হারিয়ে যাওয়া আমার সে বিদূষী রমণীকে বলছি
এখনো কেনো যেনো মনে হয়, আপাত বিরহী সে নারী,
তাকে বলছি
তোমার অনন্বয়ী অব্যয় ধ্বনি ‘আহা!’
জাগায় না আর শিরদাঁড়ায় শিহরণ অথবা অনুরাগ
তোমার আহা! হয়ে গেছে আমূল বারোয়ারি


মনে আছে,
এক ঘোর বর্ষার দিনে, আদ্রতাপ ঘামে
আর বৃষ্টিতে ভিজে একসা,
পরিধান যেন আরেক পরত বিরক্তিকর লেপ্টানো ছাল
ট্রাফিক জ্যামে শহর যখন অসম্ভব গ্রন্থিতে
পাকানো দড়ির মতো আটকে পড়া নিথর শুনশান
কোনো যানেই আর অবশিষ্ট নেই বিদ্যমান মমতা
হেঁটে হেঁটে প্রায় সাতক্রোশ, নিয়ে গিয়েছিলাম বা
এখন বলা আরো যৌক্তিক, নিয়ে যেতে হয়েছিলো
তোমার জন্মদিনের ফুল, তুমি বলেছিলে, আহা!


এক আসনতান্ত্রিক গণজাগরণের প্রবল অবরোধে
ইট পাটকেল আর ককটেলের বুহ্য ভেদ করে
আসন উদ্ধারী লকলকে দ্রোহের মতোই কাঠফাটা রোদে
হেঁটে হেঁটে আমাকে যেতে হয়েছিলো
তোমার চোখের অশ্রু মুছে দিতে, এখন আর মনে পড়ে না
কোন খেয়ালী কারণে নির্গত হচ্ছিলো সে অশ্রু,
সেদিনও বলেছিলে, আহা!


তারপর আরেকদিন, তোমার শরীরে ১০৩ ডিগ্রী তাপ
আর আমার ক্ষুদ্র থলের নির্দিষ্ট কক্ষের নিবিড় অনুতাপ
মিলেমিশে আমি যখন বিকারগ্রস্থ প্রায়  
কাঁপা হাতে আমার হাত ছুঁয়ে বলেছিলে, আহা!
মানতে আমি বাধ্য, তোমার এই আহা-টি ছিলো
প্রেমোষ্ণ আহাসমষ্টির মহাসড়ক মাঝে
উন্নত ইতালিয়ান মার্বেলে তৈরী এক পৃথক মাইলফলক


কোনো এক চাঁদভেজা শরীরীক্ষণে, তুমি একটি কবিতা চেয়েছিলে
একটানা কয়েকদিন নিদ্রাহীন জেগে, আমি চষে বেড়িয়েছি
জীবনানন্দের কষ্টের শস্যক্ষেত, খুঁড়েছি ট্রামলাইনে
তার আত্মাহুতির বিপন্ন বিস্ময়
আর সাথে সুকান্তের ঝলসানো পৃথিবীর আকুতি
আমি তোমার জন্য যোগ্য ধ্রুপদী একটি কবিতা গড়তে চেয়েছি
তাই ছিলো এত পরিশ্রম, কবিতা হাতে নিয়ে পড়ার আগেই,
আমার রাত্রিজাগা ছাইয়ের মতো চোখ দুটির দিকে তাকিয়ে বলেছিলে, আহা!


চলমান এসব আহা-দের মাঝেই হঠাৎ খুঁজে পেলে একদিন
আহা! প্রক্ষেপণে মোক্ষলাভের উপযুক্ত ক্ষেত্রফলটি
এখন তোমার সর্ব আহা-গুলো নিপতিত হয় জীবন নিরাপত্তার বেষ্টনীটির বুকে
এবং বেষ্টনীর ঘেরে আগত কোনো কোনো অতিথি প্যাঁচাদেরও বলো
তুমি, আহা!


আমাদের রেললাইন বহুদিন হয়ে গেলো চলছে সমান্তরাল
তবু এখনো, যেন কুহকী কোনো ভ্রমর গুঞ্জনে
দুরালাপনিতে মাঝে মাঝে আমাকে বলো, আহা!
সেকি পুরোনো অভ্যেস কাতরতা?
তোমাকে বলা উচিৎ, আমি কিছুই অনুভব করি না, কিন্তু বলা হয় না


যে আহা-টিকে ভেবেছিলাম এক অনন্য অনন্বয়ী অব্যয় ধ্বনি
শুধু আমার এবং আমার ভালোবাসার
ধ্বনি সম্পদটি!, তুমি নির্মম কেড়ে নিলে একদিন।


যে বিভা তোমার ধ্বনিটির ’পরে উপহার দিয়েছিলো আমার নক্ষত্রেরা
ওরা ফিরিয়ে নিয়েছে তা, বিভাবর্জিত শুষ্ক আজ, তোমার সকরুণ সব, আহা!।


(১৩.০৫.২০২০)