বই -১


শতাব্দী প্রাচীন একটা ধারণা অস্ত গেল । হাওয়ায় হাওয়ায় কাশের দোলা , আকাশে লাল সাদা নীল মেঘের কোলাকুলি , চুলোচুলি । পৃথিবী মুখ দেখছে জলের আয়নায় । যে ভালোবাসা অক্ষয় ছিল এত দিন ধরে , আজ সমস্তটাই ক্ষয় হল । ইতি টানলো সেদিনের হাসি মুখো দুজন । আজ তাদের একটাই পরিচয় অপরিচিত । খুব অবাক লাগলেও এমনটাও সত্যি হয় , খুব কষ্ট হলেও এমনটাও মেনে নিতে হয় , কারুর আনন্দের স্বার্থে । তোমার ক্ষতি চাই নি কোনদিন , কোনদিন চাই নি তুমি কষ্ট পাও । আজও তার হেরফের হবে না একফোঁটাও । যেখানে থেকো , যার সাথেই থেকো , ভালো থেকো । আমি , যেন তোমার কষ্টগুলো ভোগ করি চিরটাকাল ।
লড়াই থেমে যেতে দিও না কোনদিন । একবারও বলো না তুমি হেরে গেছো । হেরে যাওয়া তোমার মুখে মানিয়ে নিতে পারি নি কোনদিন , সোজা কথায় হারতে তোমায় সইতে পারবো না একদিন । আমার মাথায় মুকুট না থাকুক , বুড়ো হয়ে টাক পড়ুক অনেকটা ক্ষেত্র জুড়ে । তুমি কিন্তু নিজেকে একই রেখো , সুন্দরী ওই মুখটাকে কোনদিন হারিয়ে যেতে দিও না সময়ের সাথে ।
ভালোবাসা অপরাধ কি না জানি না কিন্তু মন লাগানো অনুভূতি খুবই বড় পাপ । আমি সেই পাপে পাপি , পারলে , আমায় ক্ষমা করো , ঈশ্বরী । আসলে ক্ষমা চাইতে গেলেও তো গুন থাকতে হয় , সমাজ তো তাই শেখাচ্ছে আমায় , আর আমার মধ্যে গুন বলে তো কিছু নেই , তাই পাপটুকু বেড়ে যেতে দাও ।
আমার হৃদয়ের যে শব্দ তা ইসিজি যন্ত্রে ধরা পড়বে না । লিভারের ক্ষিদে কমে গেলেও , জন্ডিস বা হেপাটাইটিস হয়েছে বলে কেউ মানবে না । আমাকে পাগল বলবে হয়তো এরপর সবাই । আসলে পাগলামি তো বুঝি না । আমি তোমায় চেয়েছিলাম , ঈশ্বরী , শরীর টাকে নয় ; তোমার হৃদয়টাকে । প্রশ্ন করেছিলাম এই ভূলোক কে , আমি কি আমার ঈশ্বরীর যোগ্য নই । তারা হাসলো , তারপর হাওয়ায় ভেসে চলে গেল । আমি দাঁড়িয়ে দেখলাম সময়ের সাত ঘোড়ার রথটাকে , আমার সামনে দিয়ে চলে গেল , কোন অজানা ঠিকানায় ।
কথায় আছে , মন থেকে কিছু চাইলে , ঈশ্বর তা ফিরিয়ে দেয় যাচকের হেফাজতে । কিন্তু চাহিদা যেখানে স্বয়ং ঈশ্বরী সেখানে ঈশ্বর কি করে ছেড়ে দেবে বলো , মর্তের এমন অপরূপা সুন্দরী । আবার বলছি , এ সৌন্দর্য হৃদয়ের , মনের ---
সত্যি বলবো ,
আমি এই সুন্দরের প্রেমে পাগল হয়েছি । ক্ষমা করো , ঈশ্বরীর প্রেমে জীবন পেয়েছি । এখন একটাই স্বপ্ন , তাকে নিয়ে এ বিশ্ব মুঠোয় করে নেবো । শতাব্দী প্রাচীন একটা ধারণা অস্ত গেল যেদিন , সেদিন এই স্বপ্ন অথবা স্বপ্নে পুষে রাখা ইচ্ছায় কতদূর বাঁচা যায় -- সে শুধু ঈশ্বরী জানে ।
কলমের ডগায় আজ তার নাম এঁকে দিলাম । একটা গোটা কবিতা তার জন্য লিখে গেলাম । আমি চলে যাবো যেদিন , সেদিন তাকে বোলো মুখবন্ধখানা খুলে দেখতে একবার । কয়েক ফোঁটা জল রেখে যাবো তার জন্য ----


