এক


বিশ্বাস হয়নি এমন করে চলে যাবে তুমি
নিঃস্বার্থ আর্তনাদ সবার মুখে; কাঁদে জামী।
এম্বুলেন্সের হাঁক দূর থেকে ভেসে আসে
নিঃশব্দে শুয়ে আছে দেহ, অবিশ্বাস্য লাশে।
বরফের টুকরে হিম শিম বৃক্ষের মত দেহ_
লম্বা করে শুইয়ে রেখেছে, ঠাঁই নাই গৃহ।
উঠোনের কোণে রেখেছে খাট উত্তর-দক্ষিণে
সাদা কাপড়ে ঢেকেছে দেহ সাদা আকাশ খুনে।
সবার চোখে জল ঝরিতেছে, কষ্টের ছাপ মুখে
শুভ্র আকাশে অবুঝ কাক ডাকে করুণ দুঃখে।
সারা বাড়ি থমকে আছে, নীরব চোখের জলে
বিলাপ করে কান্দে মায়ে, প্রার্থনায় মন গলে_


দেখরে তোর ছোট্ট ছেলে কাঁদছে তোকে ছুঁয়ে
ছেলিটিকে আজ এতিম করে, থাকবি কত শুয়ে?
তোর ছোট্ট ছেলে কাঁদছে শুধু বাবা বাবা বলে
একবার উঠে—নেরে কোলে, ভালোবাসার জলে।
কত বিলাপ করছে মায়ে বসে ঘরের কোণে
ছোট্ট মেয়ে বাবার শোকে অজ্ঞান ক্ষণে–ক্ষণে।
পত্নীর বুকে কষ্ট চাপা, বুক ফাঁটে দুঃখে_
চোখের জলে ভাসিয়ে বুক, সাগর জলে মাখে।  


উঠোন জুড়ে কত মানুষ, ‘কত মানুষের ঢল’  
কফিনে শুয়ানো সাদা কাপড়ে ছোট্ট ছেলের বল।
ছেলেটি আজ—বুঝেনা কিছু
বাবাকে নিয়ে যায়; হেঁটে যায় পিছু....।
কবরে শুইয়ে চলে যায় সবাই
ছেলেটি বলে মা—, বাবা কোথায়?
মায়ের মুখে কথা নাই, চোখ ভিজে কান্নায়;
ছেলেটি মুছে দেয় চোখ ‘আঁচল উঠাই’।  
মায়ের বুকেতে ছেলের মুখ; সহস্র দুঃখ চুপে
চিৎকার করে উঠেছে দুঃখেরা যন্ত্রণা জ্বালে বুকে।  
চোখের জল কথা বলে, সুখেরা পুড়ে ছাই  
সুখের চুম্বন ছেলের মুখে, মায়ে কান্দে মুখ ফিরাই।
মায়ের সাথে বোনে কান্দে গলাগলি করে_
পাড়াপড়শি কান্দে সবাই, কান্দে বাপের মায়ে।

সারা বাড়ি থমকে আছে নীরব নদী বহে_
সবার বুকে কষ্ট ছাপা, কেমনে ব্যাথা সহে?
সবার মনেতে ক্ষত-বিক্ষত যন্ত্রণা বাস করে
ছেলেকে বুকে জড়িয়ে মায়ে কান্দে নীরব স্বরে।


সারা গাঁও শোকাহত, দিন-দিন যায় চলে
বছর-বছর পার হয়ে যায় কত স্মৃতি ভুলে।
সময় চলে দিনে দিনে, কত কত বছর হয় গন্য;
ছেলেটি এখনও ভুলতে পারেনি কান্দে বাবার জন্য।


সংসারেতে কাজের মানুষ রইলো না আর কেউ
কোন্ ঘরেতে ভাত চাহিবে, না রেগে চোখ গেউ।
কত দিন মানুষ ভাত তুলিবে ভালোবাসার মুখে
ভালোবাসা বিরক্ত আজ, ক্রোধ লয়ে চোখে।
এমনিতে কেউ ভাত দেয়না, ভিক্ষার হাত বিনয়ে
স্বার্থ চাহে জিহ্বা রসে, ঘর লয়ে স্বাদ রয়েছে ক্ষয়ে।
জমানো অর্থ বিলিয়ে দাও, ভাত জুটিবে মুখে
ছেলে–মেয়ে নিয়ে সুখে থাকিবে, সুখ বহু সুখে।


“রেখে যাওয়া বাবার জমানো টাকা যত্ন করে রাখে
মায়ের আঁচলে ভাই বোন তারা রয়েছে যত্নে বুকে।
আদর—মায়া অফুরান্ত দুঃখিনী মায়ের ঘরে_
দুঃখিনী মায়ের কষ্ট বুকে, ছেলে মেয়ে রয় সুখে”      


দুই


সময়ের সাথে বয়স বেড়েছে ছোট ছেলে-মেয়ের
মায়ের বুকেতে জড়িয়ে রয়েছে সুখ মেখেছে মনের।
  
ছেলেটি বেশ বড় হয়েছে, বোনের হচ্ছে বিয়ে
বোনের বিয়েতে কত আনন্দ সর্ব পানে চেয়ে।


সারা বাড়িতে দুম লেগেছে, হলুদের বাজনা বাজে
কত সাজে সাজলো সবাই, হলুদের সন্ধ্যা সাজে।


“মায়ে সাজে সাদা কাপড়ে, মনে কষ্ট ছেপে
আজ যদি তোর বাবা থাকিত সুখে থাকিত মেতে,
এই বলে মায়ে কেঁদে দিলো ছেলেটির বুক ছেপে
ছেলেটি—মাকে সান্ত্বনা দিলো, সব বিধাতার হাতে”


আজ তুমি কেঁদো না মা, ‘তোমার নীলের বিয়ে’
তোমার নীলে কষ্ট পাবে, কাঁদিবে নির্জনে গিয়ে।
ছেলেটির চোখে জল এসে যায়, গোপন করে রাখে
বাবার শোকে বুক ফেটে যায়, দেখায় বড় সুখে।
একা একা কাঁদেন চুপে, একলা আলোয় গিয়ে
বাবা যদি থাকিতেন আজ, নিলেরে দিতেন বিয়ে।


সবার সাথে হাসি মুখে বোনের হলুদ হবে
সবাই এসেছে গাঁয়ের মানুষ, হলুদ শুরু তবে।
হলুদ সময় হলুদের বাটি সবার গায়ে মাখি_
হলুদ মেখে, হলুদ সেজে, গাঁয়ের হলুদ পাখি।
ফটকা-বাজি বিকট আওয়াজ দূরের গাঁয়ে শুনে
বোনের হলুদ হচ্ছে যেনো রাজ-রানীর কণে।
বোনের হাসি বড়ই মিষ্টি, হাসুক জীবন ভর
বোনে তাঁহার সুখে থাকুক এই প্রার্থনা ভাইয়ের।
সারা রাত জেগে কত আনন্দ, পাড়াপড়শি মিলে
মায়ের কোলে ঘুমিয়ে পড়েছে মিষ্টি বোন নীলে।


সকাল-সকাল হৈচৈ, ঘুম কি আর আসে!
ছেলে–বুড়ো সব মিলেমিশে পানিতে ভাসে-চাষে।
পুকুরের পানি উঠুনে উঠে গায়ে মেখে-মেখে
কাদা মেখে গায়ে-গায়ে, রঙ মেখেছে মুখে।
কেউ কেউ আসছে না ভয়ে নিজেকে লুকিয়ে রাখে!
লুকিয়ে থাকার জায়গা নেই মৃত্তিকা—উচ্চ শাখে।
ঘরের কোণে লুকিয়ে রয়েছে রশিদার 'মা' চুপে
দেখে ফেলেছে দেবরেরা লুকিয়ে রয়েছে ঝোপে।  
রশিদের মাও ছাড়া পায়নি, গায়ে মেখেছে কাদা
পানিতে ফেলেছে রশিদের মাকে সকল দেবর জাদা
নাজমা বাবি আসছে নাকো পাচ্ছে কত ভয়!
ধরা পরেছে দেবরদের হাতে লুকাবে আজ কোথায়?
বাড়ির সবাই কত আনন্দ করছে মিলেমিশে_
ঘর থেকে সব ধরে এনেছে, হয়েছে সব দিশে।


তিন


বোনেরে সাজিয়ে কনের সাজে, বাড়ির বাবিরা মিলে
চাঁদেরবতি আমাদের ঘরে অপরূপ নীলে-নীলে।
বাবিদের মুখে বাহ্ বাহ্; কি অপরূপ-রূপে!
নানিদের মুখে চুম্মা–চুম্মা, নীলে লাজে চুপে।


বর এসেছে বর এসেছে এই বলে সব ছুটে
বরের মুখে শরবৎ দিবে শ্যালিকারা সব খিটে।
জামাই বাবু মুখ ঢেকেছে লজ্জায় চোখ ভুজে
শ্যালিকারা টানাটানি মান দিয়ে যাও গুজে।
জামাই বাবুর পকেটে টাকা, বের করে দাও চুপে  
শ্যালিকারা সব মহা খুশী হাসা-হাসি মন দুপে।
দুলাভাই আসেন-বসেন, বিয়ের সোনার পিঁড়িতে  
রুমাল সরিয়ে হাসেন তবে, দেখি আপনার মুখেতে।
লোকের মুখে কানাকানি বাহ্ রাজপুত্র এসেছে!
নীলে বড় ভাগ্যবতী এমন জামাই জুটেছে_
আমাদের নীলে কম কিসে; চাঁদ গিয়েছে হেরে,  
নীলের পাশে বসেছে এবার লজ্জা পাওয়া বরে।
কাজী আপনে শুরু করেন বিসমিল্লাহ্‌-কবুল দিয়ে
মুনাজাত দিয়ে; খানাপিনা, পোলাও কুরমা ঘিয়ে।


ইচ্ছে মত খেয়েছে সবাই পেট গিয়েছে পুলে
শ্যালিকারা সব টানাটানি দুলাভাইকে ঝুলে।

বিয়ের শেষে আনন্দ সবাই, নীলের চোখ গলে।
নীলে আজ যাচ্ছে চলে আপন মানুষ ফেলে।  


নীলে কান্দে, মায়ের বুকে, মুখ ছেপে-ছেপে
মা কান্দে মেয়ের লাগি, ভাইয়ে কান্দে চুপে।
স্বামীর বাড়ি চলে যায় নিলে সবাইকে মায়া দিয়ে
ভালো ছেলের কাছে নীলের হয়েছে সুখের বিয়ে।
বোনের লাগি মন কান্দে, চোখ অন্য লোকে ফিরে
একলা একা মায়ের সাথে আর কেউ নাই ঘরে।  

‘ছেলেটি আজ নীরব শান্ত’ একলা একা কায়া
বোনে গেলো কত দিন হলো, আনবে মাঘে মায়া।


নীলেরে আর আনা হয়নি, বোনে করেছে আড়ি
খবর দিয়েছে, যাবে মায়ে নিয়েছে রিক্সাগাড়ি।
মহা খুশী নীলে; আসবে মায়ে, রাঁধে কত খাবার
খুশীতে আজ আত্মহারা, পাখিদের করছে আদর।


নীলের শরীরে ফুলের গন্ধ মুছিতেছে দিনে দিনে
ধূসর মাঠে শুকনো ফুল ঝরিতেছে ক্ষণে ক্ষণে।
  


