তোমারও কি মনে পড়ে?
এই তো, সেদিনের কথা-
দুজনে পায়ে পায়ে হেঁটেছিলাম কতটা পথ!
নিবিড় মৌনতায় পাশাপাশি সলজ্জ সেই পথচলা!
নিস্তব্ধতা ভেঙে কী যেন জানতে চেয়েছিলে, আজ মনে নেই-
বলিনি, বলা হয়ে উঠেনি, কী অভিমানে যেন চুপসে গিয়েছিলাম আমি।
ইতস্তত স্বরে বলেছিলাম, ভালো আছো তো!
গুরুত্বহীন প্রশ্ন জেনে উপেক্ষা করেছিলে, উত্তর দাওনি তুমি।
মনে আছে? মনে পড়ে কি তোমারও?
পাশাপাশি, খুব কাছাকাছি দুজন দুজনের-
অথচ মাইল অবধি মাইল দূরত্ব রচনা করে চলেছিলাম
প্রত্যেকটি নিশ্চুপ পদচারণায়, দুজনেই।
আকাশ ভাঙা বৃষ্টি ভিজিয়েছিল দুজনকে
একাকার হয়ে গিয়েছিলাম রিমঝিম আচ্ছন্নতায়।
পাশাপাশি, খুব কাছাকাছি, অথচ কতই না সতর্ক পদচারণা
একটা যৎসামান্য ছোঁওয়াও কী লাগতে পারত না!
লাগতে দেইনি আমি, লাগতে দাওনি তুমি।
পাশাপাশি, খুব কাছাকাছি, সামান্য সময় মাত্র।
অথচ কতকাল যেন হেঁটেছিলাম দুজনে একসাথে, এমনই মৌনতায়।
আজ মনে নেই, মনে নেই ঠিক কোথায় যেন পথের শেষ এসেছিলো।
বিদায় বেলায়, আরও একবার বোধহয় তাকিয়েছিলে প্রশ্নাতুর চোখে-
নাহ -বলিনি, বলা হয়ে উঠেনি, কেন -জানিনি, জানতে পারিনি।
ম্লান মুখে শেষবারের মত বলেছিলাম- ভালো থেকো তবে!
শেষ প্রশ্নের শেষ উত্তরটা বোধহয় রিমঝিম সুরেই হারিয়ে গিয়েছিল।
তোমার প্রস্থানে আকাশ কেঁদেছিল আরও ভয়ানক রূপে।
তা দেখা হয়ে উঠেনি তোমার। জানা হয়ে উঠেনি তোমার-
কেন বলিনি, কেন বলতে পারিনি, অঝোর শ্রাবণ কেন কেঁদেছিল সেদিন,
কেন আমি দাঁড়িয়েছিলাম একাকী আকাশের কান্না মাথায় নিয়ে।
পিছু ফিরে দেখলেও হয়ত জানতে না, বুঝতে না।
তোমার মনে নেই, মনে পড়ে না, জানি।
মনে থাকলে- পাশাপাশি, খুব কাছাকাছি দুটো হৃদয় এভাবে শায়িত হত না।


আগস্ট ০৪, ২০১৯