কী রকম একপেশে জীবন যাপন করছি,
কিছু অগ্নি কিছু বারুদ, চোখেমুখে কেমন বাস্তুহারা
সন্ন্যাস, এলোচুলে ব্যর্থ বাউলিয়ানা, কী রকম
এই একঘেয়ে জীবন চলছে আমার-
দেখে যেয়ো একবার।


বিশ্বাস করতে পারবে না-
উৎকট সব যান্ত্রিকতার জাঁতাকলে পিষ্ট হয়ে
আমিও ঠিক কী রকম এক যন্ত্র হয়ে গেছি যেন,
এমন অপদার্থ যন্ত্র বিশ্ব আগে দেখেনি কখনো!
আমার এখন ভাত খেতেও তীব্র অনীহা জাগে!
ঘুমাতে গেলে চোখ লুকোচুরি আর কানামাছিতে মত্ত
হয়ে যায়, স্লিপিং পিল খুঁজতে যেয়ে কবিতার খাতা
খুঁজে পাই, কবিতার খাতা হাতড়ালে টেলিভিশনটা
ভীষণ কেঁদে ওঠে, রিমোট হাতে নিয়ে আধুনিক
হওয়ার ব্যর্থ চেষ্টা চালাতেই ডেকে ওঠে বারান্দায়
কবুতর, ওটাকে হাতে নিয়ে এদিক ওদিক করি,
চুমু চুমুতে বিরক্ত করে ফেলি, ডানাগুলো হাতিয়ে
হাতিয়ে হিংসে করি, তারপর আর ভালো লাগে না।
মনে হয় আমার ডানা থাকলেও অতৃপ্তই থেকে যেতাম
হয়ত! মাঝরাতে গল্প-কবিতা-উপন্যাস হাতরে ফিরি-
সবই একপ্রকার জ্বালাতন মনে হয়, সোশ্যাল মিডিয়ায়
সস্তা মোটিভেশন ঘেঁটে বেড়াই, কাজে দেয় না কোন।
কোন এক কালে ঘুম চেপে ধরলে যেই না একটু প্রশান্তি
খুঁজে পাই- সূর্যের অহিতকর ঝলকানিটা ভীষণ শত্রু হয়ে দাড়ায়।
তারপর এক ভাঙাচোরা ছেঁড়াফাটা উদাস দিন, প্রতিদিনের
মতই রংচটা,কিম্ভূতকিমাকার, রসকষহীন।


এমনই অদ্ভুত এক জীবন যাপন করছি আমি,
আমারই অচেনা বড়। অথচ কিনা এ জীবনই চলে
আসছে, চলছে এবং চলছেই।


এমনই প্রতিদিন উদাস সুবাস রন্ধ্রে রন্ধ্রে নিয়ে হেঁটে বেড়াই।
স্বপ্নে আগুন জ্বেলে অস্তিত্বের নেশা শিরায় শিরায় আর
ধমনীতে নিয়ে প্রাণ প্রদীপ জ্বালিয়ে রাখি।
একবার দেখে যেয়ো-
ঠিক কী রকম অস্তিত্বহীন জীবন যাপন করছি আমি।


মে ২৬, ২০২০