চার


আজ দেখি নীলে, বড়ই কষ্টে, যৌতুকের অভিশাপে
স্বামীর হাতে মার খেয়ে যায়, শ্বাশরিও জাপে।
সংসারেতে যত কাজ রয়েছে, পড়েছে নীলের ঘাড়ে
নীলে ছাড়া যেন আর কেহ নাই এই ভব সংসারে?
মায়ের কাছে খবর আসে, মেয়ে বড়ই দুঃখে_
এক কাপড়ে ছুটেন মায়ে, কোনো দিক না চেয়ে।
দিশেহারা মায়ে, পাঁচ কিলোঃ পাদবিক যায় দৌড়ে  
মেয়েরে দেখে বুকে টানে, খালি বুক স্বাদ মিটে।
মেয়ের দিকে তাকানো যায়না, কষ্টরা ঘ্রাস করে
পরীর মত মেয়ে আমার, কৃশকায় রূপ ধরে!
তোকে বুঝি কষ্ট দেয়, নরকের আগুন জ্বেলে?
তোর জন্য এনেছি টাকা, গয়নাগাটি সব মেলে।
মেয়ের হাতে টাকা দিয়ে, মায়ে চায় কেঁদে-কেঁদে
কত দিন আর নিজের চোখে, দেখিবো কষ্ট ছেঁদে।


মাগো, কত দিন পর এসেছ তুমি ঘাস ভেজা ঘরে
চোখের জলে ভিজিবে ঘাস, যাই যদি না মরে।  
মাগো, খেয়ে যাও তুমি, কষ্টরা সব হবে মিছে  
তুমি আসবে বলে কষ্ট সবি, রেখেছি জলে মুছে।
কত দিন পর এসেছ তুমি নীলবেদনার নীড়ে
মাগো, তুমি চলে গেলে কষ্টরা নিবির বাড়ে।


মেয়ে আমার সুখে থাকিবে কোন জনমের স্বাদে
খোঁদার কাছে প্রার্থনা মায়ের, মুনাজাতে কাঁদে।


কিছু দিন নীলের কষ্ট ছিলোনা, টাকার গন্ধ দিয়ে
নীলের শরীরে রস এসেছে পরীর সাজ গায়ে।
সবাই মিলে মাতামাতি নীলেরে মাথায় তুলে
টাকার কুত্তা জামাই-শ্বাশড়ি মনুষ্যত্ব যায় ভুলে।
টাকার গন্ধ নাকে আসে না, কষ্টরা ফুল ঝরে
কষ্ট বুঝি অবসর হবে না, অপ্সরার রূপ তরে।
এমন করে চলতে থাকে রাত যায় পর দিন
নীলের ঘরে আলো নেই, বিষাদিনীর চোখে আগুন।


পাঁচ


সে দিন ছিলো ঈদুলফিতর, আনন্দ মুখর বাড়ি
নীলের কষ্ট অবসর হয়েছে, রাত্রের শেষ দাঁড়ি।
ভোর হওয়ার আগেই নীলে নীরব হয়ে যায়
শেষ কষ্ট দেহের উপর রক্ত চুষে খায়।
অমানুষ তোরা মানুষ নহে পশুর সাম্য হয়
তোদের মনে হিংস্র পশু, ভালোবাসা নয়।
ফুলের মত নিষ্পাপ মেয়ে তিলে তিলে ক্ষয়
কষ্ট দিলি অসীম যাতনা, মৃত্যুর নাহি ভয়।    


সারা রাত তোরা কষ্ট দিলি, গলা টিপে–টিপে
নরম দেহ ক্ষত–ক্ষত পুষ্প ছিপে–ছিপে।
কোন রাতে মারলি তোরা, ভোর হলে ঈদ
সে রাতে চাঁদের চোখে দিলি অন্ধক্রোধ।  
তোদের চোখে হিংস্রতা, লাল চোখের ভয়
তোরা হলি মানুষ রূপি জানোয়ার—পশুদ্বয়।
মানুষের জীবন মানুষে–নে, কি দুস্কর চিন্তা?
ফুলের মত কোমল মেয়ের গলা টিপে হন্তা।
নিষ্ঠুর তোরা, মানুষ নহে, হৃদয় নাহি দেহে
এত কষ্ট দিলি তোরা, আল্লাহ নাহি সহে।


নীলের কোলেতে নিষ্পাপ মেয়ে নয়ন রেখেছে মেলে
মায়ের আঁচলে জড়িয়ে রয়েছে ভালোবাসার ফুলে।  
এক বারও কি মায়া হয়নি ছুট্ট মেয়ের কথা?
মায়ের বুকেতে দুগ্ধ স্তনে মুখ রয়েছে গাঁথা।
নীলের কোলেতে ছুট্ট মেয়ে ঘুমি তখনও আছে
টেনে হেচঁড়ে নিয়ে যায়, রাখে অন্যের কাছে।  
ছুট্ট মেয়ে কেঁদে উঠেছে তৃষ্ণায়, দুগ্ধ ছিটাফোঁটা_
দুগ্ধ স্বাদ নিলো নাকো, মায়ের কোলতে মিঠা।  
নিষ্পাপ শিশুর মাতৃছায়া ভেঙে দিলি তোরা
রক্তের বাঁধন ছিন্ন করে কলিজাতে ছোরা।
দিলিনা তোরা দিলিনা মায়ের কোলেতে মেয়ে
নাভির টানেতে ভালোবাসা, দিলি তোরা ছিঁড়ে।
এই বন্ধন হবে নাকো শেষ, তোদের নিষ্ঠুরতায়
মায়ের বন্ধন অমর থাকিবে, ভালোবাসার জয়।

নীলেরে মেরে লুকিয়ে রাখার জায়গা নাহি আছে
তাইতো ওরা ফাঁসির দঁড়িতে ঝুলিয়ে দেহ বাঁচে।
মরণ কালেও দোষ চাপিয়ে নীলেরে অপবাদ করে
খবর আসে ভাইয়ের কাছে, ভাইয়ে কাঁদে দৌড়ে।


গ্রাম্য লোকে আতকে উঠে, খবর আসে গাঁয়ে
মায়ে তখন চিৎকার করে কান্নায় দৌড় পায়ে।


নীলের দেহ ঝুলিয়ে রেখেছে শুকনো বাঁশের সাথে
সারা শরীরে রক্ত জমাট কালো হয়ে আছে,
ফুলের গন্ধ ঝরিয়া পড়েছে বাকরুদ্ধ মুখে_
চোখের মাঝে কত কথা ঝরিতেছে করুণ দুঃখে।


কেঁদে–কেঁদে আসেন মায়ে, চোখের জলে ধুয়ে
মেয়ে তাঁহার ঝুলিয়ে রয়েছে কালো বর্ণ হয়ে।
পা জড়িয়ে কত আকুতি মরে নাই আমার মেয়ে
তোর জন্য এসেছি আজ, দেখ মা–একটু চেয়ে।


ভাইয়ের হাতে নামিয়েছে দেহ, কষ্টে ফাঁটে বুক
চোখের জল গড়িয়ে পড়ে হৃদয়ে মাখে দুঃখ।


বানিয়ে–বানিয়ে কত কথা বলেন সবাই ভাগে
শ্বশুর বাড়ির সকলে বলে, ফাঁস দিয়েছে রাগে।
নীলের মায়ে কেঁদে বলে ফাঁস দেয়নি মেয়ে_
নীলের চোখে চেয়ে দেখেন এখনও জল ক্ষয়ে।
নীল মা আমার সরল মেয়ে করে নাকো বচসা
কারো উপর কোন দিনও হয় নাকো গোসা।
আমার মেয়েরে মেরে ফেলেছে জামাই শ্বাশড়ি মিলে
আমার নীলেরে কত কষ্ট—যাতনা শরীরে দিলে।
মায়ের মুখেতে কত আকুতি বলে বলে যায় কেঁদে
মায়ের বুকে বিষাদের ক্ষাদ, যন্ত্রণা বুক ছেঁদে।
ভাইয়ের চোখ দিশেহারা কি করতে কি করে?
বোনেরে হারিয়ে কত বিলাপ কান্দে ঘুরে ঘুরে।


পুলিশ এসেছে খবর পেয়ে, সবার চোখে চাহে_
মরে গেছে, নাকি মেরে দিয়েছে রক্ত–ঘি খেয়ে?


লাশ নিয়ে যায় পোস্টমর্টেমে, বিচার হবে পরে
লাশের শরীর কেটেকুটে পরিক্ষা নিরিক্ষা করে।
আত্মহত্যার কোনো আলামত নাহি বয় শরীরে
রিপোর্ট দেখে লাভ নেই; রয়েছে মেয়ে মরে।
  
লাশ নিয়ে ফিরে আসে মায়ের উঠোন কোলে
বাবার পাশে কবর কুড়েছে বাড়ির পূর্ব কুলে।
শেষ দেখা দেখি নীলের মুখে, চোখ খুলে না হেসে
মায়ে কান্দে, ভাইয়ে কান্দে চলে গেছে দূর দেশে।
বাবার পাশে কবর দিয়েছে, রবে বাবার সাথে
বাবার সাথে কথা বলিস বোন, জান্নাতেরই পথে।


ছয়


দূর আকাশে আরেকটি তারা উঠেছে আজ জ্বলে
চাঁদের চোখে জল পড়েছে, দিয়েছে আলো ফুলে।
নীলে আজ তারা হয়ে উঠেছে দূর আকাশে
পাশের তারা'টি বাবার তারা রয়েছে ভালোবেসে।
ভাইয়ে রোজ তারা দেখে বোনের চোখে চেয়ে
বোনের লাগি কষ্টের ছায়ারা, কাঁদে দূর গিয়ে।
বোনে তাঁহার জান্নাত বাসি, মুনাজাত দিয়ে কাঁদে
মায়ে কাঁদে কুরআন পড়ে, নীল জান্নাতে ঘর বাঁধে।


কোর্ট কাচারি, কিসের মামলা, উগ্রবাদী সবি
খুনিরা সব বুক ফুলিয়ে দেখায় নিজের ছবি।
হুমকি–ধমকি নজর ভারী, কালো টাকার বল
জোর দেখিয়ে মামলা চাপা, করছে ভারী দল।


ভুলে যায় সবাই কোর্টকাচারি, মামলার নাহি খবর
সত্য কথার দাম নাহি আজ মিথ্যে কথার বহর।


সবাই ভুলে গেলেও মায়ে ভুলবেনা নীলের মুখ
সত্য বিচার হলোনা আজ, মিথ্যেরা করে সুখ।
মা–রে ভাবেসনি তুই, ওদের বিচার হবে আখিরাতে
কাঁদবে সে দিন সকলে মিলে, তোরই পায়ের নিচে।
আল্লাহর কাছে বিচার রইল, তিনি সবই দেখেন
সত্য বিচার উনার কাছে, সত্যের নাহি মরণ।


এখনও মায়ে কেঁদে বেড়ায় অধর্যুগ যায় চলে  
ভাইয়ে কান্দে চোখ আড়ালে, বুক ভাসে জলে।
অর্ধযুগ পাড় হয়ে যায় নীলেরে যায়নি ভুলে
নীলের স্মৃতি জড়িয়ে রয়েছে মনের মধ্য কোলে।


ভুলের সাগর মানুষ নাকি, ভুলে যায় সব ভুলে
মায়ের কাছে ভুল শব্দ, ভুলে নাকো কোন্ কালে।
মা হলো মায়াময়ী, ভালোবাসার–সত্য স্বর্গ মাখা
সন্তানের লাগি প্রার্থনা মায়ের যতনে রয়েছে রাখা।


সাত


ছেলেটির জীবন দুঃখ লয়ে, বহে যায় বহু বছর
কত কর্ম করেছে সে; ভালো, কালো, ধূসর।
শিক্ষার পাঠ গুটিয়েছে, সংসারে লেগেছে অভাব_
ছেলেটির স্বপ্ন ভেঙ্গেচুরে, দুঃখরা নেয় না অবসর।


ছেলেটি এখন কেমন আছে কোথায় করে বাস
চিত্র এঁকে ফুটিয়ে তুলব, কাব্যের হবে চাষ।
সুখ–কষ্টের নানান কথা বলে যাব আজ
ছেলেটি এখন কি করে কিসের করে সাজ।