" আমায় আর প্রশ্ন করে না নীল ধ্রুবতারা
তারা জানে আমার ইচ্ছাগুলো আজ পূর্ণ দিশাহারা
মদের গেলাসের নীল আভা নতুন সূর্যের মত
আমাকে হাতছানি দেয়
রোজ রাতে আড্ডায় বসি তারই সাথে জুত করে
ভ্রমরেরা যে মধু চুরি করেছিল তোমার রেনু থেকে
তার কোয়েক ফোঁটা মিশে গেছে এখানেও
আমাকে স্বস্তি দিতে , স্বান্তনা দিতে
বেঁচে রয়েছি আজও , জীবনের মত সবুজ
কিন্তু পর্ণমোচি এই শরীরে আয়ু ঝরে পড়ে গেছে
অনেককটাই ।
আমি মদের গেলাস ঠোঁটে জড়িয়ে নিলাম
এই গেলাসে তোমার ছোঁয়া আছে
তোমার কোলে আমার মরন
আর মরনে আমার কবিতা , তোমাদের কবিতা ।
পূর্ণিমার চাঁদ আম গাছের ঝাড়ে উঁকি মারছে
আজ নীলাভ নেশায় সেও উন্মত্ত
আর যে শান্ত বিহঙ্গ সুর উড়ে গেল
বাড়ির দিকে -- তোমার
যেখানে সানাইয়ের আনন্দ রস ঝরে পড়ছে
যেখানে ভিড় করেছে অপ্রেমীকের পঙ্গপাল
সেখানে ; একটু আশীর্বাদ নিয়ে
নীল গেলাস খালি হয়ে গেছে - এখন মাঝরাত্রি
মন্দিরে বেজে ওঠে চার্চের ঘন্টায় আজানের সুর
আমি পাগল হয়ে যাচ্ছি ধীরে ধীরে
হাত পা অসার , অসহ্য যন্ত্রনা বুকের বাম নিলয়ে
ওপরে নীল আকাশ , নীচে নীল গেলাস , নীল বৃষ্টি ,
নীল পাখির কলরব
নিজেকে নীলকণ্ঠ মনে হচ্ছে আমার "......


শিউলি মাখা সকালের আকাশটা কেমন মুখ ভার করে থাকে । বৃষ্টি আসে দু গাল বেয়ে । মনের ভেতর জমে থাকা অভিমানগুলো বেড়িয়ে আসে হৃদয় থেকে এক এক করে । খুব মনে পড়ে তোমায় । মনে হয় , কতদিন দেখিনি তাকে যার নম্বর এক সময়ে লেখা থাকতো মুঠোফোনে ওপরের সারি জুড়ে । আজও মনে হয় তোমার প্রতিশ্রুতিগুলো । কিকরে সব ভুলে গেলে একদিন । কিকরে ভুলে থাকা যায় । আসলে ভোলো নি কিছুই , যেটা চলছে সেটা শুধুমাত্র একটা অভিনয় ।
মাঝরাতের গাড়িতে পেরিয়ে আসি গন্তব্য । এ গন্তব্য আমার হৃদয়ে গাঁথা আছে কত যুগ ধরে । মনে হল , একবার সমস্ত শিকল ছিড়ে নেমে পড়ি তোমার খোঁজে । তারপর একছুটে ছুটে যাবো তোমাকে ছুঁতে । তুমি তখন অনেক বড় বাড়িতে থাকো । প্রচুর টাকা , রত্ন দিয়ে মোড়া তোমার গোটা শরীর । আমি তো চিরকাল তেমনই , যেমন আছি এখনই । ওই উচ্চতা আমার নয় । আমি সাধারণের মাঝে মিশে থাকবো , নিচ থেকে তোমায় দেখে যাবো ততদিন , যতদিন ঠিকানা আমার এই পৃথিবী ।
তারপর চাঁদ হবো । পূর্ণিমার আলো হবো । অমাবস্যার অন্ধকারেও আমার ছোয়া পাবে প্রকৃতি । সেদিন আমি স্বার্থক হবো । সেদিন আমি সম্পূর্ণ হবো । রাতের চাদরে ঢাকা প্রতিবার স্পর্শ করবো তোমায় । তুমি ঈশ্বরী সেদিন স্বাধীন দেখে প্রতিরাতে ঘুমিয়ে যাবো মেঘের বিছানায় ।
প্রতিরাতের তুমি আমার রঙে হবে রঙিন । একবার সুযোগ পেলে পড়ে দেখো ভিজে চোখের শুকনো পাতাগুলো আমার ----
" রাত জাগা দুটো চোখে আজ কবিতা আমার
মাদলের গম্ভীর কন্ঠস্বর , আর আম কাঁঠালের বন
রুক্ষ্ম মাটির ছৌ ছন্দে নেচে ওঠা মাতাল দুটো পা ।
আজ আমি ভাল নেই , কিন্তু এসব বুঝতে দেবো কেন ?
আজ ঘুম নেই চোখে , কিন্তু তাই বলে সামনে দাঁড়িয়ে কাঁদবো কেন ?
সবাই তো ভালো আছে
আমি না হয় ভালো থাকলাম অভিনয়ে , তাতে কি ?
রাত জাগা দুটো চোখে আজ নেশা আমার
মহুয়ার নেশা , দেশি বাংলার নেশা
আমি হেমলক গিলেছি , কারন হেমলকে মৃত্যু আছে
আর মৃত্যুতে আছে পুনর্জন্মের আস্বাদ
তোমার প্রেমিক হয়ে এই গ্রামে গ্রামে ফেরি করবো তখন
নানা রঙের রাত জাগা কবিতা ।


আমি ভালো নেই , সত্যি ।
সেদিন নিশ্চই ভাল থাকবো , তিন সত্যি "......


