ভয়ানক আতঙ্কিত হয়ে যাই-
যখন জুলাইয়ের শেষ রাতে উলঙ্গ অশ্লীল পায়ে
একটু একটু করে এগিয়ে আসে আগস্ট, যেমন দলছুট হরিণীর
সন্নিকটে রক্ত-লোলুপ দৃষ্টি নিয়ে নিঃশব্দে একটু একটু করে ধাবিত
হয় অব্যর্থ-হিংস্র শ্বাপদ।
এক মহাবিশ্ব সমান কালোমেঘ জমা হয় সুবর্ণ আকাশে,
রক্ত-ঋণে জর্জরিত লাল সূর্য সুতীব্র গ্লানির ছায়াতলে ঢেকে যায়।
এমনকি একটা প্রজাপতির ডানাও কলঙ্কের কালো দাগে ছেয়ে যায়-
আগস্টের প্রত্যেক ভয়ঙ্কর দিন-রাতের রক্তাভ আগমনের সাড়া পেয়ে।
এই আগস্টে ছাড়া পায় সমস্ত বিষাদ,
তুলোর মত আকাশে-বাতাসে উড়ে বেড়ায় বিষাদ,
এখানে-ওখানে, যত্রতত্র, সবখানে- বিষাদ, শুধু বিষাদ।
বিষের তিক্ততা মাথা নত করে লজ্জায়;
কান্না, বেদনা, হাহাকার আর দীর্ঘশ্বাসের কাছে পরাজিত হয় পৃথিবীর
সমস্ত বেদনা।
দলে দলে হিংস্র পশুর উন্মত্ত তাণ্ডব ঘিরে ফেলে চরাচর-
লোকালয় ভেঙে পড়ে করুণ শঙ্কা আর নিদারুণ ত্রাসে!
গ্লানিমায়, কলঙ্কে, বিষাদে, অশ্রুতে আগস্টে কোন ফুলও ফুটতে চায় না-
অদৃশ্য আঁধার শামিয়ানার মত ঢেকে রাখে আমাদের মাথা, আমাদের জীবন-
অথবা কোন সুশৃঙ্খল ভবিষ্যৎ।
যদি পারতাম ভেঙে ফেলতে আগস্টের এই নির্মম নিগড়!
পারতাম যদি মুছে ফেলতে এই আগস্ট, এই ৩১ দিন- কালোমেঘ জড়ানো
সন্ত্রাসে ভরা বিষাক্ত সব দিন-রাত!
হয়ত মুছে যেত সব কলঙ্ক-
হয়ত ঢাকতে পারতাম সুতীব্র গ্লানিমা!


১৪ আগস্ট, ২০২০