আজ আসরে ৩০০তমো কবিতায় আমি। এ এক অন্যতম অনুভুতি,সত্যিই এটা আমার কাছে অন্য রকম ভালো লাগা এবং নিরলস সাধানার প্রয়াস।আমি জানি সংখ্যার দিক টা বড় না,বড়  হচ্ছে কবিতার গুনগত মান এবং পাঠকের ভালো লাগার ব্যাপার টা -কিন্তু জান-প্রাণ চেষ্টা করেছি প্রতিদিন  অন্তত  নতুন ভালো কিছু দেওয়ার ।


আমি মূলত উপন্যাস লিখি সেই ছোট বেলা থেকে। ২০০৪সালে আমার প্রথম উপন্যাস'মনে রেখো আমায়' এবং 'দুই মোহনায় আমি' প্রকাশিত হয়-এর পর থেকে আমার উপন্যাসের পান্ডুলিপি রচনার সংখ্যা বাড়তে থাকে -কিন্তু সময়ের সাথে যুদ্ধে আমার জীবন যুদ্ধের ব্যস্ততা অনেকটা পিছিয়ে নিয়ে গেলো সাহিত্যের কবল থেকে । তাই প্রকাশ করা হয়ে উঠে নি।


কবিতায় যখন যেভাবে আমিঃ- আমার প্রিয়তমা স্ত্রী রুম্পা শিমুল আসরেরই কবি (অনেকেই হয়ত তাঁকে চিনে থাকবেন)তাঁর প্রেরণা পেয়েই আসলে আমি মূলত এই আসরে প্রবেশ করি -আমার আইডি টা তিনিই খুলেই দিয়েছিলেন অনেকটা জোর করে। প্রবাস জীবনের গতিময় তুখর ব্যস্ততায় আমাকে এত টা ব্যস্ততায় বন্দি করে রেখেছিলো যে সাহিত্য নিয়ে বসার সময় ও হয়ে উঠেনি ।ঠিক তখনি আমার স্ত্রী আমাকে কবিতা লেখার ব্যাপারে জোড় খাটাতে লাগলেন। আমি আগে কখনো কবিতা  লিখতাম না।তবে প্রচুর কবিতা পাঠ করতাম -বেশির ভাগ ক্ষেত্রে তাঁর লেখা কবিতা ।কেউ যদি আমায় প্রশ্ন করেন আপনার প্রিয় কবি কে ? আমি তখন জোড় গলায় আমার স্ত্রী কে দেখিয়ে  দিবো।


নিয়ম মেনে চলা আমার পছন্দঃ- আমার একটা অভ্যেস আছে আর সেটা হচ্ছে কোন কিছু একবার শুরু করলে সেটা আমি সহজেই শেষ করতে পারি না । এবং নিয়ম মাপেক করার চেষ্টা করি । তাই তো এই আসরে আমার প্রথম  কবিতা প্রকাশিত হয় ১৯/০৩/২০১৪ তারিখে থেকে যে শুরু করলাম চেন্নাই এক্সপ্রেস কিংবা দূরন্ত এক্সপ্রেস এর মত ছুটে এসেছি বিরাম হীন পথে টানা ৩০০দিনে ৩০০টি কবিতায় মানে আজকের ১৪/০১/২০১৫ মধ্যে ।এ এক অবাক করা কান্ড!!! আমি জানি না অতীতে আসরে এমন ভাবে কেউ নিয়মিত কবিতা প্রকাশ করে,এমন ইতিহাস কেউ করেছেন কিনা ?


যাঁদের মূল প্রেরণায় এতদূর আসাঃ- আজ আমার ৩০০তমে আসার একমাত্র প্রেরণাদায়ক হচ্ছেন আসরের সকল সম্মানীত কবিমন্ডলীগণ আবার পাঠকমহল -তাঁরা যদি আমায় দৈনন্দিন উত্সাহ দিয়ে না আসতেন তাহলে আমার দ্বারা কোন দিন ও ৩টি কবিতা লেখা সম্ভব  হতো না।আসরের সবার ভালোবাসা আমাকে বিশেষ ভাবে  অনুপ্রাণিত করেছে। আমরা সবায় ভার্চুয়াল কাব্যসহযোদ্ধা আর এই ভার্চুয়াল থেকে বাস্তবে আসার আমি একটি  উপায় খুঁজে পেয়েছি সেটা হলো আগামী ১৪ ফেব্রুয়ারীতে আমার কাব্যগ্রন্থ "অর্ঘ্য" ২১শে বইমেলায় মোড়ক উন্মেচন করা হবে । আর সেখানে যদি আসরের সবায় আসেন তা হলে বেশ  খুশি হবো।আমার কাব্যগ্রন্থটি মেলার ২য় দিন থেকে জাগৃতি প্রকাশনী" স্টলে পাওয়া যাবে  বলে আশা রাখছি। নতুবা যোগাযোগ করতে পারেন [email protected]/ মোবাইলঃ- 008801620760300 ।


আমার আজকের এই দিনে পিছনের ৩০০টি দিনে আমি আমার মনের অজান্তে যদি কারো মনে কোন কষ্ট দিয়ে থাকি -তাহলে আমি তাঁদের কাছ থেকে আন্তরিক ভাবে ক্ষমা চাচ্ছি ।প্লিজ আমায় ক্ষমা করে দিবেন, এক সাথে মানুষ হাঁটতে  গেলে ধাক্কা লাগতেই পারে তাই না -তাই বলে মনে কিছু না রাখাই ভালো ।আসরে কারো প্রতি আমার কোন রাগ কিংবা ক্ষোভ নেই ,আছে সবার জন্য আমার উজাড় করা ভালোবাসা,এবং বহমান থাকবে আজীবন।তাই 'আসুন ভাসুন কবিতায় হাসুন, কবিতা লিখুন,খুশিতে থাকুন'এবং ভালো থাকা হয় যেন.... ।


বিঃদ্রঃ- আমার আজকের এই ৩০০টি কবিতা আমি আসরের সকল সম্মানীত কবি এবং পাঠকদের কে উৎসর্গ করলাম।