জীবনে ইচ্ছে অনেক হয় । তোকে ঘিরেই ইচ্ছে আমার । মন ভারাক্রান্ত হলে সেই সব ইচ্ছের পৃথিবীতে আড্ডা মেরে আসি । আসলে ইচ্ছে গুলো যে জানি কোনদিনই সম্পূর্ণ নয় । আমার আদরবাসার জাদুঘরে উঁকি মেরে আসি রোজ । ইচ্ছে গুলো একবার মুখ ফিরিয়ে তাকিয়ে আবার ঈশ্বরীর দিকে মুখ ঘুরিয়ে নেয় ।
আজ খুব ভালো লাগে ঈশ্বরীর সাথে কাটানো দিনগুলো । হাতে হাত রেখে কফি হাউস , ম্যাডক্স স্কোয়ার অথবা নন্দন । খুব ভালো লাগে দুজনে ভিজবো জ্যোৎস্নার বৃষ্টিতে আর তারপর ...
হঠাৎ করে সব কেমন বদলে যায় । দিনের প্রথম চায়ে আমেজ থাকে না । গোলাপের লাল পাপড়িতে আজ স্বপ্ন দাঁড়ায় না । পদ্ম হয়ে জলের মাঝখানে একলা দাঁড়িয়ে থাকি । এতদিন নিজেরা ছিলাম আর এখন বাড়ির লোকে স্বপ্নের দাম দেয় না ।
কাঁটা তার আমাদের মধ্যে দূরত্ব দিয়ে গেছে । আজ চলো ঈশ্বরী ওই সীমা তুলে দিই । তোমার বুকে আমার মাথা , আর আমার কাঁধে তোমার দীর্ঘ নিশ্বাস । আমি অনেক দূরে চলে যাবো । তার আগে দুখু মিঞা হয়ে বাঁচতে চাই । প্রেম আজ মনে হয় আকাশের কাভার । সত্যি হলে শরীর চিনবে , প্রেম হবে না ।
ঘড়ির কাঁটায় এলার্ম বেজে ওঠে । সূর্যের হিলিয়াম বাতিটা নিভে আসছে । তারই ফাঁকে চারটি প্রহর শুধু ;
ঈশ্বরী শীঘ্র করো ইচ্ছাগুলো ঘুরে দেখে নি ।
কাগজ খুলে বসেছিলাম । যাওয়ার আগে বলেছিলাম কলমকে , আমার স্বপ্ন যে তুমি আর তাই
তোমাকেই ঘিরে সাজিয়ে রেখেছি কিছু অক্ষর সজ্জ্যা , মধুচন্দ্রিমার জন্য । আমি মরে যাওয়ার পর সে সব তোমাকেই রেখে দিতে হবে গুছিয়ে । তখন পড়ে দেখো সুতো দিয়ে ঢাকা একটি তারার না বলা কথা । এখন চলো ঘুরতে যাই :------


" তোমায় নিয়ে ঘুরতে যাবো একদিন
যেদিন বৃষ্টি হবে মুষলধারে
গাছগুলো হাত নেড়ে নেড়ে হাঁক পাড়বে
ওরে , বাছারা , এদিকে এসো
আমার বুকে মুখটা গুঁজে বসো ।
আমি ঘুরতে যাবো একদিন
তোমার সাথে , মৃত্যু রাতে
কুয়াশা উপত্যকায় ....
ভয় পাবে না কিন্তু একদম
আমি সঙ্গে আছি তোমার , বাবু , সবসময়
আর আছে এই জঙ্গল , পাহাড় , নদ , নদী
এরা সবাই আপনজন
তবু তোমার সাথে , শুধু তোমার হাতে জীবন ভুলে
ঘুরতে যাবো , একটা রূপলী উপত্যকায় ।
একদিন ঘুরতে যাবো , তোমাকে নিয়ে
অনেক দূরে
ওই নীল আকাশের গাঁয়ে
তারপর পড়ন্ত বিকেলে , রোদ্দুর চুরি করে আনবো
তোমায় দেবো -- একটা লাল আকাশ , লাল সিঁথি ,
লাল ঘোমটার মোড়কে ।
আমার ভালোবাসা এমনই । সকলের থেকে বড্ড আলাদা ।
সবাই ভালোবাসা মুখে বলে । আমি পালন করি এক মনে --
যদি তুমি চাও "......


