আজি হতে শতবর্ষ পূর্বের এক কাহিনী,
তখন আমার বয়স ছিল চল্লিশের কোঠায়...
আজ আমি বাস করি এক পড়ো ভাঙা বাড়িতে,
যে সব প্রতিবেশী ছিল তারা গত হয়েছে সেই কবে।
শুধু কতগুলো কাক বাড়িটিতে
প্রাণের অস্তিত্ব জাহির করছিল।


খুব মনে পড়ে, বাবু আমার দশে পা দিল।
বাবু বলতে আমার মেয়েকে বাবু ডাকতাম,
সারা বাড়ি আলোয় আলোকিত হলো,
আনন্দ চুঁইয়ে পড়লো মনের প্রতি কোণে!
তার বন্ধু বান্ধব নিয়ে চাঁদের হাট বসেছিল সেদিন বাড়িতে...
তাকে আদর করে বলেছিলাম, আজ তোর কি চাই বল?
ও বললো তবে আমায় নাও কোলে...
বললাম দুষ্টু, তোকে কেমনে নেব কোলে, তুইতো বড়...
মণি মাণিক্য বসানো টুকরো টুকরো হাজারো কথা,
আজো মলিন বাড়িটিতে প্রতিধ্বনিত করছে!
আমি কান পেতে রই...
আজো দেওয়ালগুলোতে ওর ছোট্ট ছোট্ট হাতের ছাপ!
হোলির পিচকারীর রঙ, ভাঙা প্রাচীরে আজো উঁকি দেয়!
তার হাতের আঁকা পেইণ্টিংগুলো দেওয়ালে যেন চির ঘুমে শায়িত!
অতৃপ্ত মনের স্মৃতির গা বেয়ে কাঁচা রক্ত অনবরতো ঝরছে আজও!


হ্যাঁ,আমি অতৃপ্ত,আমার বুকের ক্ষত শুকায়নি শত বছর পরেও...
শত বছর পরেও আমার কোটোরহীন চোখ ঘুরে বেড়ায়
এই শহরের প্রতিটি Caffèতে!
তারই প্রিয় বসার জায়গাগুলোয় আজ নতুন কোনো অতিথি...
তবু আমি তাকে খুঁজি প্রতি নিয়ত!
ওই sizzling brownies এর প্লেট তারই অপেক্ষায়...
ধোঁয়া উঠছে...
প্রায়ই Domino’s  গিয়ে বসতাম মুখোমুখি আমরা,
ও বলতো "You are naughty mom,
why you take extra tissue paper?"


আমি বলতাম তোর ওই নটি কথাটা শুনবার জন্য মা!
শুনে ও খিলখিল করে হাসতো,
আর আমি প্রাণ ভরে ওকে দেখতাম!
টুকরো টুকরো তার হাজার কথা
আমি দেহহীন বুকটায় বেঁধে ঘুরি আজও...
তাকে খুঁজি  চেনা পথে পথে!


সেদিন সাইক্লোনে আমার সংসার যখন তছনছ হলো,
যাকে আমি জন্মের পর থেকে
কোনদিন চোখের আড়াল করিনি,
সেই তাকে আমি হারালাম ভয়ঙ্কর রাতে...
তারপর প্রতি রাত আমি বিনিদ্র!
প্রতিটি  দিবস প্রতীক্ষায় রত...
যদি একশো বছর আগের কিছুটা কাল,
আমার সামনে এসে দাঁড়ায়!
তবে  তাকে কোন ফুলে সাজাবো?
কোন দীপে করবো বরণ…
তাইতো আমি একা পথ চেয়ে!
জেগে আছি শত বছর,
জাগবো আরো শত শত বছর!!