জীবন যুদ্ধ বড়ই কঠিন, হতে হবে জয়
এমন শপথ করিতে হবে, ভয় হবে ক্ষয়।


দীপ্ত আর মা জননী এক সাথে রয় ঘরে
মা–ছেলের সংসারেতে সুখ—দুঃখের তরে।
মা থাকে ঘরের কাজে না হয় অন্য ঘরে_
দীপ্ত থাকে পড়াশোনায় বইয়ের চত্বর ঘিরে।
পড়াশোনায় মন দিয়েছে, বড় কিছু হবে_
তাইতো সে পড়াশোনায় থাকে মুগ্ন—ডুবে।


স্কুলে সে ভালোই নাম করেছে অল্প দিনে
মাথায় তাঁহার বিদ্যা–বুদ্ধি বাড়ছে ক্ষণে–ক্ষণে।
‘স্যারদের মুখে প্রসংশা’ ভালোই করছে ছেলে
দীপ্ত এক দিন বড় হবে প্রার্থনা করে সকলে।


পড়াশোনায় খুব মনোযোগ, স্কুলেতে যায়
শান্ত ছেলের চক্ষু দ্বয়ে হিংসা নাহি পায়।
বন্ধু–বান্ধব শত–শত, সূর্য আলো গায়
শিক্ষার আলো চোখে মেখে সত্য বলে যায়।


শিক্ষার জনে সত্য বলে, মিথ্যে পুড়ে ছাই
সত্যের কাছে মিথ্যের কোনো হবে নাকো ঠাঁই।  
দীপ্ত দেখো সত্য বলে, মনে নাহি কোন ভয়
সত্যের মাঝে শ্রেষ্ঠ মানুষ, করে দ্রোহী জয়।


স্কুলেতে বাবার সাথে অন্যেরা সব আসে
দীপ্ত একা, নাহি বাবা, থাকে না বাবা পাশে।
বাবার কথা মনে এলে, মন ভালোরা ক্ষয়
মন খারাপের দল বেঁধেছে, একা একা রয়।
বাবার জন্য দীপ্তের মন, কাঁদে ভীষন একা
সবুজ মাঠে বসে–বসে বাবার স্মৃতি আঁকা।

একা একা কথা বলে দূর আকাশে চেয়ে....
বাবা যেন এসেছে ছুটে, দীপ্তের কাছে ধেঁয়ে।
বাবা—ছেলে কথা বলে খবরাখবর নিয়ে
মন খারাপের দলে আছে, সুখেরা সব গিয়ে।
বাবার সাথে কথা বলে, দীপ্তের মন কাঁদে
বাবা কাছে টেনে নিয়ে, বুকে ছেপে বাঁধে।
এমন করে বাবা–ছেলে বলে যায় কত কথা
স্মৃতির পাতা খুব যতনে মনে রয়েছে গাঁথা।
বাবার সাথে বোনের কথা কেঁদে–কেঁদে বলে
বোন আমার কেমন আছে, রাখবে যত্নে কোলে।
বোন আমার রাগ করেছে, আসে না আমার কাছে
আমার সাথে কথা বলে না, যায় বারে–বার পিছে।
আবার তুমি আসবে যখন আনবে বোনেরে সাথে
বোনের সাথে কথা হবে, কত কথা মনে গাঁথে।
মায়ে অনেক কান্না করে আকাশ পানে চেয়ে_
তোমাদের কথা মনে করে, চোখ মুছে আঁচল দিয়ে।
মায়ের মুখেতে তাকানো যায় না কষ্টে শুধু কাঁদে
চোখের জল গড়িয়ে পড়ে, বুক সাগরে বাঁধে।
রাতের পর রাত চলে যায় ঘুমায় নাতো মায়ে
মায়ের চোখ আলাবোলা, আদমরা শরীর হয়ে।
নীরব চোখে বসে থাকে, কথা নাহি মুখ–চুপে
খাবার নাহি মুখে তুলে, জলপান একটু চিপে।
মায়ের কষ্টে, আমার কষ্টরা হয়েছে পথ ভ্রষ্ট
মায়ের কষ্টে বুক ফেটে যায়, কষ্টরা হয় সৃষ্ট।      
জানি না তুমি মায়ের সাথে করেছ কি দেখা?
মায়ের সাথে কথা বইল, দিওয়ানা মনে ব্যাথা।
মন খারাপের দলে আছি যাও তুমি যাও চলে
পরে আবার কথা হবে বোনেরে নিয়ে এলে।


এমন করিয়া দীপ্ত ছেলে মনে–মনে কথা বলে
বাবার সাথে কথা বলে কল্পনার ছলে–ছলে।
মন খারাপের দলে যখন থাকে দীপ্ত_ছেলে
একা–একা কাঁদে বসে আর কেউ নাই দলে।


অষ্টম থেকে নবম জুড়ে রয়েছে কত বাণী
স্যারদের সাথে সমস্যা হয়েছে কানাআনি।
বিজ্ঞান নাকি মানবিকে সফল হবে পাসে
দীপ্ত বলে বিজ্ঞান ছাড়া যাবো নাকো ক্লাসে।
যত্ন–রত্ন, পরিক্ষা–নীরিক্ষা করছে সকলে মিলে
দীপ্তের মেধা কত খানি হিসাব করে নিলে।
পরিক্ষাতে সফল হয়ে বিজ্ঞান শাখায় পড়ে
অঙ্ক–বিজ্ঞান দারুণ করে, নবম–দশম জুড়ে।


প্রতিদ্বন্দ্বি রয়েছে অনেক, সাথের বন্ধু সকল
পড়াশোনায় প্রতিদ্বন্দ্বিতা আসবে কত ধকল।
সবার সাথে মিলেমিশে থাকতে চাহে সুখে
বন্ধু ছাড়া এজগতে কে আর আছে দুঃখে।


স্কুলের স্মৃতি।

পাঁচটি বছর কেটে যায় কত স্মৃতি মেখে
বন্ধু–বান্ধব শত–শত হাসি মুখ দেখে।  
স্কুল জীবন ভুলা যায় না, স্মরণ হয়ে থাকে
যত দূরে রবে দেহ, মনে স্কুলের মায়া মাখে।
স্কুলের স্মৃতি ভুলা যায় না যত দূরে রবে....
স্মৃতি তাঁহার মিশে রয়েছে, ভালোবাসার ভবে।


মাঠ, ঘাস, ধূলিকণা যায় নাকো ভুলা_
শহীদমিনার—রক্তজবা, হৃদয়ে দেয় দোলা।
শিক্ষক গুরু, বড় ভাই, শ্রদ্ধেয় সব জন
আশির্বাদে পথ চলা সফল সর্বক্ষণ।


আলোর স্কুল নূরপুর ফুলে ফুলে বরপুর
নক্ষত্রের আলয় আলো ফুল হাসে সূর্যের।  
সূর্য আলো ফুলে–ফুলে, রংধনু মাখে
ফুলের সুবাস ছড়িয়ে আছে, জগতের মুখে।
ঘাসে–ঘাসে চরণ চুম্বন প্রকৃতি ভালোবাসে  
ধূলিবালি গায়ে মেখে মায়ের মুখে হাসে।
গাছে–গাছে পাখি সব সবুজের সাথে
সাদা বক উড়ে বেড়ায় সাদা মেঘ গাঁথে।


ক্রিকেট, ফুটবল, দৌড়াদৌড়ি খেলা
দেখেনাতো সময় কত, হয়ে যায় বেলা।
রোদ্রে_দৌড়াদৌড়ি, ঘামে ভিজে গা
বাড়িতে যেতে হবে, কোন্ সে গাঁ।
সারা দিন স্কুলেতে পড়াশোনা মেলা
পড়া থেকে ভালো লাগে দুষ্টু সব খেলা।
সুযোগ পেলে সব দৌড়াদৌড়ি মাঠে.....
সূর্য মামা যতই রাগুক রৌদ্র দিয়ে পিটে।          
সময় নাই দেখা—দেখির খেলা সব আগে
ক্লাসের ঘন্টা হলে জিদ্ধে শরীর রাগে।
ছুটির ঘন্টা ভাজিলে আনন্দ সবার চোখে
ছুটে যায় পথে পথে, সবুজ শ্যামল বুকে।
স্কুলতে পাঁচটি বছর কেটে যায় সময়  
স্মৃতি গুলো কাব্য হয়ে ডায়েরিতে সাজায়।  
  
আট
দীপ্তের উড়াল পক্ষি সাইকেল______


দীপ্ত এখন টিউশনিতে মন দিয়েছে ছেপে
বাড়ি–বাড়ি গিয়ে পড়ায়, সময় নাহি মাপে।
মানুষের কাছে শান্ত ছেলে, মানুষ ভালোবাসে
মানুষের মাঝে সত্য ছেলে, সত্যের আলো চাষে।
রাত–দিনেতে ছুটে দীপ্ত, ছুটে সবার বাড়ি.....
টিউশনীতে সময় কাটে, সাথে দু'চাকার গাড়ি!
সাইকেল চালায় উড়াল পক্ষি, রঙ দিয়েছে সাজ
নয়া চাইকেল চালায় যেন উড়াল পক্ষিরাজ।
সঙ্গী–সাথী উড়াল পক্ষি সাথে থাকে সারাক্ষণ  
উড়াল পক্ষি উড়ে বেড়ায়, সমস্যার অনুবিক্ষণ।
স্কুল, বাজার, টিউশনিতে যত সব দরকার
উড়াল পক্ষি নিয়ে যায় সমস্যার পারাপার।  
নিজে যেমন পরিপাটি, উড়াল পক্ষিও খাঁটি_
দূর–দূরান্ত চালিয়ে বেড়ায়, সব খানে সব বাটী।
দিনে দু'বার গোসল দেয়, পানি দিয়ে বার–বার
তেল দিয়ে মালিশ করে রাতে ঘুমাবার।
যত্ন করে ঘুমিয়ে রাখে, থাকুক শুয়ে অবসর
চাইকেল নয় সে উড়াল পক্ষি, স্বপ্নে বাঁধে আসর।


কত মানুষ সাইকেল খোঁজে, রাজি নাহি দিতে
দীপ্ত সবি দিতে রাজি, উড়াল পক্ষি নয় নিতে।
কারো হাতে উড়াল পক্ষি, না—না দিতে রাজি
চাইতে এলে কত কথা উনিমিনি ছয় নয় সাজি।
কাছের বন্ধু ভালোবাসা, যত খুশি দিবে
রক্ত চাইলে রক্ত দিবে, সাইকেল নাহি পাবে।
ভালোবাসার কঠিন মানুষ হৃদয়েতে পুষে  
সাইকেল নাহি দিতে রাজি, হয়ে যায় দিশে।  
সূর্য চাইলে সূর্য দিবে, সাইকেল নাহি দিবে
সাইকেল তাঁহার উড়াল পক্ষি সঙ্গে সাথে রবে।
ভীষণ গভীর ভালোবাসে, ভালোবাসা মনে
ঘুমের ঘরে স্বপ্ন দেখে উড়াল পক্ষির সনে।    
নিজের থেকেও যত্ন বেশি উড়াল পক্ষির পিছে
ভালোবাসে বড্ড বেশি, ভালোবাসা নয় মিছে।


নয়            
   কলেজ জীবন__________


কলেজ জীবন শুরু হতে, কত স্বপ্ন চোখে
মায়ের কোলেতে মাথা রেখে চেয়ে আছে মুখে।
মায়ের সাথে গল্প করে কি হবে এই ভবে?
মায়ে বলে, তোরই আশা, স্বপ্ন যত সবে।
নিজের মত গড়বি জীবন, সত্য পথ দেখে  
তোকে নিয়ে বেঁচে আছি, থাকবো বড় সুখে।
সত্য পথে চোখ রেখে, সত্য বলে যাবি_
তুই ছাড়া আর কে রয়েছে পর হয়েছে সবি।
দুঃখ যত ভুলে আছি, তোর মুখেতে চেয়ে
তুই আমার ছেলে-বাবা ভালোবাসা দিয়ে।  
তোর চোখেতে স্বপ্ন দেখি, আছি বড় সুখে
বেঁচে থাকার ইচ্ছে তুই—চে আছি তোর মুখে।


