ধান দেন আর এক সৌন্দর্যের । যেখান থেকে ঝরে পড়ছে শিশুর প্রতি কবির ভালোবাসা । যা কবিতাটিতে আর একবার উৎকর্ষের চরম সীমায় পৌঁছে দেয়।


যা সত্য তাই সুন্দর, সৌন্দর্য নামক বিমূর্ত ধারণাকে কবি কল্পনার রঙে রাঙিয়ে আঁকলেন আমাদের মানসপটে আর এক সৌন্দর্য । এখানেই কবির সাফল্য ।


এমন সুন্দর,নান্দনিক কবিতা উপহার দেওয়ার জন্যে প্রিয় কবিকে অনেক শুভেচ্ছা ও ভালোবাসা জানাই । আশা রাখি আগামীতে কবির কলমে এমন সুন্দর সুন্দর কাব্য সৃষ্টি হবে।এবং আমরা কাব্য সুধা আকণ্ঠ পানে তৃপ্ত হবো।