উৎসব মানেই পাগলামি , উৎসব মানেই হৃদয়ের না বলা অনেক কথা যা বাক নয় ক্রিয়ার মধ্যে দিয়ে জ্বলে ওঠে আকাশে বাতাসে । তোমার আমার গল্পটা আজ না হয় থাক । তারচেয়ে চল না কৈলাসের পথে , মায়ের গাড়ি ছাড়লো বলে । তুমি আমার কাছে অমূল্য তাই ভয় পাই হারাতে , আমি জানি তুমিও তাই ভাবো আমাকে নিয়ে । কিন্তু দেখো সূর্যের ফিরে যাওয়ার সময় হল । পশ্চিম আকাশ লাল হয়েছে । জোনাকি হয়ে তোমার পাশে পাশে হেটে যাবো । নক্ষত্রদের সাথে বন্ধু পাতাবো , লিখবো , একটি তারার গোপন কথা ।
বাংলাদেশের মাঠে ঘাটে তোমার ছবি আঁকা হবে । মানুষের মুখে মুখে তোমার কবিতা পাঠ হবে । পৃথিবী চিনবে এক নতুন নক্ষত্র এ আকাশ গঙ্গার বুকে । তুমি সফল হও , তাতেই আমি সফল হবো অনেক ।
আমি স্বপ্ন দেখি না আর , স্বপ্নের জাল বুনি না আর , আমার স্বপ্ন এখন স্রেফ তুমি আর তোমার স্বপ্নে বাঁচি আমি । আমার নোয়া তোমার পাশে পাশে ভেসে যায় । আমি দুয়া ঠুকি প্রতিদিন । আমার রক্ত লিখে যায় তোমার সফলতা । ব্যর্থ চোখের জল শুকিয়ে মরে যায় পাতার ফাঁকে ।
ঈশ্বরী , আমি তোমার হতে ছাড়া আর চাই না কিছুই । আমি তোমাকে চাই । আমার মননে তোমার নাম বেজে ওঠে প্রতিদিন । আমার মরনে এটুকু করো , আমি যেন একবার তোমার দেখা পাই । আজ পুরুলিয়া আমার তোমার বুকে । আমি সেখানে আশ্রয় মাগি প্রতিদিন । আমাকে হত্যা করো ঈশ্বরী , তোমার নাম যেন মুছে ফেলো না অভিমানে কোনদিন ।
আমি যাবার আগে তোমার কথা বলি , আমার খাতাখানা খুলে দেখো  কবিতায় , জীবনে , মননে , মরনে ; অপরাজিত তোমার লীলা , আমার ভালোবাসা
কল্যানিয়া ঈশ্বরী -----


হয়ত এভাবেই তিলে তিলে শেষ হবে গল্পটা ,
ছিড়ে যাবে সব পাতা ।। হারিয়ে যাবে একটা জীবন
বেঁচে ছিল যা এতদিন তোরই অপেক্ষায় --
আজও থাকবে ছাইয়ের গাদায় , মনে কি তবু তোর
পড়বে না !! দুফোঁটা জলে ভেজা দুটো ফুল পড়ে আছে
ভালবাসা আমার কী সেদিনও প্রাণ পাবে না !!
জানি আমার আর কোন প্রয়োজন নেই  
ফুরিয়ে গেছে সবকটাই , তাই তো ফিরে চলেছিস
অচেনা হয়ে যেতে , অন্য কোথাও
ফিরে তোকে কোনদিনও আর তো পাব না ।।
হ্যাঁ , পাতা ভরে ভরে তোরই নাম রাখা আছে ছড়িয়ে
দেখিস , কবিতার ডালে ডালে ফুল হয়েই থাকে যেন চিরকাল ।। তাতেই আসুক না হয় বসন্ত বারবার ।।
আমি তো কারুর যোগ্য নই রে : তাই প্রেম ধরা দেয় না কোনদিন ,
তুইও মানা করে দিবি এটাই তো স্বাভাবিক
তবু অপেক্ষায় ছিলাম , যদি বদল আসে কখনও ।।