“মাগো, তোমায় ছাড়া কেমন করে রবো আমি বেঁচে
তোমার জন্য শক্ত মনে হেঁটেছি বহু পথ দুর্গম সেচে
তোমার দোয়া সাথে রয়েছে, মাথায় রয়েছে ছায়া_
তোমার চোখে ভালোবাসা, হৃদয়ে সুখের মায়া”    


কলেজ শুরু রাঁন্ধনীমোড়া, থাকা হয়'নি বেশি দিন!
কলেজ ছেড়ে পাড়িজমায় আড্ডা কলেজ সুবিন।
ঝামেলা বেঁধেছিল প্রথম কলেজে, দুষ্টু কত জনে!
দীপ্তের সাথে কথাকাটাকাটি, মারামারি একক্ষণে।
কলেজ জীবন শুরু হয়েছে অলক্ষ্মী জাপটেধরে
তবুও পড়ায় মন দিয়েছে_লক্ষ্মীর পায়ে পড়ে।


কলেজেতে কত বন্ধু, আপন বন্ধু হয়ে
গলাগলি, বলাবলি, মনের বন্ধু পেয়ে।
কলেজেতে যাওয়া–আসা, পড়াশোনায় মাতে
কখন জানি জড়িয়ে পড়ে, প্রেমের মত্ত ঘাতে।


লজিং মাষ্টার ছিলো দীপ্ত, গাঁয়ের অনেক দূরে_
ঐ গাঁয়েতে থাকতো সে নিজের মত করে।
পড়াতে গিয়ে প্রেমে মত্ত কল্পনার রাজ্য গড়ে
মনে-মনে মহা কাব্য রচনা করেছে অন্তরে।
দীপ্ত এখন ছবি আঁকে অপ্সরার রূপ লয়ে_  
অপ্সরার সাথে মনের মিলন গোলাপ দিয়ে দিয়ে।
কলেজ জীবন প্রেমের শুরু ভক্ত ত্যক্ত মরে
আনমনেতে প্রেমের আঁচড় উদাস মনের ঘরে।


অপ্সরার রূপ বর্ণনাতে প্রকৃতির রূপ তরে  
অপ্সরার শরীর অপরূপা, মায়ার রূপ ঝরে।
মুখখানি তার সাদা আকাশ, পূর্ণিমারও চাঁদ
আকাশ থেকে নেমে আসা অপ্সরিদের স্বাদ।


জীবন তব আলোর কথা, কালো নাহি ছাপে
বিষাদের রূপক তুচ্ছ ছবি, আলো স্বর্গ মাপে।
অপ্সরার সাথে খেলা করে, পক্ষির সাজ গায়ে
কল্পনাতে সারা বেলা, কষ্ট তক্ত বিষাদ গিয়ে।


তব সঙ মম নরম গলায়, সবুজ পাতার সৃষ্টি_
অপ্সরার চোখে–চোখ রেখেছে অবুঝ মনের দৃষ্টি।
প্রেম আলাপন রঙ মঞ্চ দিনের দেশে চাষ
রাতের দেশে স্বপ্ন আঁকা, অপ্সরার সাথে বাস।
জোনাকির সাথে মাখামাখি, পূর্ণিমার হবে চাষ
রাতের স্বপ্ন রাতেই এসে হয়ে যায় নিঃশ্বেষ।
অপ্সরার মুখের মিষ্টি কথা, অপরূপ সাজে হাসি;
সন্ধ্যামালতী অপ্সরার গায়ে, বড্ড ভালোবাসি।
অপ্সরার সাথে মধু_লয়ে, বন্য লতা পায়ে_
বৃষ্টির রাতে মিলন হবে, কাজল যাবে ধুয়ে।


মিষ্টি মেয়ের মিষ্টি কথা ঠোঁটে লেগে আছে
শিশির ফোঁটা ঠোঁটের কোণে, তন্দ্রা রচে কাছে।
আঙুল দিয়ে চোখ সরিয়ে লজ্জাবতী মেয়ে
শরীরে হাত স্পর্শতা বার–বার যায় ছুঁয়ে।
অপ্সরা মেয়ে দীপ্তের মন কেড়েছে হাসি দিয়ে
এমন মেয়ে স্বর্গে থাকে খোঁজে  কত—গাঁয়ে।
ভালোবাসা মনে–মনে, প্রকাশ হবে কবে?
এখনও সে স্বপ্ন দেখে, প্রেম সাগরে ডুবে!


হঠাৎ এক দিন বলে দিলো ভালোবাসি তোমায়
তোমার লয়ে মিলন হবে কোন জনমের প্রনয়?
অপ্সরা হেসে বলে;ওহে পাগল ভালোবাসি তোমায়
তোমার মুখে শুনতে চেয়েছি লাগলো কত সময়।
আমিও তোমায় ভালোবাসি, গোপন করে রাখি
মনের ভিতর তোমার কথা, দেখো আমার আঁখি।
তোমার মনে মন রেখেছি কলেজ শুরুর সাথে
ভালোবেসে আমার মনে তোমার মন গাঁথে।
দীপ্ত একটু উদাস হয়ে চিমটি কাটে গায়ে!
সত্যি আমায় ভালোবাস, আমায় দেও ছুঁয়ে?
বৃষ্টি এসে মন ছুঁয়ে যায় অপ্সরা মেয়ে সাথে
সাদা মেঘের বেলায় চড়ে, বৃষ্টি গেঁথে গেঁথে।
এত দিন তোমায় স্বপ্নে দেখেছি, দুষ্টু–দুষ্টু হাসি
তুমি আমার সঙ্গী হবে, সকাল, দুপুর, নিশি।


এভাবেই প্রেমের জিকির যায় যায় দিন চলে
পড়াশোনায় ছাপ পড়েছে, পড়ছে ছলে বলে।


পড়াশোনায় মন দিয়েছে সকল ছাত্র মিলে_
দীপ্ত–অপ্সরা পড়ার সৃষ্টি করেছে পুষ্প–দিলে।
প্রেম রসনা চলছে বেশ, লুকোচুরি খেলা!
একটু সময় পেয়ে গেলে, উড়ায় প্রেমের ভেলা।
এক দিন যদি না হয় দেখা, হাহুতাস মনে;
প্রেম বুঝি এমনই হয় স্মরণ সব ক্ষণে ক্ষণে।


কলেজ জীবন শেষের দিকে, প্রেমের দিবাকরে
পরিবারে জানাজানি মানছে না প্রেম ঘরে।
ভালোবাসা–প্রেম বসতি, অপ্সরার_লয়ে ঘর
আংটি পড়িয়ে প্রনয়ের কথা জানিয়েছে বিয়ের!  
অপ্সরার বাবা রাগারাগি, হচ্ছে নাহি রাজি
অকর্মঠ ছেলের সাথে বিয়ে? ছিঃ ছিঃ ফাজি।
অপ্সরার বাবা রাজি নাহি, প্রেমের হয়েছে আড়ি
প্রেমের ইতি, চোখের জলে, মরিয়া ধূসর বাড়ি।


অপ্সরার শেষ চিঠি!


তুমি মানুষ কেমন, থাকো সারাক্ষণ?
খবর নিলে খবর দিবানি?
আমিও তো মানুষ তুমি মানুষ মত_
মনের সাথে মনও মিলাবে?
দূরে–দূরে আছ, আমিও কি দূরে?
কাছে এলে সাথে নিবানি?
কত দূরে তুমি, খবর নাহি তোমার_
কার ঘরেতে ঘুমিয়ে আছ?
আমার ঘরে আঁধার।
ভুল করে ভুল, ভুলের মানুষ_
মানুষ করে ভুল?
আজ আমার ঘরে দুঃখরা সব_
তোমার ঘরে সুখ?
অন্য লিলায় মন দিয়েছ,
বেশ ভালোই তুমি আছ?
এক দিন তুমি খুঁজবে আমায়,
হারানো পাখির মত_
সে দিন আমি অন্য কারো,
আজ তোমার মত"
যেথায় আছ ভালো থেকো,
ভালো রেখে মন_
আমি বড় সুখে আছি,
ভালো সারাক্ষণ!


দশ
মায়ের আকুতি_________  


কিছু দিন হলো দীপ্তের মা'র শরীর যাচ্ছে খারাপ
মায়ের মুখে একটাই আঁকুতি বিয়ে কর বাপ।
পুত্রবধু আসবে ঘরে লক্ষী মেয়ে–মা
লক্ষী মেয়ে আনরে ঘরে দেখে যেতে চায় মা;
মায়ে ঘরে একা–একা কষ্টে কাটে বেলা
পুত্রবধু দেখতে চাহে, স্বপ্ন চোখে মেলা।
মায়ের শুধু একটি কথা বিয়ে কর বাবা_
চুপটি করে থাকিসনা তুই, অসীম খেলে দাবা।
মায়ের সময় বেশি দিন নেই চলে যাবো একা
তোর বউয়ের মুখ খানি এক বার শুধু দেখা।

“দীপ্ত বলে মেয়ে দেখ করবো আমি বিয়ে
বাড়ির সবাই মিলে দেখ লক্ষ্মীর মত মেয়ে।
মায়ের মুখে হাসি ফুটেছে, ছেলে করবে বিয়ে_
সবাই মিলে মেয়ে দেখে গাঁয়ে–গাঁয়ে গিয়ে”


কত মেয়ে দেখলো সবাই মনের মত হয় না
তবুও মেয়ে খুঁজে বেড়ায়, খুঁজে–খুঁজে পায় না।
এমন করে চলতে থাকে দিনের পর দিন
কত গাঁয়ে গেলো সবাই বাজিয়ে–বাজিয়ে বিন।
কোন গাঁয়েতে লক্ষ্মী মেয়ে চুপটি করে আছে
সব গাঁয়েতে হেঁটেছে সবাই, কত মেয়ের পিছে।
    
পিলগিরি গাঁয়ে একটি মেয়ের খোঁজ মিলেছে চোখে
বাড়ির বাবি, চাচি, মামি, মিষ্টি নিলো মুখে।
বিয়ের কথা বলছে সবাই মেয়ের মায়ের সাথে
বাবিরা বলে আনেন মেয়েরে দেখি চোখ পেতে।
মেয়ে ভারি রূপবতী ক্যাশ নেমেছে পাছে
চোখ দুটি'তার কাজল মাখা গালে তিলক আছে।


সংসারেতে কাজ পারে কি, রান্না ঘরের দারু?
সব কাজেতে হাত রেখেছে আমার মেয়ে ফারু।
চাচিদের মুখে বাহ্ বাহ্ এমন মেয়ে চাহি
বঙ্গ নারী এমনই চাহি স্বামীর ভক্তি গাহি।
ধর্ম কি তার অন্তরেতে, শরীর পর্দায় রাখে?
আমার মেয়ে ধার্মিক আছে, সত্য মাখে চোখে।
নামাজ, রোজা, কোরআন পড়ে, দ্বীনের পথে চলে
এমন মেয়ে চাহি আমরা আমাদের ছেলের গলে।  


