আমরা রবীন্দ্রনাথ পড়েছি, পড়েছি জীবনানন্দ দাশ, সুকান্ত ভট্টার্চায,শক্তি চট্টোপাধ্যায়, সুনীল গাঙ্গুলী, শামসুর রাহমান, মহাদেব সাহা, নির্মলেন্দু গুন, কত না বড় বড় কবিদের কবিতা। ঝরঝরে ভাষায়, সহজ সাবলীল শব্দের সমাহারে তাঁরা লিখেছেন অনবদ্য সব কবিতা। অতিমাত্রায় অলংকৃত আর কঠিন শব্দের ভীষণ ভারে তাঁদের কবিতা হয়ে পড়েনি নুজ্ব্য। তাদের ‘শব্দ’ জ্ঞানের ব্যাপারে আমাদের কারো কোনো দ্বিধা নেই। তবুও তাঁরা অলংকৃত শব্দগুলো ব্যবহার করতেন মিতমাত্রায়, শুধুমাত্র কবিতার পঙক্তির সাথে যুতসই হলে পরে, নতুবা নয়। একটি কঠিন শব্দের পিঠে আরেকটি কঠিন শব্দ জুড়ে কবিতা সৃষ্টির কোনো ইচ্ছে, প্রয়াস বা প্রয়োজন তাঁরা বোধ করেননি।


কবি যদি চান, তার কবিতায় থাকুক ধোঁয়াশা, থাকুক রহস্য, বেশ, সাবলীল শব্দমালায় তা সহজেই সৃষ্টি করা যায় । এতে অন্তত পাঠরসে কোনো ব্যাঘাত ঘটে না।


অলংকার ব্যবহার করবো না কেন, অবশ্যই করবো, তবে যুতসইরূপে। ঝরঝরে ভাষায় লিখে যাবো অনন্ত অসীম কবিতার পঙক্তি, একের পর এক, প্রকাশ করে যাবো হৃদয়ের সমস্ত অনুভূতি, সে অনুভূতি সঞ্চারিত হবে অনায়াসে পাঠকের হৃদয়ে, ঝরঝরে অনায়াস শব্দের মাধ্যমে।


বুঝি আর না বুঝি, কবির কবিতাটি কি বলতে চায়, কিন্তু অবশ্যই পাঠকের মনে সহজ সাবলীল শব্দে কবিতাটিকে সৃষ্টি করতে হবে এক অপরূপ অনুভূতি । সেখানেই কবিতাটির সাফল্য। সহজেই বেড়ে যাবে কবির গুনগ্রাহীর সংখ্যা।


১৭.০৪.২০২০