কিছু নেই আর তুলে দেওয়ার মত আমার কাছে । যেটুকু ছিল কবেই দিয়েছি তোমায় । আমার কাছে আমি ছাড়া আর কিছুই নেই । বিশ্বাস আজ তলানিতে , জানিনা কোন ক্ষণে কোন সেই রাজকন্যে ফিরিয়ে দেবে সেটুকু আবার । ভালোবাসা আজ লুকিয়েছি পাথর হৃদয়ে আমার । জানিনা কোথায় সেই অচিনপুর আর কে কবে নিজের ভালোবাসায় জয় করে নেবে আমায় । রামের স্পর্শে অহল্যা শাপ মুক্ত হয়েছিল ত্রেতায় । কলিতে এবার আমার পালা আসবে কি না ভেবেই বসেছি অপেক্ষার তপস্যায় । আমি যোগ্যতায় হেরে গেছি বারবার । তার থেকেও অনেক অনেক বেশি হারিয়েছি কতজন কতবার ।
আমায় ক্ষমা করো । আমার কাছে আর কিছু নেই তোমায় দেবার মত । অসহায় এই শরীর নিয়ে দুয়ারে দুয়ারে গেছি তোমাদের । ফল হয় নি কিছুই , ফিরে এসেছি খালি হাতে নিজের একাকিত্বে । কেউ বলেছে কুৎসিত , কেউ দিয়েছে ধিক , কেউ মিথ্যাবাদী , কেউ পাপী অনাচারি । সহ্য হয় নি , তাই তোমাদের জন্য বিশ্বাস প্রেম ভালোবাসা সব শিকে তুলে রেখেছি । হৃদয় রক্ত মাংস ছেড়ে পাথরের সমাধি গড়েছি । তবু এই পৃথিবীতে ব্যতিক্রম হয় বলেই জানি । আর তাই প্রতীক্ষায় দিন গুনি । আমি ভালোবাসার উপাসক । ভালোবাসা দিতে এসেছিলাম । ভালোবেসেছি যাকে তাকে নিজের করে তার উন্নতি ভেবে গেছিলাম । ফেরত পায়নি কিছুই । দেয়নি যারা সারা । তাদের ধন্যবাদ । খুব শিখে গেছি , এ পৃথিবীতে সবই পূর্ব নির্ধারিত ।


না । আজ একটি কথাও বলবো না । অভিমান করেছি । প্রচন্ড , প্রচন্ড , প্রচন্ড । ভালোবাসার গাছটি আজ মারা গেছে জানো । খুব যত্ন করে বড় করেছিলাম । আগলে রেখেছিলাম । সে আমাকে বলেছিল , আমাকে ছেড়ে কোনদিন কোথাও যাবে না । এদিকে হুট করে কেমন চলে গেল । আমি জানতাম না চলে যাওয়া এত সোজা । সব ছেড়ে , স্মৃতিগুলো ভুলে দূরে সরে যাওয়া এত সোজা । আমার বাবা নেই । সেও একদিন চলে গেছিল । আমাকে ডাকে নি একবারও । হয়তো ডেকেছিল । আমিই শুনতে চাইনি । শুনতে পেলে আঙ্গুল ধরে হাঁটা লাগাতাম সেই কবে।তবে ওকে যেদিন নিয়ে এসেছিলাম সেদিন থেকে ওকে সঙ্গে রেখে দিয়েছিলাম । বুকের মধ্যেকার পাঁজর জড়িয়ে জড়িয়ে সেও বেড়ে উঠছিল । তারপর একদিন শুয়োপোকাটা দেখি নেই সেখানে । ঝকঝকে সকালে রামধনু রঙ ছড়িয়ে প্রজাপতি হয়ে উড়ে গেছে । কে জানে কার কপালে বসে আছে এখন ?
এই অভিমান নিয়ে বলা ছেড়ে দিয়েছি । টুথপিক দিয়ে খুঁচিয়েও দাঁতের ফাঁকে জড়িয়ে থাকা কোন কথাই বেরোবে না । সম্মানের দরজা খুলে আমি দাঁড়িয়ে আছি একলা নেতাধোপানির পাড়ে । আর আমার বেহুলা ? স্বর্গে ...গাঙ্গুরের উল্টো স্রোতে গা ভাসালো না কোনদিন । না । আজ একটি কথাও বলবো না । অভিমান করেছি । প্রচন্ড , প্রচন্ড , প্রচন্ড । একটুকু ভালোবাসা চেয়েছিলাম শুধু । হরিণের ও দুটো চোখে হারিয়ে যেতে চাইনি । চাইনি তোমার অমৃত রূপের নেশায় টলতে টলতে দু পাশের পথ এগিয়ে চলুক । আমি , শুধু তোমায় চেয়েছিলাম , তোমার ধর্মকে তো চাইনি কোনদিন । তোমার বর্ণ , রূপ , নাম , যশ সবই অর্থহীন ছিল আমার চোখে । তোমায় ভালোবেসে একটুকু ভালোবাসা চেয়েছিলাম শুধু ।


"আমি অসহায়
কিছুই পারিনা বলতে ;
আমি পারিনা প্রিয় সখী আমার
নিজের হৃদয় চিরে তোমার ছবি দেখিয়ে দিতে
আমি পারিনা লিখতে তোমার কথা
বিশ্ব সভার এ জুয়ার মঞ্চে
আমি জোর পারিনা , পারিনা তোমায় হরণ করতে
শুধু পারি যে সেটুকুই এই কবিতা
ভালোবেসে গেছি তাই ;
একটুকু ভালোবাসা চেয়েছিলাম শুধু ।
তুমি তো জানতে সবই
আমি সব কিছুই তোমায় ঘিরে সাজিয়েছিলাম
তুমি তো জানতে সবই
আমি সব কিছুই তোমার জন্যই বানিয়েছিলাম
তবু ,
বসন্ত আজ আমার থেকে দূরে
অচিন পাখি হয়ে তুমি উড়ে গেছো
নিজের ভুবনে ।
আমাকে জানাওনি এতদিন ধরে
কেমন করে দিন কেটেছে তোমার
পথের ধুলো কোনদিন কি কোন ইতিহাস
বলে নি তোমায় !!
আমার দিন রাত সবই আজ একই আছে
গান ; সুর হীন , কবিতা ; ভাষা হীন
বন্ধু বলতে নিকোটিন আর
কান্না ভেজা সময় ।