বিয়ের কথা এখনি তবে হয়ে যাক বলাবলি  
মেয়ের মায়ে হেসে বলে_
একটু ছেলে বাবাজীর কথা শুনি।
ছেলে যেন কেমন করে, মুখ করে ঘুরাঘুরি
বাবিরা বলে লজ্জা পেয়েছে, লাজুক দেবর ভারী।
বাবিদের সাথে চুপিচুপি কথা বলে দীপ্ত
মেয়ের নাকি প্রেম লিলা রয়েছে কত ক্ষিপ্ত?
গুপ্ত খবর এসেছে বাহির, চুপিচুপি আমার লয়ে
এই বিয়েতে মন নাহি আমার, কষ্ট নিব শয়ে।
বাবিরা বলে ছিঃ ছিঃ, কি বলিস তুই পুড়া মুখ?
মানসম্মান সব গেলো, কেমনে উঠাই চোখ।
ভুল হয়েছে, মান গিয়েছে তোরই সাথে এসে
তোরই সাথে যাওয়া হবে না অন্য কোন দেশে।
মেয়ে আর দেখবো নাকো তোর সাথে গিয়ে_
তোর লাগি, তুই মেয়ে দেখ, করে পেলগে বিয়ে।


এগারো


এই কথা যে মায়ে শুনে, মায়ের কষ্ট মনে
মায়ে আবার অসুস্থ যে হয়ে পড়েন ক্ষণে।
  
শরীরের ভিতর কি ব্যাধি করছে পেশি ক্ষয়?
দ্বীপ্তের মা খুব অসুস্থ, মনে ভীষণ ভয়।
পরিক্ষা–নীরিক্ষা করছে ডাক্তার, কত মেশিন দিয়ে
চোখাচোখি করছে ডাক্তার ঈক্ষনে সুখ যায় ধুয়ে।


মায়ের অসুখ কি হয়েছে জানতে সে আসে?
ডাক্তার বলে ইটস ওকে সমস্যা সামান্য গ্রাসে।
চিন্তা নাহি, সাহস রাখ, মনের ভিতর বল_
তোমার মায়ে ভালো আছে—সুস্থ রবে সবল।


মায়েরে নিয়ে চলে আসে, চোখে করুণ জল
মায়ে তাঁহার কষ্টে আছে, ভিতরে দহনকল।
মায়ে ডেকে বলে বাবা কাঁদিস না তুই খোকা
বুকে আমার আয়রে বাবা, কাঁদিস নারে বোকা।
কিছুই আমার হয়নি, দেখ-হাসছি আমি কত
ভালোবাসার মরণ নাইকো, ভালোবাসার মত।
মায়ের কথা শুনে ছেলে কাঁদছে মায়ের বুকে
মায়ের বুকে কত যন্ত্রণা, কাঁদছে শুনি দুঃখে।
মা'গো তুমি ছাড়া এই জগতে কে আর আছে আমার
তুমি আমায় করে দিওনা বাবার মত পর।
বাবারে, এই দুনিয়া ক্ষনস্থায়ী যেতে হবে সবার
তোকে ছাড়া কেমনে রবো, পরবাসে বেঁধে ঘর।
উপর থেকে ডাক এসেছে যেতে হবে আমায়
তোর জন্য প্রার্থনা করে আল্লাহর কাছে গাই।


খোদার কাছে দু'হাত তুলে মোনাজাত দিয়ে কাঁদি
সত্য পথে, সত্য কথা, সত্য রাখিস বাঁধি।
মা–ছেলের কত আকুতি, বলে-বলে যান কাঁদি।


কত দিন মায়ে অসুস্থ রবে, বলেন ডাক্তার যদি?
ডাক্তার সাহেব বলে চুপি, শরীরে রয়েছে ব্যাধি_
ক্যান্সারেরই ছোঁয়া রয়েছে হৃদয় তক্ত ছেঁদি।

দীপ্ত কেঁদে আলাভোলা করুণ চোখে চাহে
শান্ত হয়ে চেয়ে রয়েছে, কলিজা ফাঁটে দহে।
আকাশ ভেঙ্গে মাথায় পড়ে, কি করবে ছেলে?
মায়ার বন্ধন ছিন্ন হবে একটু ব্যাধির বলে।
ডাক্তার মায়েরে বাঁচান, নইলে মরে যাব আমি
আমার জীবন তুচ্ছ ভবে, মায়ে সর্বচ্চ দামি।


আল্লাহর কাছে প্রার্থনা করুন, কিছু করার নেই        
সময় হয়তো বেশি দিন নেই, ওষধ দিয়ে দেই।
বাড়িতে গিয়ে যত্ন করে, ভালোবাসা দিন
মায়ের ইচ্ছা পূর্ণ করুন, বাঁকি ছয়–ছয় দিন।


মায়েরে নিয়ে বাড়ি আসে, রক্ত ঝরে মুখে
মায়ে তাঁহার কত কষ্ট পাচ্ছে ধুকে–দুঃখে।
বুকের পাঁজর রক্ত জমাট, রক্ত কত ক্ষয়ে
নিঃশ্বাস মায়ে কষ্টে টানে, করুণ চোখে ভয়ে।
বুকের ভিতর চিৎকার শুনি, মুখে নরম স্বর
ছেলের কষ্ট নাহয় যেনো, প্রনয়ের সাগর।
কষ্ট মায়ে পাচ্ছে বুকে, প্রকাশ নাহি তাতে
ছেলে তাঁহার সুখে থাকুক, সুখের চোখ রাতে।
মা জননীর স্বর্গ ছেলে, স্বর্গ নিয়ে বাঁচে_
ছেলে তাঁহার সুখে থাকুক এই কামনা রচে।


এখনও ভোরের সূর্য উঠেনি, পাখিদের কলরব
মায়ে তাঁহার ঘুমিয়ে রয়েছে, আঁখি দ্বয় নীরব।
আজ বুঝি মায়ের ঘুম ভাঙেনা, ঘুমের ঘরে বাস
ঘুম পাড়ানি নীরবতী, করছে এপাশ—ওপাশ।
ছেলে তাঁহার দেখছে চোখ, মায়ের হাসি মুখে  
মায়ের নিঃশ্বাস আসছে নাকো, মাথা রেখে বুকে!
চিৎকার করে ডাকছে শুধু, মায়ে কয় নাকো কথা
সারা বাড়ি জেগে উঠেছে, চিৎকারে ভাসে ব্যাথা।
এই ব্যাথা আজ কেমনে সইবে, আলাভোলা হয়ে
চোখের সামনে মায়ের নিঃশ্বাস চুপ হয়েছে গিয়ে।
পক্ষিরা সব নীরব স্বরে, কাঁদে কুঞ্জ–পুঞ্জে_
উড়ন্ত ভ্রমর ক্লান্ত চোখে, মন খারাপের গুঞ্জে।
আকাশ কাঁদে মেঘের কোলে, বাতাস দুঃখে উড়ে
মায়ে তাঁহার ঘুমিয়ে রয়েছে সাদা কাপড় পড়ে।
মায়ের লাগি খাট পেতেছে লেবু গাছের নিচে
জনে–জনে দেখতে আসে কাঁদে অন্য পিছে।  
কাঁদার মত কে আর আছে এই জগত সংসারে?  
ছেলে ছাড়া আর কেউ নাই নিষ্ঠুর এই ভব ঘুরে!  
আজ দেখি কত মানুষ কেঁদে কেঁদে আসে
চোখের জলে গোপন ব্যাথা, আকাশেতে ভাসে।
দীপ্ত ছেলে কেঁদে–কেঁদে অজ্ঞান হয়ে যায়
মায়ের মুখেতে ভালোবাসা শিউরে উঠে গায়।
দুঃখীনি মায়ে, দুঃখের লয়ে, কত দুঃখ গায়
জীবন মায়ের দুঃখে–দুঃখে ফেলেছে গত পায়।
আজ বুঝি মায়ে নীরব হয়ে সুখের ঘরে যাবে
কবর কুড়েছে বাবার পাশে জান্নাতে ঘর হবে।


ঝরিতেছে ফুল লেবু গাছের, ঝরিতেছে চোখের জল
ফুলে–ফুলে আর্তনাদ, ব্যাথার কোলাহল।                
ভোরের সূর্য শীতল হয়ে আবছায়া আলো কাঁদে    
বাতাসে আসে চিৎকার ভেসে অদৃশ্য চোখ বাঁধে।
মায়ের লাগি বরই পাতা, কাঁদে গরম জল_
আগর বাতির ধোঁয়া নাকে, ঢালছে গোলাপজল।
ছেলের চোখে বাঁধ ভেঙেছে, রক্ত মাখে পানি
মায়ের শোকে আর্তনাদ চোখে মুখে গ্লানি।
মায়ে তাঁহার কেমন করে চুপটি করে আছে
ছেলের কত আত্মবিলাপ, মরণ চোখে বাঁচে।
ঝরিতেছে বৃষ্টি চোখে–চোখে, দৃষ্টিতে করুণ বিলাপ
মায়ের লাগি কবর কুড়েছে, মাটি তুলে গোলাপ।


মায়েরে নিয়ে রওনা দিয়েছে, কাঁধে তুলেছে খাট
দীপ্তের কাঁধে মায়ের খাট, বুক ফাটে মাট।
রুদ্ধ শিকলে বেঁধেছে পা, হাঁটেনা—ছুটেনা মন
মায়েরে কেমনে কবরে শুয়াবে, আতংক রণ।
মায়েরে কবরে শুইয়ে, মাখে চরণ ধূলি গায়
মা–মা বলে চিৎকার করে, জড়িয়ে ধরেছে পায়।
মাগো-মা তোমায় ছাড়া কেমনে যাব বাড়ি
আমায়ও কবর দিয়ে দেও, যাব না মায়েরে ছাড়ি।
মায়ের সাথে রেখে যাও, মায়েরে দিও না কবর
মায়ের পায়ে জড়িয়ে রয়েছে, জান্নাতে দেও খবর।
সকলে মিলিয়া যত্ন করিয়া মায়েরে দিলো কবর
মায়ের কবরে শুয়ে রয়েছে, দীপ্ত হুঁশ নাহি খবর।


সকলে তুলিয়া বাড়িতে আনিলো, ধরাধরি করে
মাথায় পানি ঢালিতে লাগিলো, হুঁশ নাহি ধরে।
মায়ের লাগি ছেলেটির আজ কলিজা ফেটে যায়
মায়ে ছাড়া আর কেউ নেই, একেলা হয়ে রয়।      
হুঁশ আসে-যায় বার বার, চিৎকার করে কাঁদে
এমন করিয়া কত বার বেহুঁশ, কষ্টরা বুক বাঁধে।  


মায়ের একটি আশা ছিলো করিতে পারেনি পূরণ  
তাই বুঝি আজ দীপ্তের চোখে দুঃখের শত বরণ?
মায়ের আশা ছিলো, ছেলে করিবেকো বিয়ে_
মায়ের আশা পূর্ণ হয়নি, মায়ে নাহি আজ গাঁয়ে।
এই আকুতি বলে বলে চিৎকার শুধু করে_
বার বার বেহুঁশ হয়ে, হায় হায়_যায় যায় মরে।    


বার

দীপ্ত আজ ভীষণ একা, কেউ নাহি তাঁহার গৃহে
আপন বলতে কেউ রইলো না, ছোট্ট তাঁহার গ্রহে।
গ্রহে তাঁহার আলো নাহি, জোনাক জ্বলে মিটি_
দূর আকাশে আরেকটি তারা লিখেছে আজ চিঠি।
তিনটি তারা জ্বলছে মিটি রাতের আকাশ জুড়ে
দীপ্ত শুধু কেঁদে-কেঁদে কলিজাতে দাগ পুড়ে।


রাতের আকাশ নীরব হয়ে কাঁদায় সারা গাঁও
দীপ্ত একা বসে আছে আনমনে হয়ে চাও।
ঘরে তাঁহার নীরব স্মৃতি কষ্ট দিয়ে যায়
মায়ের হাতের ঘর সাজানো রৌপ্য হয়ে চায়।
দেয়ালে ঝুলানো তিনটি ছবি সাদা-কালো হয়  
ছবির উপর হাতবুলিয়ে, কাঁচের ধুলো ক্ষয়।
ধুলো মুছে স্মৃতির ছায়া স্মরণ করে শুধু
দীপ্ত শুধু চেয়ে থাকে, ছবির ভিতর জাদু।
চোখে তাঁহার ধুলো জমেছে ক্লান্তির খরা পানে
স্বপ্ন ধূসর কালো রাতে দুঃখ কত জানে।
বালিশ ভিজে রক্ত ঝরে মায়ের ছবি দেখে
ভিজে আছে বুকখানি তার, মায়া মেখে-মেখে।
ছবির ভিতর রং জমেছে সাদা আর কালো
কাঁচের উপর ধুলো জমেছে, স্মৃতির ফ্রেমে আলো।


