সিন্ধু পারের চিঠি
-------------------------
তুমি আজ অনেক দূরে, তাই একটু অভিমানী৷
সবার মাঝে থেকেও আমি অনেকটা সাবধানি৷


তুমি আছো গড়ার নেশায়, শৃঙ্গ ছুঁতে চাইছো,
আমার জীবন গতানুগতিক,তাই দেখে কি হাসছো?


আমি আছি পর্দানশীন, বিশ্ব আমার ব্রাত্য.
তোমার পথের সঙ্গী হওয়ার নেই যে আমার সাধ্য.


তোমার চোখে সারা জগৎ বিশ্বায়নে বিশ্বাসী,
তবু আমি তোমার থেকে ভালোবাসার প্রত্যাশী.


নাই বা হলাম তোমার মতো, সুঠাম-সরল-প্রত্যয়ী,
তোমার চাওয়ার শরিক আমি, হৃদয়ে আজও অনুদ্বায়ী৷


চলতি হাওয়ায় ভরসা হারায় বিশ্বজনীন মন তোমার,
ভাবছো বুঝি পথ হারালো সম্পর্কের সেই রূপকার.


মানছি আমি পাল্টেছে যুগ, বদলে যাওয়াই সঙ্গত, সঙ্গীবিহীন একলা প্রাণে থাকবো কি আর অক্ষত?


ভাঙবে যদি, গড়লে কেন; বেশ তো ছিলাম একলাটি.
স্মৃতির মাঝে পুঁজি হয়ে গড়লে কেন এই ঘাঁটি?


চড়ছে পারদ অভিমানের, আমিও তার অংশীদার,
জেনে রেখো তুমিই তো সই এমন ভাবের সূত্রকার৷


বলছি যে তাই এক নিমেষে আবার চলার সঙ্গী হই,
এই জুটির সাথে বৃষ্টি নামুক অঝোর ধারায় প্রাণ অথৈ৷


                   ----- শ্রাবন্তী গোস্বামী