মৃত্যুর অপেক্ষা করছি দাঁড়িয়ে দাঁড়িয়ে
আসলে মৃত্যুও তো তোমারই হাতে সপেছিলাম
তাই , আজ দয়া করে একটা দয়া করবে
একটুকু ভালোবাসা চেয়েছিলাম শুধু -- পারলে ফিরে এসো
নচেৎ আমার মৃত্যু টুকু ফিরিয়ে দাও আমায় , প্লিস ।
এ পৃথিবী আসলে স্বপ্নাদের হয় না কোনদিন
নষ্ট হয়ে নষ্টারাই থেকে যায় এখানে
আর সেইজন্যই ,
প্রেম অস্ফুট থেকে যায় রূপ মহলের ব্যালকনি জুড়ে  
একলা পথ ঢেকে যায় নিকোটিনে , বয়সের ভারে ।


যাকগে অনেক হল , আর তোমায় ডাকবো না কবিতায়
আজ থেকে বেঁচে থাকুক প্রেম হৃদয়ে শুধু আর বাকি ফাঁকা পথে
শুধুই ইতি কবিতা " ।


উৎসবের আনন্দ কাটিয়ে রাতজাগা দিবাচর পাখিরা ঘরে ফিরে আসে । সকালের শারদীয় রোদ্দুর তখন হাই তুলতে বেড়িয়ে এলে আনন্দ খুঁজে পায় নতুন ঠিকানা । এখানে কাঁদতে মানা । তবু কান্না ঝরে , গাছের পাতায় শিশির হয়ে পড়ে থাকে একলা । বিষাদের ঘন্টা বেজে ওঠে হৃদয়ে --- সেই ঘন্টা যার ডাক আজ এক বছরের বেশি সময় ধরে শুনছি আর শুনেই চলেছি । দুগ্গা তো আবার ফিরবে আগামী বছর , কিন্তু আমার দুগ্গা --- জানা নেই কোনদিন ফিরবে কি না । কোনদিন এজীবনে বসন্ত আসবে কি না , নাকি বসন্তের কোকিল হয়েই পাতার আড়াল থেকেই কুহু কুহু স্মৃতি তার ভেসে ভেসে ফিরবে বারবার ।
আনন্দের কথা যখন এলো তখন বলি , এবছর আনন্দের । জীবনের স্বপ্ন যখন রামধনুর রঙে এসে মিশে যায় , যখন পূর্ণতা পায় এক অতৃপ্ত সাধনা তখন আনন্দের মুহুর্ত বাদ দিয়ে দুঃখকে কি কাছে টেনে নেওয়া যায় ? জানি , এ সবটাই তোমার । নিজ ক্ষমতায় ছিনিয়ে এনেছো তুমি বিজয়ী ভবিতব্য । ব্যস্ত করে তুলেছো নিজের সত্যার্থ প্রকাশটিকে । তবু এ জয় আমার , কারন সত্যের গভীর ডিম্বাশয়ের ভিতরে আমার অবস্থান আর আজ সত্য করে নিয়েছে সত্য আমার , তার নিজের ।
ধন্যবাদ , এই স্মৃতিটুকু দেওয়ার জন্য । হাজার মিথ্যার ভিড়ে সত্যের এ সত্য টুকু বড়ই মূল্যবান । আর এই সত্যটুকু নিয়েই আমি সরে এসেছি । তবে চিরতরে নয় ---
মিসেস সত্যবতি দাস ।


বড় মনে পরে তোকে ,
দেখি নি সে তো কতদিন হয়ে গেল
চাতকের শুকনো ঠোঠে তবু তোর নাম আজও ভেসে ওঠে , সবসময় ।
মনে মনে কত কথাই তো মনে পরে , কে আর সে সবের পরোয়া করে
শুধু শুধু , সারা জীবনটাই শুধু শুধু কেটে যাচ্ছে , হাজার কাজের মাঝেই ।
তবু আজও কখন যেন মনে হলকিছু কিছু তবু বাকি রয়ে গেল ।
হায় রে পোড়া কপাল !! শুধু দাগ মেপে চলতে যাচ্ছি  ,
পৃথিবীর খবর পাচ্ছি না , আবার বুধ , শুক্রের গেরো ছাড়াতে ব্যস্ত !
পাগল তো , সব চলে ; লোকে বুঝি একেই ভালোবাসা বলে ,বল না ?
আজ এক বছর হয়ে গেছে , শুনেছি তুই বেশ আছিস , আমাকে ছাড়াই ।
তা ভালো , শুনে ভালোই লাগে , আফটারঅল,তোর ভালোলাগাটাই তো
আমার কাছে ছিল আগে ।
চোখের জল আজ বুঝি শুকিয়ে গেছে সব ,
হাসি , খুশি আর বন্ধুদের ঘেরা সংসার ।
আমি সেই একই আছি , শুধু আর মিথ্যা বলি না
তোর থেকেই তো শিখেছিলাম ....
আপিস আর ঘর এই দুয়ের মাঝে ফেঁসে গেছি
ছাড়া পেতে আর ভালোই লাগে না ।
বাড়িতেও সব একই আছে , যেমনটি ছিল ; না কিছু সংযোজন , না বিয়োজন ।
কথায় কথায় অনেক রাত হয়ে গেল , আজ কাল আর বেশি জাগি না ,
জাগাবার মতো কেউ নেই রে আজকাল , তাই ঘুমের দেশটা বেশি আপন মনে হয় ।
চলি রে , জানি বুঝবি না আমার ভাষা , তবু একটা চিঠি লিখে পাঠালাম ,
মন হলে দুটো গালিই না হয় ফিরত দিস ।
                                    ইতি ,
                            তোর বাজে ছেলে


