চার দিকে আকাশ নুয়ে পড়েছে বৃক্ষের ওপারে
পাহাড়, সাগর, বন, সীমান্তের ধারে_
এপারে ধানের খেতে মিশে-মাখে বাঙালির প্রাণ
বাঙালীর—বাংলা তুলেছে সবুজ নয়ন।
সরিষা ফুলে ফুলে আমি ভ্রমরা হয়ে
মধু লয়ে মিশাই বাংলার মুখে মুখে; স্বাদ ছুঁয়ে।


দোয়েল, শালিক, ঘুঘু, পেঁচা, বক, হাঁসটি_
রূপসী বাংলার বুকে নিজেরে দিয়েছে বিলিয়ে মিলিয়ে,
ভোরের বাতাস আমার দুঃখ দেয় ভুলিয়ে_
সূর্যের চোখে হেসেছে বাংলার বাটী, সবুজ হলুদ আঁটি।
অন্ধকারে জোনাকি জ্বলিতেছে রূপ জ্বেলে
বাঙালীর প্রাণ এই বাংলার বুকে, সুখ লয়ে কোলে।


রক্ত মাখা মাটিতে ছুঁয়ে যায় বুক, ময়ূর মেলেছে ডানা
ধূলিমাখা শরীরে রূপ ঝরিয়া পড়ে, আলো হয়ে;
ঘাস ফুল ফুটিতেছে রমণীর নয়নে—চেয়ে আয়না,
হাসিতেছে সবাই, মাটি মেখে গায়, বাঙালী হয়ে।
দেখিয়াছি কৃষকের মুখে লেপটে থাকা বাংলার হাসি,
সমগ্র বাঙালীর হাসি; কোকিল বাজাইতেছে বাঁশি।


আমি বাঙালী, বাঙালী, খাঁটি বাঙালী, বাংলার মাটি
বাংলা আমার প্রাণ, মাখিয়াছি মাটি, বাংলার মাটি।