কেউ নাহি আজ কেউ নাহি, কেউ নাহি তার ঘরে
ঘরের ভেতর গুমরে রয়েছে নিজের মত করে।
এমন করিয়া কত দিন যায়, সময় হাঁটেতেছে পায়
বাবা, মা, বোন হারিয়ে গেছে, ফিরে নাকো–চায়।
আপন মানুষ হারিয়ে গেছে, না ফেরার দেশে
ঘুম চোখ ক্লান্তি শেষে খুঁজে আত্নার রঙ বেশে।


বিভীষিকার নিঃশ্বাসে সুখের দিন গুলি ঝরে পড়ে
বয়ে যাওয়া দিন নূতন তীরে, যতন করে গড়ে।
তীর ঘুরে কেউ নেই, কেউ আসিবে না ফিরে
ভাঙা তরী বেয়ে বেয়ে সুখেরও সন্ধানে ঘুরে।
আকাশে মেলিয়া ডানা রঙের গাংচিল উড়ে
বাতাসে কান পেতে শুনিছে, সুখ ঝরে পড়ে।


ঘর হারা পাখি, ঘরের খোঁজে, কোন ঘরেতে যায়
মরণের ভয়ে মৃত্যুর সাথে সন্ধি করেছে অভয়।
আবার নয়নে–নয়ন মিশিয়ে আদর অন্য ঘরে
খোদার কাছে আকুতি_মুনাজ, কাঁদে করুণ সুরে।
ছেলেটির আজ কেউ নেই, এই জগত সংসারে
পড়াশোনায় মন দিতে চাহে, নব নব সরোবরে।
কার তরে, কোন্‌ ঘরে, কোন্ ঘরে নেই মায়া
এঁকেলা তাঁর বসে না মন, দেও সুখের ছায়া।


হে খোদা কাঁদি তোমারও তরে আকুতি করিয়া
তুমি ছাড়া আর কেউ নেই তাঁর জগত ধরিয়া।
তুমি দেও সুখ, আলোর পথে, সত্য মানুষ রূপে
দিশারী চোখ শান্ত করে দেও, নীরব সুখ ছেপে।


তেরো

পড়াশোনা তার শুরু হলো নতুনে যতন করে
খুব খেয়ালে মন দিয়েছে, গত দিনের তরে।
লক্ষ্মীপুরের কলেজেতে পড়াশোনা তার শুরু
মায়ের দেওয়া আশীর্বাদে, হবেন শিক্ষক গুরু।  
পড়াশোনার পাশাপাশি টিউশনি সে করে  
নিজের খরচ নিজেই দিবে, কে কার তরে?
কষ্ট কত দীপ্ত জানে, কষ্টের সাথে থাকে_
কষ্টের সাথে উঠা বসা, কষ্ট তাঁহায় ডাকে।
এই জীবনে কে রবে কার সে জানে কষ্টের কথা
কষ্টের মাঝে কেটে যায়, কষ্টের গোলাপ গাঁথা।
গোলাপ ছিঁড়তে কাঁটা লাগে, সুন্দর আহরণে
চোখ রেখেছে কষ্টের মাঝে সুখ যাবে বিহনে।
এই ভবে কত কষ্ট, ছুটে যায় পথে হেঁটে
জুতা জানে কষ্ট ক্ষয়ের, কত চিৎকার ঘাটে।
হেঁটে-হেঁটে কত পথে, কত ঘরে চোখ পড়েছে
অন্ন-করে নীরব চিৎকার কেউ কি আর শুনেছে?


পড়তে বসে খালি পেটে, খাবার উঠেনা মুখে
অন্য ঘরে জোর করিয়ে খাবার দেয় মুখে।
কেউ সুখের তরে উড়ায় সময়, গাড়িতে চড়ে
কেউ স্বপ্নের ঘরে, সুখের ভেলা, কষ্টের মাঝে উড়ে।
নিঃশ্বাসে কারো দীর্ঘশ্বাস, বিশ্বাস হয় খাঁটি
মানুষ আমরা মানুষ তবে গায়ে মেখেছি মাটি।
দীপ্ত এখন বিশ্বাস নিয়ে রয়েছে সুখে বেঁচে
খোদার কাছে প্রার্থনা তাঁহার সত্যের সাথে আছে।
মায়ে তাঁহার বলেছিলো এক দিন সত্য পথে চলিস
মানুষ কুলে সত্যের জয়, সত্য কথা বলিস।
জীবন তাঁহার ধূলি জমেছে, মুছে কষ্টের ঘামে
সত্য পথে সরল পথে_পা নাহি তাঁর থামে।
একা একা দূর্গম পথে, সঙ্গী সাথে ছায়া_
কেউ এসে দেয় না একটু ভালোবাসা মায়া।
এই স্বার্থ দুনিয়াতে কেউ নেই কারো সাথে
নিজের খাবার নিজে-নিজে মুখে নেয় তুলে।
'ন্যায়-অন্যায়ের প্রতীবাদে হুংকার তুলে সে'
অসহায়ের মুখে তাকায় না কেউ একটু হেসে।
পড়াশোনায় মন দিয়েছে, পড়ে লক্ষ্মীপুরে
লক্ষ্মী ছেলে, লক্ষ্মীর মত পড়তে বসে ঘরে।


এমন করিয়া গতর পুড়িয়া, পড়াশোনায় মগ্ন
মায়ের আশীর্বাদে ছেলের স্বপ্ন হবে নাকো ভগ্ন।


চৌদ্দ


দ্বীপ্তের চোখে প্রেম জেগেছে প্রেমে অগ্নি ভয়_
লক্ষ্মীপুরের বৃষ্টি মেয়ে প্রেমের সূর্য উদয়।


বৃষ্টি মেয়ের প্রেমে পড়েছে, দৃষ্টির করে ঝলক
প্রেমের কথা বলিবে সে, রাখিবে কত পলক।
প্রেম নয় সে করতে রাজি, করবে সে যে বিয়ে!  
বৃষ্টিরে আজ বলবে সে মনের কথা গিয়ে।
বৃষ্টি মেয়ের অপরূপ মুখ, লজ্জায় হয় লাল!
বিয়ের কথা বলবে সে, গোলাপ মাখা গাল।


বৃষ্টির রূপ বর্ণনা


লক্ষ্মীপুরের লক্ষ্মী মেয়ে বৃষ্টির মত রূপ_
বৃষ্টি গায়ে মেখে মেয়ে হাসে অপরূপ।
দেখতে মেয়ে অপরূপা চোখে মেখেছে কাজল
চুলের বেণী দোলনচাঁপা, কালো-কালো উজ্জ্বল।  
নাকে তাঁর ঘাস ফুল সাজে, সবুজ হয়ে রয়
কান ফুলেতে জুমকা বাজে, জারুল ফুল দ্বয়।
বৃষ্টি মেয়ের মিষ্টি কথায় প্রেমে পরে যায়
কথার মাঝে মিষ্টি গাঁথা, রূপের সৃষ্টি গায়।
চোখে তাঁহার কাজল মাখা, কালো পাথরে মনি
চোখের মাঝে কত কথা, নরম প্রেমের খনি।
বাহু দ্বয় কলমিলতার, সবুজ নখে-নখে_
হলুদ পাখির আঙ্গুল যেন, রাধে চোখে-চোখে।
বক্ষ বাঁধিয়া কোমল মায়া, সবার মনে রাখে
অন্তরে তাঁহার নরম কথা সর্ব মনে থাকে।
চাঁদের মত মুখ খানি তার, চাঁদ দেখেছে হায়
চাঁদ যেন আজ উজ্জ্বল হয় বৃষ্টির রূপের গায়।
হাসির বাঁশি আকাশ গামী, কুকিল ডেকে যায়  
কন্ঠ যে তাঁর নজরুলের বাঁশি মধুর সুরে গায়।
ঝরিতেছে ফুল গায়ে–গায়ে, হাঁটে সবুজ গাঁয়
চোখের মায়া পড়ুক মাঠে, হাঁটে নরম পায়।
বৃষ্টি মেয়ের ঠোঁট দু'টিতে গোলাপ করে লাল
ঠোঁটের মাঝে তিলক রূপ, করিতেছে উজ্জ্বল।
সূর্য হাসে কপাল কোলে, হলুদ হয়ে রয়
হলুদ শাড়ি পড়েছে বৃষ্টি, রূপের সৃষ্টি গায়।
গাল মাখাতে সাদা আকাশ বরফ ঢেলে যায়
মেঘের ভেলা উড়িয়ে দিয়ে বৃষ্টি মাখে গায়।          
রংধনু সাত রঙে আকাশ করেছে সাজ
বৃষ্টি মেয়ের গা মাখানো রঙের কত ভাঁজ।
রাতের আলো দার করেছে বৃষ্টি গায়ের রূপ
চাঁদের গায়ে রূপ দিয়েছে বৃষ্টি অপরূপ।
বৃষ্টি মেয়ে হেঁটে–হেঁটে গাঁয়ের মেঠো পথে
সবুজের সাথে রঙ মিশিয়ে রূপ গেঁথে–গেঁথে।
পাখির সাথে মনের কথা বলে চুপিচুপি
পাখির সাথে খেলা করে হাস্য রুপিরুপি।
জোনাকিরা আলো খোঁজে বৃষ্টির_গা জুড়ে
জোনাকিরা জ্বলছে মিটি, বৃষ্টি রূপে ঘুরে।
বৃষ্টি মেয়ের রূপের কথা, বলার নাহি শেষ.....
রূপের কোলে ডুব দিয়েছে, রূপ সেজেছে বেশ।


আকাশ জুড়ে সাদা মেঘে, বৃষ্টি ঝরে ঘাসে?
বৃষ্টি মেয়ের রূপে আকাশ রঙিন হয়ে ভাসে।  
আকাশ থেকে ঝরিতেছে পাখির সাদ পালক
বৃষ্টি মেয়ে হাসিতেছে শুধু, নাকে দিয়ে নলক।
সাজিয়ে দিবে কে সে তাহায়, সাত সমুদ্র ঝলক?
বৃষ্টির রূপ ঘাসে ঘাসে পড়িয়াছে পলক।
বৃষ্টির গায়ে লজ্জা মাখা, লজ্জাবতী মেয়ে
লজ্জা পেলে লাল হয়ে যায়, সর্ষা ফুলে গায়ে।
ভোরের বাতাস ভিজিয়ে নিঃশ্বাস ঘাসে ঘাসে মাখে
স্নিগ্ধ হয়ে শান্ত মনে, চেয়ে আছে পাখির চোখে।  
সব ঘরে তার ভালোবাসা দাদু–নানুর সবাই  
সবাই তারে ভালোবাসে, মনের ঘরে বাঁধাই।
নরম ঘাসে, নরম পায়ে, নরম ভালোবাসা_
প্রকৃতির সাথে_গা মিশিয়ে দেখে স্বপ্ন-আশা।
বৃষ্টি মেয়ে রূপের বাহার ফুলে-ফুলে সাজে
কত ভ্রমর উড়ে-দূরে, ফুলে নাহি গুঁজে।
যতন করে রেখেছে রূপ, সত্য দিয়ে গায়ে
মনের সুজন রয়েছে চুপে, আসবে কবে গাঁয়ে।


