(দুঃখিত কবি বন্ধুরা, এ কবিতার আকারটি বড়; সারা পৃথিবীতে গুঞ্জরিত ষড়যন্ত্র তত্ত্বের ভিত্তিতে এ কবিতা রচিত। ভবিষ্যতই আমাদের বলে দেবে আসলে কি ঘটেছিলো, কে দায়ী? এখানে আবার আরেকটি শঙ্কা আমি এঁকেছি, তা এ ধরায় যুগের পর যুগ ধরে চলছে; আমার সে শঙ্কা অমূলক নয়। বাংলা কবিতা ওয়েবে এ কবিতা প্রকাশকাল পর্যন্ত শেষ সংবাদে জানা গেলো, বাদুড় দায়ী! আমার “করোনা এগারো”-তে লিখেছি ছড়া ছন্দে, “ইদুর বাদুড় খাস! কি যে মজা পাস?” সেক্ষেত্রে চীনের খাদ্যাভাস দায়ী তথা চীন দায়ী। চীন প্রাথমিকভাবে আরো দায়ী করোনা ধামা-চাপা দেয়ার জন্য। তবে অচিরেই হয়তো সত্যি হতে চলেছে আমার অবহেলিত “করোনা দশম”-এ যে দিনটির স্বপ্ন আমি এঁকেছি বা দেখেছি কবিতার চোখে।)
---------------------------------


কি, করছো কি তুমি চীন?
প্রাচীর কেনো আরো উচু করেছো?
কেনো ঘাঁটতে দিচ্ছো ষড়যন্ত্র তত্ত্ব আমাদের
দরজা খুলে দাও
বিপদ যে বাড়ছে তোমার প্রতিদিন
এত মৃত্যু
পুরো বিশ্বের ক্ষোভ সামলাবে কি করে, যদি ফেটে পড়ে


চীন, তুমি প্রস্তুত হও
তোমার হলুদাভ একগুঁয়েমিতে তুমিই ধরা পড়ে যাচ্ছো প্রায়
প্রমাণিত হলে পালাবার পথ নেই


তোমার দেশের করোনা
সৃষ্টি করেছে গভীর নৃতাত্বিক অভিঘাত
ইতিহাসে এরকম ঘটেনি কখনো
গত চলি­শ বছর যে বিশ্বায়নের পথে মানুষ হাটছিলো
তোমার করোনা থেকে উদগত অবিশ্বাস সে পথ রূদ্ধ করে দেবে আজ  


প্রথম থেকেই আমাদের মনে রোষ আর প্রশ্ন ফুটছিলো
অতি ধীর প্রবাহমান লাভার গায়ে উত্তপ্ত ছোট ছোট বাটি বুদ্ব বুদ্ব এর মতো


সত্যাণ্বেষীরা নেমে পড়েছে মাঠে, চীনের মাটি খুঁড়ে খুঁড়ে
ক্ষুদে ক্ষুদে চোখের ভেতর থেকে লুকোনো মিথ্যে তুলে আনা হবে


কেনো ফুটতে দিচ্ছো টগবগ, ষড়যন্ত্র তত্ত্ব?


উহান প্রদেশের ঔ ভাইরোলোজী ল্যাবটি কিসের, কি হচ্ছিলো ওখানে?
শুনতে পাই, ইউএস এর বায়ো-ওয়েপেনের ফর্মুলা চুরি করে
গোপনে তোমরা করোনা কালচার করছিলে
অসাবধানতায় ফ্লাস্ক ভেঙ্গে হয়তো করোনা ছড়িয়েছে প্রকৃতিতে


ইতালির প্রথম করোনা কেইস, তোমারই দেশের এক দম্পতি যুগল,
জানুয়ারীতে ইতালি এসে ট্যুরিস্ট বাসে আরো একশ চীনাদের সাথে
ঘুরে বেড়ায় পুরো ইতালি জুড়ে
মিলানে কেনো ঐ চাইনিজ মেয়েটি, “আমি ভাইরাস নই, আমাকে আলিঙ্গন করুন”প্ল্যাকার্ড ঝুলিয়ে জাত প্রেমিক ইতালিয়ানদের প্রলুব্ধ করছিলো?
ফ্লোরেন্সে মাস্ক পরিহিত আরেক চাইনিজ, পথচারীদের তাকে আলিঙ্গন করবার জন্য কেনো অনুরোধ করছিলো?
টেস্ট করানো ছাড়াই বিমানে করে কোন কোন দেশে পাঠিয়েছিলে চীনাদের তুমি?
উন্নত রাষ্ট্রগুলো পেরেই উঠছে না করোনার সাথে
তোমরা কি করে করোনা থামালে এত তাড়াতাড়ি
ভ্যাকসিন কি তাহলে আছে তোমাদের কাছে?
সারা বিশ্বে ধ্বসে পড়া অর্থনীতির মাঝে তোমার অর্থনৈতিক ভিত কেনো কেঁপে ওঠেনি তেমন করে


সন্দেহের দানা বহন করে বুকে
আমরা লড়াই করে যাচ্ছি করোনার সাথে


ওয়াশিংটনের সাদাডোম বাড়িটির অধিকারী হবার পরে
প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প আরো আগ্রাসী আরো বায়ুগ্রস্থ
সন্দেহের দানা তার মাথায় বিষ্ফোরিত হয়ে গেছে
চীন, তোমাদের পিছু সে আর ছাড়বে না
WHO এর ফান্ডিং বন্ধ করে দিয়েছে এবং শাষাচ্ছে তোমাদের - পরিণতি ভালো হবে না
মনে রেখ, ক্ষমতার সর্বোচ্চ চূড়ায় সে বসে আছে সর্বোচ্চ সমরশক্তি নিয়ে
তোমাদের বন্ধ দরজা সে ভেঙ্গে ফেলবেই


চীন তাকিয়ে দেখো, ত্রস্ত হও, খুব ভীত হও


ফরাসী, ইংরেজ, স্প্যানিশ, তুর্কি,
ইতালিয়ান, জার্মান, পারস্য থেকে


তর্জনী উঠছে
কোটি কোটি তর্জনী উঠছে উর্ধ্বে
তর্জনীর সমুদ্র
পশ্চিম থেকে তর্জনী দেখাচ্ছে পূর্বদিক
তর্জনীর চোখে যুদ্ধের ক্ষিপ্রতা জেগে উঠছে


রুশেরা কেনো যেন শুধু একটু নিশ্চুপ!


আজ যদি হায়! আমার মাতৃভূমি বাংলাদেশ
থেকে ছুটে যেতো সারা বিশ্বে করোনা
উত্তরে উড়ে আসতো শত শত বোমা
গুড়িয়ে দিতো আমাদের কোনো প্রশ্ন ছাড়াই


তুমি শক্তিশালী, তবুও বাঁচবে না তুমি!


যদি আমরা জেনে যাই, তুমিই দায়ী
যদি আমরা প্রমাণ করি, তুমিই দায়ী
পৃথিবীর এত এত অহেতুক মৃত্যুর!


যদি প্রমাণ হয়েই যায়


তাহলে সেটা - সারা বিশ্বের উপর তোমারই যুদ্ধ ঘোষণা
তাহলে সেটা - তোমারই ’পরে, তোমারই ডেকে আনা, সর্বনাশী যুদ্ধের দামামা!


তোমাকেই গ্রাস করবে তোমারই করোনা!


(রচনাঃ ২১.০৪.২০২০)