অদ্ভুত দেহজ রসায়নে অস্থির আমি
অতৃপ্ত আত্মা, উসখুস করে মন
আমি এক স্বেচ্ছাচারী
অতি-বুদ্ধি আবার নির্বুদ্ধিতা, লোভ-ক্ষোভ
কষ্ট-ক্রোধ, হিংসা-প্রতিশোধের প্রজ্বলিত শিখা
কখনোবা জেগে ওঠে অদম্য কামনা-বাসনা
জ্বলে ওঠে সীমাহীন লালসার আগুন
কখনোবা নেশার মদিরতায় উন্মত্ত-বিকৃত।


আমি নৃশংস-কঠোর
সব মুখ মূক হয়ে শব্দহীন-বোবা
আর অন্য চোখগুলো সে-তো অন্ধ-বধির
আঁকা-বাঁকা বৃত্তাকার পথে
ছুটে চলি অন্ধকার আলেয়ার পিছে
শুধুই কুশলী ছলনা-প্ররোচনা
বিজ্ঞ প্রতারণার নিত্য-নতুন ছলাকলা।


আমি বিশ্বস্ত নই, কারো প্রতি আস্থাও নেই
কেউ আপন নয়, কারোও আপন নই
সবকিছুর ঊর্ধ্বে অজেয়, ভীষণ উন্মাদ
নেই কোন নিশ্চিত বন্ধু, মিত্র বা শত্রু
প্রয়োজনে যাকে খুশি কাছে টানি
দায় ফুরালে ছুড়ে ফেলি আপন খেয়ালে।


খেয়ালের বশে আমি স্বেচ্ছাচারী
বিজ্ঞ-জ্ঞানী, গুণী-পণ্ডিত রহস্যের বাইরে
আপন জ্ঞান, স্বার্থ, ক্ষমতায় নিবেদিত সদা
ভূরিভূরি বিশেষণে অতি ভালবাসা
সবখানে নিয়তই আমার কীর্তি-যশ-গুণগান
আমিই বিজ্ঞ-জ্ঞানী, কবি-শিল্পী, গুণমুগ্ধ শ্রোতা।


আমি বিলাসিতায় নিমগ্ন - অমিতাচারী
পর-ধন ভোগে, পর-সম্ভোগে অতৃপ্ত ক্ষুধা
ভয়ঙ্কর নিষ্ঠুরতায় সকলেই ভীত
খুবই নিঃসঙ্গ আমি - একা এক দাম্ভিক দুরাচার
সংশয়-সন্দেহে আমি ভয়ানক ভীত-শঙ্কিত
আমি ভরা-পূর্ণিমা রাতের
আতঙ্কিত কামাতুর গোখুরার ফণা
নিজ ছায়াতেও মারি দ্বিধাহীন ছোবল!


ফিরোজ, সিদ্ধেশ্বরী, ২৮/০৪/২০১৬