বৃষ্টি নামে, বৃষ্টি নামে, বৃষ্টি মেয়ের চুলে_
বৃষ্টি মেয়ের ভিজিয়ে মুখ, বৃষ্টি হাসে কোলে।
কটিদেশে ভিজিয়ে দেয় ফুলের পরশ দিয়ে
বৃষ্টি মেয়ে লজ্জা পেয়ে, ফুল মেখেছে গায়ে।
বৃষ্টি গায়ে সাজ এঁকে দেয়, নরম হাতের সাজ
বৃষ্টি মেয়ে ভিজিয়ে শরীর নাচে চুপি আজ।
বৃষ্টির সাথে নাচে বৃষ্টি, সৃষ্টি কত সুখ
আনন্দ আর ছন্দ গায়ে, বৃষ্টির মুখে–মুখ।        
বিদুৎ চমকায় আকাশ পানে, আলোকিত দিন
বৃষ্টি মেয়ে চেয়ে চেয়ে আকাশ কালো জিন।  
দিনের আলো কালো_ কালো মেঘের কোলে
বৃষ্টি মেয়ের হাসিতে আকাশ সাদা হবে ফুলে।
কদম ফুলের সাদা পাপড়ি হাসে দুলে–দুলে
কলমিলতা ফুল ফুটাবে বৃষ্টির ফোঁটা পেলে।
বৃষ্টি মেয়ে বৃষ্টি হয়ে ঝরিতেছে ফুলে–ফুলে
ভালোবাসার গোলাপ কলি হাসে দুলে দুলে।
বৃষ্টির কোলে ঘুমিয়ে রয়েছে চোখে মেখে রং  
বকুলের গন্ধে বৃষ্টি মেয়ে করিতেছে কত ঢং।
বকুলেরও মালা গাঁথে বৃষ্টির সুতা দিয়ে_
বৃষ্টি মেয়ের চোখে মুখে কত ফুল রয়েছে ছুঁয়ে।


বৃষ্টির গায়ে বৃষ্টির শাড়ি পড়াইয়াছে নিজ হাতে
ঘুমটা দিয়ে বধুর সাজে, বৃষ্টি রবে সাথে।
সূর্য যদি উঠেনা আজ বৃষ্টি ভেজা মাঠে
সবুজ ঘাসে পা রাখিবে, ভিজিয়ে শরীর ঘাটে।
বৃষ্টি ভেজা হলুদ পাখি, গা ভিজিয়ে গাঁয়ে_  
সবুজ গাঁয়ে রঙ মাখিয়ে বৃষ্টি ভেজা পায়ে।
শালিক পাখি গা ভিজিয়ে গাঁয়ের পথে ছুটে
বৃষ্টি মেয়ে নরম পায়ে, নরম ঘাসে হাঁটে।
বৃষ্টি মেয়ে, বৃষ্টি মেয়ে, রূপ করেছে সাজ
বৃষ্টি মেয়ে সাজ এঁকেছে, বৃষ্টি কত আজ।


পনেরো_


নজরে–নজর পড়িয়াছে তব, প্রেমের আশির্বাদে
বৃষ্টির চোখে দীপ্তের চোখ পড়িয়াছে প্রেম স্বাদে।
প্রেম নজরে প্রেমের কথা বলে চোখে–চোখে_
বাহনিতে; প্রেম বুঝি আজ লুটাইবে দু'টি শাখে।
দু'_গাঁয়েতে পাখি উড়ে, এক গাঁয়েতে হবে
দূর গাঁয়েতে বৃষ্টির দেখা মিলন হবে কবে।
একটু–একটু প্রেমের কথা, প্রেম কি তবে হবে?
দীপ্ত প্রেমে হাবুডুবু দেয়, প্রেমের স্বর্গ হবে।
দীপ্ত–বৃষ্টির প্রেমের কথা গাঢ় হয়েছে সৃষ্টি
দু'টি দেহে একটি কথা, মন হবে এক দৃষ্টি।
লক্ষ্মীপুরের লক্ষ্মী মেয়ে বৃষ্টির মত রূপ
দীপ্ত প্রেমে মজনু হয়ে, দেখে শুধু চুপ।
এক কলেজে পড়াশোনা, এক কলেজে ক্লাস
দীপ্ত এখন সবসময়, থাকে বৃষ্টির আশেপাশ।
সব সময় নজরদারি, বৃষ্টির সাথে বাস
বৃষ্টি সুখের স্বপ্ন দেখায়, বাঁচার নিঃশ্বাস।    
প্রেম ঝুড়িতে ফুলের মালা, বৃষ্টি গাঁথে সাজ
দ্বীপ্ত এসে সাজিয়ে দেয় বেনী গোলাপ রাজ।
রৌদ্র মাথায় দ্বীপ্ত হাঁটে, প্রেমের ছায়া দিয়ে
প্রেমের পুষ্প ভিজিয়ে মনে, রাখে অন্তরময়ে।


পুষ্পে বাঁধিয়া ঘর রাখিবে অন্তর্জলে_
দীপ্তের চোখে বৃষ্টির ছোঁয়া, মনে-মন দুলে।
তৃষ্ণা মিটাইবে সুখেরও সংসারে_
বৃষ্টি তাঁহার অনন্ত জীবন, সুখ–দুঃখের বহরে।  


দীপ্তের মুখে_
গঙ্গার জলে প্রেমের বেলা বহিব দু'জন মিলে
রাত হয়ে যাক চন্দ্র আছে, লক্ষ তারা জ্বলে।
সূর্য ডুবা হলুদ আকাশ দেখিব গোধূলি মেখে
তোমায় দিব জোনাক পোকা, বৃষ্টি নামুক চোখে।


রাতের পরে রাত কেটে যায় দিনের নাহি খোঁজ
সারা জীবন তোমার চোখে, রবে চোখের বুঝ।      
ভালোবাসার কাঠগোলাপে রাখবে তোমার হাত
প্রেমের বেলা বহিব আজ জোনাক জ্বলা রাত।


আমার চোখে তুমি হাস রক্ত জবার মত
মায়া মুখে রক্ত জবা দিব তোমায় শত।
তোমার হাসি আমার চোখে থাকুক সারা জীবন
মন-চোখেতে তোমার লাগি বাঁধিব পুষ্পবন।


গল্প নহে, বাস্তব সবে, তোমায় ভালোবাসি
তোমার জন্য পুষ্প গেঁথে, সত্য রাশি–রাশি।
বিয়ের বাজনা বাজিয়ে তবে বিয়ে করবো আমি
তোমায় নিয়ে গড়বো ঘর, প্রেম স্বর্গ দামি।


দীপ্ত গিয়ে প্রস্তাব দিলো বৃষ্টির বাবার কাছে
বৃষ্টির বাবা রাজি নহে দ্বিমত ক্রোধে রচে।
প্রশ্ন তাঁহার, করিস কি ব্যাবসা_ নাকি চাকরি?
মেয়ে আমার কেমন থাকিবে, রাখতে পারবি সুখি?
বাড়িতে তোর কে–কে আছে সঙ্গে নিয়ে আয়?
কথা বলে দেখি একটু, কেমন তোর যায়!


দীপ্ত বলে একা আমি, আর তো কেউ নেই
সবাই আমার চলে গেছে, শুধু আমি রই।
আল্লাহ আছে আমার সাথে, আর কিছুতো নেই
আল্লাহ যদি থাকে সাথে আর কি আমার চাই।
ভালো আছি, সুখে আছি, প্রতিবেশীদের সাথে
সবাই আমায় ভালোবেসে ভাত তুলে দেয় হাতে।
মায়ে আমার কষ্ট করেছে, রেখেছে যতনে আমায়
আজ যদি মায়ে থাকিত ঘরে বাজিত ঘরে সানাই।  
আপনার মেয়ে সুখে থাকিবে কথা দিলাম আমি
গরীবের হাতে অর্থ নাহি,  প্রেম রয় স্বর্গ দামি।
প্রাণ দিয়ে ভালোবাসি বৃষ্টির মুখের হাসি
কষ্ট আমি দিবো নাকো বড্ড ভালোবাসি।
বৃষ্টি আমার মনের ভিতর রেখেছি যতন করে      
কষ্ট আমি কেমনে দিব, বৃষ্টি থাকে মন জুড়ে।


বৃষ্টির বাবা মানছে নাকো দীপ্তের কোনো কথা
খালি হাতে ফিরিয়ে দিলো, মনে দিয়ে ব্যাথা।
ভালোবাসা এমনি বুঝি, মনে দেয় কত ব্যাথা?
সত্য প্রেমের আলোক রশ্মী হয় নাকো মিথ্যা।
কত আকুতি দীপ্ত করে বৃষ্টির বাবার কাছে_
প্রেমের বিচ্ছেদ এখানেই শেষ, রক্ত চিঠি রচে।
দীপ্ত কেঁদে চলে আসে, ম্যাস বাড়ির ঘরে
এমন করিয়া প্রেমের বিচ্ছেদ, দিবে নাকো পুড়ে।


প্রেমের জন্য জান কোরবান, দীপ্ত পণ করে
মনের মাঝে বৃষ্টির ঘর, এঁকেছে যতন করে।
দীপ্ত–বৃষ্টির বিচ্ছেদ নয়কো, হবে মনের ঘরে
দু'জনের মন একই সুতো বেঁধেছে শক্ত করে।


ষোল_

পালিয়ে দু'জন বিয়ে করে পেলে, না শুনিয়ে ঘরে
পালিয়ে দু'জন চলে যায়, দূর কোনো বন্ধুর তরে।
কিছু দিন দু'জন পালিয়ে থাকে, ভয়–ভয় নিয়ে
বাড়িতে তখন জানাজানি হয়, ছিঃ ছিঃ– রটে।


রাগারাগি বাবা, পাষাণ পুষে, কঠোর ক্রোধ মনে
খোঁজাখুঁজি কত, দূর আকাশে, খোঁজে ধূসর বনে।
এমন করিয়া কত দিন যায় আসেনা মেয়ে ফিরে
বাবা–মা সব কষ্টে রয়েছে, আয় মা ফিরে ঘরে।
বাবা এখন শান্ত হয়েছে, কেঁদে যায় সারা বেলা
আয়রে মেয়ে ফিরে আয় ঘরে, খেলবি ঘরে খেলা।
তোর মায়ে কাঁদিতেছে কত, দেখবি এসে ফিরে
তোদের আমি মেনে নিয়েছি, আসবি কখন ঘরে?