আজ বিজয়া । তবু মনের আকাশে পরাধীন হওয়ার তীব্র আকাঙ্খা ।
ভালোবাসার যে বাধঁনে বেঁধে রেখেছিলে এতদিন , যে পুষ্প শেকল আগলে রেখেছিল আমার সব ,
যে হৃদয় পিঞ্জরে আটকে পড়েছিল জীবন ; সেখানেই ফিরে যেতে চাইছে হৃদয় । বলতে পারো
ভুলে যাওয়া যায় কি করে ? বলতে পারো স্মৃতি হারিয়ে একটা পাথর হবো এবার কোন পথে । হাজার হাজার
মাতাল স্রোতে গা ভাসিয়ে তো দেখলাম । তুমি আজও সূর্যমুখী হয়ে দাঁড়িয়ে আমার সামনে ।
শুনেছি , তুমি ব্যস্ত খুব । কিছু ব্যস্ততা তোমার থেকে ধার নিতে চাই । ধার দেবে কি না বলো না একবার ।
শুনেছি ওটাই এখন তোমার পেশা ।
জানো , রোজ সকাল হয় এখনো । আকাশের বুক চিরে রোদ হেসে ওঠে আমার ললাট লিখনে ।
আমি চুপ করে সহ্য করি সব । নীরব দর্শক হয়ে আকাশের দিকে চেয়ে থাকি ।
ধোঁয়াশায় দিগ্বিদিক ঢেকে যায় একসময় , বৃষ্টি ভেবে তার দিকেই দুটো ঠোঁট বাড়িয়ে দিই ....


জ্যোৎস্না ভেবে চাঁদ মরীচিকা হয় আমার জন্য । নিকোটিনের জ্বলন্ত বুকে হারানো স্বপ্ন
খুঁজে মরি । দেশ বিদেশ বুঝি না গো সত্য --- শুধু জানি যে চির সত্য যা চিরকালীন আমার কাছে ;
তোমায় ছাড়া ব্যোমকেশ যেমন অধরা ; ঠিক তেমনি
একটুকু সোহাগ ছাড়া এ বুদ্ধিমতি , সত্যবতী আমার --
এই মুহূর্ত টুকুও খুবই পাতলা । কাজীর মতো অপেক্ষায় ওত পেতে বসে আছি । জানিনা নার্গিস কবে আমাদের
মিলন হবে ----


" নার্গিসকে ডেকে চলেছি রূপসীর পথে পথে
পাহাড়ের সাদা চামড়া ভেদ করে
যমুনার পার ধরে ।
ওরা সাত বোন , সাতটি ঘর । আমি মাটির মানুষ
মাটি হয়ে ঢুকে যাবো ঠিক
বড় মেয়ের দরজা পেরিয়ে , তার হৃদয়ে ।
ভূপেন আমাকে চিনতো একদিন । আজ সে নেই ।
কিন্তু তার জমি আছে , আছে রেখে যাওয়া কবিতা বা-গান
একটি কুড়ি নিয়ে নেবো সেখান থেকে
শুনেছি ভীষণ পছন্দ তার ।


তারপর নার্গিসের পাশে বসে লিখবো
একের পর এক গান , কবিতা ।
যে ভালোবাসার আগুনে তোমার কাজী পুড়ে গেছে
এত দিন ধরে
সেই আগুন এবার ঘরে ঘরে জ্বলবে ।


তোমার কাজী এক নার্গিসের জন্য কাঁদছে
তার কষ্ট অনুভব করে লিখছে তার দুই মা
আর মেঘনা যমুনার কথা
এবার হাত বদলের শঙ্খ বেজে উঠবে
বিজয় মালা প্রস্তুত রেখো নার্গিস
কাজী আসছে তোমার কাছে
ভালোবাসার লাল সিঁদুর ছাড়া তার কিছু নেওয়ার নেই আর " ।


