মশা; তুই’তো কামড়াবি-ই!
আমিওতো মানুষী মশা হ’য়ে
জীবনের তাগিদে পৃথিবীকে কামড়াই।


তোর আর আমার পার্থক্যের কাঠগড়ায়
প্রাণী বিন্যাসে একটা বাস্তবতা খুঁজে পাই ।


তুই মশা পৃথিবীতে এসে, প্রাণীতে মিশে
রক্ত চুষে খাস,
আর আমি মানুষ পৃথিবীতে মিশে, মানুষী বিদ্বেষে
রক্তাক্ত ঘাস।


পৃথিবী রক্ত চায় না-
তবুও এই মানুষী মশা
মানুষের রক্ত চুষে খায়,
দেহ চিরে রক্ত ঝড়ায়,
রক্তের জলে ধূলা-বালি কণা
রক্তাক্ত-কর্দমাক্ত  মাটি হ’য়ে
ঘাস হয়ে মিশে যায়।


রক্তাক্ত পৃথিবীর গন্ধ পাই
আমি রক্তাক্ত পৃথিবীর গন্ধ পাই!


অনীতির গ্রাসে মানুষের শ্বাসে
পৃথিবীর বাতাসে, মাটিতে ঘাসে,
পৃথিবীতে আজ রক্তের গন্ধ পাই,
পৃথিবী রক্ত চুষে ঘুরে বেড়ায়।


সাধারন মানুষ পৃথিবীর বিছানায়
শান্তিতে ঘুমাতে চায়, বাঁচতে চায়,
কিন্তু, পৃথিবীকে কামড়ে ধরে জীবনের দায়
পৃথিবীতে মিশে রক্ত দিয়ে যায়,
পৃথিবী প্রকৃতির অজুহাতে রয়েছে নিরবতায়
তুই মশার মত পৃথিবীটাও আমার রক্ত চুষে খায়।
এই মোহ-মায়ায়, পৃথিবীর প্রান্তরে
মানুষী মশা আমার জীবনটাই বৃথায়।


যবে পৃথিবীর এই রক্তাক্ত মাটি
রক্তাক্ত ঘাস, পৃথিবীর আকাশ
জল হ’য়ে মিশে যাবে;
আলো বাতাস পানীয় মানুষী মশা
কূল হারায়ে ধসে যাবে,
থাকবেনা কোন আর রক্তমাখা গন্ধ
থাকবেনা কোন আর রক্তঝরা উল্লাস!


তুই মশা পৃথিবীতে এসে, প্রাণীতে মিশে
রক্ত চুষে খাস,
আর আমি মানুষ পৃথিবীতে মিশে, মানুষী বিদ্বেষে
রক্তাক্ত ঘাস।