খবর তখন আসে দৌড়ে, আসছে মেয়ে ফিরে
দীপ্ত সাথে, বাবার পায়ে কাঁদিতেছে জড়িয়ে ধরে।  
বাবা সব মেনে নিয়েছে, কাঁদিস নারে মেয়ে
ভালোবাসা বুঝি এমনি ভুলে যায় রক্ত ছিন্ন হয়ে।
ভুল ছিলো সব আমার ছিলো কাঁদিস নারে তোরা
ঘরে নিয়ে যাও, বৃষ্টির মা; জামাই–মেয়ের জোড়া।


ভালোবাসার জয় হয়েছে, সত্য প্রেমের জয়
সংসার তব শুরু হয়েছে, জীবন সুখের ময়।
আলোর কোলে মাথা রেখে, আলোর সাথে বাস
অন্ধকারে ঘুমিয়ে যাবে একটু খানি আয়েশ!  
মধু মিলনে রাত বয়ে যায়, সকাল সূর্য কবে
দীপ্ত–বৃষ্টি সুখে রয়েছে, সুখের জীবন ভবে।


দু'জন আবার পড়াশোনায় মন করেছে চাষ
ভব-সংসারে মন দিয়েছে, যাচ্ছে শত মাস।
টিউশনিতে মনোযোগ বেশ, সংসার চলে তবে_
পড়াশোনা আর সংসারেতে মিলন গভীর ভবে।
আলাদা বাসা নিয়েছে দু'জন, থাকছে দু'টি পাখি
ভালোবাসার মন ঘরেতে সুখ মেলে আঁখি।


সতের


মনে–মনে কত ভাবনা, দাগছে কত কথা
স্বপ্ন চোখে নিয়ম যত ভাঙছে শত ব্যথা।
কর্ম তাহার ধর্ম বলে, স্বচ্ছ চোখ রয়েছে মেলে
শিক্ষার আলো ঘরে–ঘরে, সুশিক্ষা পেলে।


পাঠশালা সে গড়ে তুলবে, পদ্মার মত করে
বিদ্যার সাগর বঙ্গভূমি মায়ের চোখের তরে।
দীপ্ত এখন পাঠশালা গড়বে আলো দিয়ে
আলোর পরশ স্বর্গ দিবে দু'নয়নে চেয়ে।


পাঠশালাতে পড়বে শিশু, ছোট্ট পাখির দল
আকাশ উড়ার স্বপ্ন নিয়ে, অসীম মনোবল।
হাসবে শিশু আপন মনে, গাইবে সাম্যের গান
সভ্য হয়ে অসভ্যদের করবে শিক্ষাদান।


জুলুমকারি, ব্যভিচারী, রক্ত চুষার দল
শিশুর শিক্ষা ভেঙে দিবে, অনিয়মের বল।
সমাজে যারা বিচার করে, খারাপ লয়ে লিপ্ত
শিশুরা সব বুঝতে পারে, মিথ্যের দ্বারে ক্ষিপ্ত।


পাঠশালাতে পড়বে শিশু, শিখবে কত পড়া
অজানাকে জানবে তারা, সত্য মনে গড়া।
পাঠশালাতে সত্য শিখায়, সত্যের স্বর্গ ছায়া
দীপ্তের চোখে স্বপ্ন খোঁজে, মায়ের স্বপ্ন ছোঁয়া।


দীপ্ত–বৃষ্টি শিক্ষকতা করছে মনের স্বাদে
পাঠশালাতে ছোট্ট পাখি আসছে দল বেঁধে।
পাঠশালাতে হাসি মুখে পড়ছে ছোট্ট পাখি
ঝাঁকে–ঝাঁকে কোমল পাখি, মেলছে স্বপ্ন আঁখি।


স্বপ্ন ছিলো পাঠশালা তার, দীপ্ত দিবে আঁখি
স্বপ্ন পূরণ হয়েছে আজ, উড়ছে কত পাখি।
পাঠশালা তার আলো দিবে গাঁয়ের ঘরে–ঘরে
ছোট্ট পাখি শিখবে সবি, সত্যের ভান্ড ভরে।


আঠারো_


দ্বীনের পথে চোখ রাখিলো, ঈমান আনিলো মনে
সত্য পথে ঘুরে ঘুরে, সত্যের সাথে রবে।
কুরআন মাজিদ পাঠ করিয়া, নামাজে গভীর মন
খোদার কাছে প্রার্থনা করে কাঁদে সারাক্ষণ।


পুষ্প বাঁধিয়া মনের তরে, গাহে সত্যের গান
চোখের ঈক্ষন করুণ সুরে বহে অন্তরে ঈমান।
গভীর রাতে কাঁদিয়া ডাকে খোদার নিকট
বাবা, মা, বোন কেমন আছে, কাঁদে চোখ বিকট।


সারা রাত কাঁদিয়া দোয়া করিলো সবার লাগি_
জান্নাত আসনে বসত দিও, কাঁদে মন পাখি।
কলবে তাঁহার খোদার জিকির স্বর্গ হয় উদয়
সত্যের দুয়ার খুলেছে কপাট মিথ্যের বিহার ক্ষয়।


উচ্চ ধ্বনি সত্যের বাণী, সবার তরে করিও প্রকাশ
সত্য কখনও মরে নাই ভবে, সত্যের দেয় বাতাস।
সারা দুনিয়ায় জানান দেও সত্যের নাহি ভয়
সত্যের মাঝে কণ্ঠ রাখিয়া, গাও গান জয়–জয়।


দীপ্ত এখনও করিতেছে যুদ্ধ, মিথ্যে মনের সাথে
সত্যের তরে ভক্তি করে, রবে সত্যের পুষ্প গেঁথে।
মানবিক ছাড়া দল নাহি আর ইসলামের আশির্বাদে
মানুষ মোরা ইসলাম নিয়ে, ঈমান মনে বাঁধে।


ঈমানের তরে মরিবে যে জন হবে স্বর্গ আসন
ঈমান ছাড়া মরিলে_ জ্বলিবে জাহান্নামের আগুন।
সত্যের বাণী ইসলাম দিবে, স্বর্গীয় অষ্টনাম_
স্বর্গের আশা, ভালোবাসা, ইসলাম কর সন্ধান।


উনিশ


স্মৃতির পাতা


ঘর খানি তাঁহার পড়ে রয়েছে নাহি কেউ সাথে
স্মৃতির পাতায় ধূলো জমেছে, স্মৃথির কাব্য রথে।
দেয়ালে ঝুলানো ছবি গুলোতে ধূলো জমেছে_
                                 মুছে দিবে কে?
ছবি গুলো আজ সাদা-কালো হয়ে আছে ফিকে।


ধূলো মাখা পাঞ্জাবীটা পড়ে রয়েছে ঘরে
ছেলেটি আজ থেকেও নাই, ঘরে নাহি ফিরে।
ছেঁড়া স্যান্ডেলটি কোথায় রয়েছে খবর নাহি জানে
উল্টো ফিতায় মোড়ানো ছিলো পুরনো কোন দিনে।  
ঘরের মাটি গর্ত হয়ে দিনে-দিনে শুধু ক্ষয়ে_
স্মৃতির পাতায় ধূলো জমেছে শান্ত নিবিড় হয়ে।
আসে নাহি আর ফিরে কেউ, ‘চরণ নাহি ঢালে’
মাকড়সা বুনিতেছে জাল, সারা ঘরতে ঝুলে।
পুকুর ঘাঁটে শ্যাওলা জমেছে, মায়ের হাত-নাহি ধুয়ে
মাছেরা আর আসেনা পাড়ে বহু রূপ সাজে গায়ে।
লেবু গাছটি একেলা রয়েছে পানি দিবে কোন জনে
লেবুর গন্ধ ছড়ায় না, গাছ গোমড়া রয়েছে মনে।
রসুই ঘরে ঘুণ ধরেছে, চুলাতে আগুন নাহি জ্বলে
লাকড়ি গুলো কয়লা হয় না, শুধু শুঁকনো হয়ে গলে।


কড়ই গাছটি দাঁড়িয়ে রয়েছে মাথা উঁচু করে
ছায়া দিয়ে যায় সারা বাড়ি, ভালোবাসা জুড়ে।
পেয়ারা গাছটি শুঁকিয়ে গেছে, শুঁকনো পাতা ঝরে
উঠোন জুড়ে পাতার স্তুপ, কে অচ্ছ-স্বচ্ছ করে?
  
“সন্ধ্যা বেলা জোনাক জ্বলে ঘরের চারি পাশে
মনে হয় যেন! হাঁটিতেছে মায়ে, পদ্ম গায়ে ঘেঁষে”


বাড়ি খানা আজ কবরে কবর, লাশেরা রয়েছে ঘুমে
বাড়িটি কেমন নীরব রয়েছে, মানুষে যেনো গুমে।
আশেপাশের ঘর গুলিতে মানুষের বড় অভাব_
মানুষ যাঁহা বেঁচে রয়েছে, কেমন জানি স্বভাব।
কেউ দেখেনা কারো চোখে, মুখ রয়েছে চুপে
ঘরের পাশে ঘর রয়েছে, দেয়াল টেনেছে ঝোপে।
লাশের মত নীরব আজ বাড়ির সকল মানুষ
পাখিরা সব উড়ে দূরে, উড়ে বেড়ায় ফানুস।
রাতের আঁধারে অন্ধ বাড়িতে, শোনশান নীরব
ঝিঝি পোকা ডাকিতেছে আঁধার, পেঁচা মুখে রব।
ঘরে ঘরে সবাই ঘুমিতে রয়েছে, চোখ রয়েছে মরা
বছরে বছরে বহু দেহ—লাশ, ‘শুকনোপাতা ঝরা’
বাড়ি খানাতে সুখের মেলা বসে ছিলো জানি কবে?
ভুলে রয়েছে নতুন দিনের, অন্যমনস্ক ভবে।
বাবা, নানার গল্প গুলো আর আসেনা ফিরে
গল্প গুলো ছবি হয়ে দেয়ালে রয়েছে ঝুলে।
সবুজে ঘেরা বাড়িটি আজ নীরব—শান্ত হয়ে
মৃত্যুর সাথে সন্ধি করেছে মানব দেহ ক্ষয়ে।


বার্ধক্যের দীর্ঘশ্বাসে মরণের গন্ধ


এখন আর আগের মত শরীরে জোর পাইনা
বাধ্যক্যের দীর্ঘশ্বাসে স্বচ্ছলতা হারিয়ে পেলেছি
নরম স্বর, চোখের ভাষা বিলীন প্রায়,
মন দুর্বল, শরীরের চামড়া রুক্ষ-শুষ্ক,
প্রকৃতির সাথে মিশা বড়ই কষ্ট সাধ্য_
                     অভিমানে অবাধ্য ।


আঠারের দ্বারে স্বপ্ন গুলো অনন্য
আবার যেতে চাই যৌবনার সিংহাসনে,
রক্ত তেজি, ফানুস উড়াবার সনে,
আবার জেগে উঠতে চাই, দুরন্ত ছেলেটির চোখে,
সবুজের গাঁয়ে হলুদ পাখিটি সেজে,
ঘুড়ি উড়াতে চাই; ধুলিবালি মেখে গায়ে ।
আমি আবার আঠারো হতে চাই আঠারো
শত-শত বার জন্ম নিতে চাই আঠারোতে ।


আকাশে তাকিয়ে জীবনের কথা ভাবি
চোখের জল গুলি বৃষ্টির সাথে মিশে যায়,
বৃষ্টিও জানে জমানো কষ্টের কথা
অপ্রকাশিত থাকুক মানুষের সম্মুখ্যে ।
সামান্য হাসি সূর্য বরণ করে নিয়েছে
        কষ্ট গুলোকে রোদ্দুরে শুকিয়ে ।


এখন আর আগের মত হাসতে পারিনা
কান্নার চেষ্টা করিনা,
অন্যের কষ্ট দেখে,
চোখের শুকনো জলে, কষ্টের ছায়া দেখতে পাই,
আমার কষ্ট গুলো অজানাই থাকুক_
                         বৃক্ষের মত ।


মাঝে মাঝে মনে স্বাদ জাগে, অবুজ শিশু হতে
মায়ের নরম কোলে, আদরের স্বাদ নিতে
মাটিতে গড়াগড়ি দিতে,
কাঁদতে-কাঁদতে হটাৎ হেসে দিতে !
সবার আদর গালে লেগে থাকবে দিন শেষে ।
রাতে মায়ের মুখে রাজ পুত্রের,
রূপকথার গল্প শুনতে-শুনতে
ঘুমিয়ে পড়বো অসময়ে ।


বয়স মাত্র ষাট !
গায়ে রঙ মেখে, সং সেজে
আবার যেতে চাই আঠারের দ্বারে ।
সত্যি; আজ বাধ্যক্যের স্বপ্ন গুলি ভীষণ এলোমেলো
সারা রাত জাগিয়ে রাখে;
ইদানীং জান্নাত-জাহান্নাম দেখি
কখনও কখনও কফিনে নিজের প্রতিচ্ছবি দেখি_
লাশের সাজে ।
কেহু আমার কথা শুনেনা
কেহু আমার কথা বুঝেনা
আমি আজ; মৃত্যুর কাছাকাছি,
বার্ধক্যের দীর্ঘশ্বাসে মরণের গন্ধ,  
মৃত্যু আমায় ডাকছে, একা ভীষণ একা ।