আজ সকাল থেকেই বৃষ্টি । এদিকে সদ্য কাটিয়ে আসা পুজো মনকে আরো ভারী করে তুলেছে । চন্দননগরের জগদ্ধাত্রী এ বছরেও ডাকবে না জানি । অবশ্য তা নিয়ে অভিযোগ নেই এক ফোঁটাও । আজ অবধি জন্ম থেকে কোনদিন ডাকলো না যখন , আজ আর কি ডাকবে । তবু ওই স্ট্যান্ডের পার , গঙ্গার ধার , ফরাসিদের রাজপ্রাসাদ আর রবি ঠাকুরের স্মৃতি গুলো ভীষন মনে পড়ে । তাই ভাবছিলাম , পালিয়ে যাবো ।
তারপর যখন ভীষন ক্লান্ত হয়ে বসে পড়েছি ভাসমান স্রোতের পাশে , ভিড় করা জনগনের সভায় , তখন ভেতর থেকে কে যেন ডাক দিলো একবার । স্বপ্নের দুয়ার চূর্ণ বিচূর্ণ করে দিয়ে ঘাড় ধাক্কা দিয়ে ফিরিয়ে দিলো বাস্তবে । স্বপ্নে তবু সত্য ছিল , ঈশ্বরী ছিলো আমার । বাস্তবে সব মিথ্যা । সে বলে চলেছে তবু , অদৃশ্য থেকে , অজানা কোথা থেকে । তার শব্দগুলো আজও কানে বাজে আমার ----
ঘুরতে চলে যাও । হঠাৎ হাওয়ায় মিশে গেছো দেখবে । হঠাৎ করে নিখোঁজ হয়ে যাও । বিরক্তি তখন বিরক্ত হয়ে মরবে । এক অদ্ভুত রেশমের ডালে এঁকে দেবে নদী নিজের যৌবনের , মিশে যাবে উষ্ণতায় ভরা চুমুর গরমে । হঠাৎ একদিন মেঘ হয়ে যাও । বর্ষায় ভিজিয়ে দাও গোটা শরীর । বুকের খাঁজ দিয়ে দেখো কবিতা ঝরে ঝরে পড়বে যখন , তখন হঠাৎ করেই জড়িয়ে ধরো প্রেমিকের সারা শরীর পূর্ণিমার চাদরে ঢাকা ফুল বিছানার আড়ালে । সেদিন দেখো , কত আপন পর হয়ে বলবে , তুমি নষ্টা , তুমি কলঙ্কিনী .... হাসতে হাসতে পার করে যেও দুগ্গা সেদিন , পারলে চিৎকার করে বলে দিও চেনা গণ্ডিটাকে , ভালোবাসার প্রতিটা কামড়ে অচেনা পৃথিবীটাই বড্ড চেনা লাগে আজকাল ..... যৌবনের রসে ভিজে দেখো একবার , জীবন মানে কয়েকটা মুহূর্ত নয় .....দশমী তাদের ; তোমার বিসর্জন নয় রে পাগলি .... চলো হিমালয় দেখে আসি না হয় ।
কিন্তু কাজীর মন যে মানে না । নার্গিস ছাড়া ভ্রমন যে অসম্পূর্ণ । বারবার চন্দননগরের সেই মেয়েটাকে খুঁজে বেড়াচ্ছি  ,যাকে একমাত্র সত্য বলে জানি । আমার নার্গিস বলে মানি । আর সেটা তুমি এটুকু তো বোঝ
নার্গিস তুমি ----


" বাঙালি রীতি মেনে সয়ম্বর আয়োজন করেছি
ফলাফল নিশ্চিত । তোমার গলায় আমার প্রেম
আর আমার হৃদয়ে তোমার সিংহাসন ।


আমি এই সংস্কৃতির অঙ্গ । এই দেশ আমার মা , বাংলা মা ।
হতে পারে আমাদের মাঝে একটা রেখা আছে ,
তবু নার্গিস আর কাজীর মনের মাটি তো এক ।
আর তাই ধর্ম নয় , বর্ণ নয় -
আমার কবিতা লেখা হয়েছে আমাদের ভাষায় ।


তুমি জানো আমি তোমায় বিয়ে করতে চাই
ঈশ্বর বা আল্লাহ জানেন , আমাদের মন এই পুণ্য ক্ষন
অনুভব করতে কত ব্যাকুল ।
তোমার কাজী আজও দেখছে তোমায়
চিঠি লিখছে তোমার ঠিকানায়


প্রিয়তমা নার্গিস আমার ,
তোমার দুখু কে লিখবে কবে
কবে তোমার ডাক আসবে গো
বলনা প্রিয়তমা সুন্দরী আমার
কবে আমাদের মিলন হবে ।


খেয়াল রেখো , ইতিহাস
বাঁশির সুর থামে না যেন এইবার
রাতের অন্ধকার কাটতে দিও না প্রিয়
আমি বাঙালি হয়ে নার্গিস পেতে চাই " ।


ক্রমশ:--- বই - ২