প্রিয় অমিত,
তোমাকে বলা হয়নি,
কাল সন্ধ্যায় হঠাৎ ঠিক হল,
রাতেই বেরিয়ে পড়লাম,
"টাইগার হিল থেকে সূর্য ওঠা দেখা ভীষন মজা"।
হ্যাঁ, দার্জিলিং যাচ্ছি।
তোমাকে হোয়াইটহ্ অ‍্যাপ করেছিলাম,
ফোন করিনি ইচ্ছে করেই,
ব্যস্ত মানুষ, কখন কোথায় মিটিং মিছিলে থাকো!
সকালের জন্য ফ্রিজে মাছের ঝোল রাখা আছে হলুদ বাটিতে,
বের করে মিনিট পাঁচেক মাইক্রোওয়েভে গরম করে নিও।
চালটা ধুয়ে রাইস কুকারে রাখা আছে, পাশে একটা পেতলের ঘটি আছে,
ওর একঘটি জল দিয়ে, কুকারের সুইচ দিয়ে দিও।
ঐ আধঘন্টা লাগবে, স্নানে যাওয়ার আগে বসিয়ে দিও।
ইচ্ছে হলে একটা আলু ধুয়ে দিতে পারো।
হয়তো এই সুযোগে মালতি কাল ডুব মারবে;
অবশ্য ওকে বলাও হয় নি সকাল সকাল আসতে।
বাসন গুলো যেমন পড়ে আছে থাক,
তুমি ডাইনিং রুমের কাঁচের আলমারিটা থেকে
ডিনার সেটের একটা থালা বাটি বার করে নিও।
দিয়ে ওগুলো প্লীজ একটু ধুয়ে রেখ।
সিংকে নামালে তাড়াতাড়িতে মালতি নির্ঘাত ভেঙে ফেলবে।
আমাদের গাড়িটা সবে নিউ জলপাইগুড়ি ছেড়ে তিস্তার পাশ দিয়ে চলা শুরু করেছে।
চারিদিকে পাহাড়ে পাহাড়ে কেমন যেন একটা সোঁদাটে গন্ধ।
ভালো কথা, কাল ইলেকট্রিক বিল জমা দেয়ার লাষ্ট ডেট।
পারলে দয়া করে লাইনে দাঁড়িয়ে কাজটা উদ্ধার কোরো,
না হলে অবিনাশকে বলতে হবে ঐ কিসব জানি অ্যাপ আছে!
আমকে কনজ্যুমার আইডিটা ম্যাসেজ করে দিও নয়তো।
তোমাকে মিস্ করছি।
এভাবে না বলে এলাম বলে রাগ কোরো না।
শহরের দশটা পাঁচটার জীবনে আমার দম বন্ধ হয়ে আসছিল।
সকালে প্রেশারের ওষুধটা আর রাতে কোলেস্টেরলেরটা মনে করে খেও।
দুটোতো দিন, তোমার তো অফিসেই তিরিশ ঘন্টা কেটে যাবে।
দার্জিলিং থেকে কিছু আনতে হলে বলে দিও।
মকাই বাড়ির চা তো নেবোই।
আপাতত আর কিছু না।
আর হ্যাঁ, দোতলার রেখা বেল বাজালে ভেতর থেকেই বলে দিও আমি নেই।
ওতো দরজা খুলে আসুন বসুন বলতে হবে না।
ঐ মহিলাকে আমার সুবিধার লাগে না।
নিজের খেয়াল রেখো।
ইতি,
বন্যা