সাবেরা,


তোমাকে লিখছি না;
যে সাবেরা হঠাৎ গড়েছো আজ বন্ধুত্ব,
আমার বন্ধুর সাথে সিডনিতে, তাকে নয়;
চব্বিশ বছর আগের স্মৃতি মন্থনের উষ্ণ জোয়ারে জেগে ওঠা,
                                 সহপাঠী সাবেরাকেই লিখছি;


ঢাকা ইউনিভার্সিটির, সোনালী রুপালী রাঙতা মোড়া দিনগুলোর,
গুঞ্জরিত যুবতীকেই বানিয়েছি এই কবিতার বিষন্নতার খুঁটি;
আদিম বহুগামিতাবোধের অন্তর্লীন সত্তার যে নির্দিষ্ট একটি স্রোতে
তুমি ভাসাতে আমাকে, তাতে ব্যারাজ দিয়েছে হৃদয়, আরো অনেক আগেই;
এবং তোমার বর্তমান চিত্রপট দেখবার সাথে সাথেও, নিহত হলো মুগ্ধতা!
এটাই বহুগামিতার বৈশিষ্ট্য! বহুগামিতা মানেই শুধু মাংসাশী আস্বাদ নয়;
বরং রমণীদের সৌন্দর্যে, হৃদয়ের নরম জমিন থেকে জমিনে,
অনাবিল বিশ্রামের তন্ময়তা;


বাকীটুকু পড়ার আগে, মনটাকে একটু কবিতার রঙে রাঙিয়ে নাও,
না হলে রাগ হতে পারে; মধ্যবয়সে পৌছে গিয়েছি, জিজ্ঞেস করতে আর কি বাধা!
বিয়ে করে ভার্সিটি এসেছিলে কোন আক্কেলে?
তখন তোমার সুডৌল বক্ষে, ঝোলানো ছিলো নো এন্ট্রি সতর্কতা,
তাই তখন সাহস হয়নি এ প্রশ্নটি করার;
পেঁকে যাওয়া পেঁপের মতো, নবম দশম শ্রেণীতেই প্রেমপর্ব শুরু করেছিলে?,
তারপর ভার্সিটি প্রবেশের ঠিক প্রাক্কালে, বিয়ে সমস্যার সমাধান?
নাকি “ভার্সিটি পড়তে যাচ্ছে মেয়ে, এখনি দিয়ে দাও বিয়ে,
কখন কোন গাধাকে জামাই করে নিয়ে আসে”,
এ দুটো ধারণাবৃত্তের কোনটি সঠিক, বলোতো আমাকে?


আমার কেনো যেনো মনে হতো,
শহরের দক্ষিণে পুরোনো নবাবী এত্যিহের মাঝে বেড়ে ওঠা কোনো মেয়ে তুমি,
যেখানে মানুষের সাথে মানুষের সম্পর্ক অনন্য:


যে বন্ধুর বন্ধু হলে আজ অকস্মাৎ!
কৈ, আমারতো মনে পড়ে না তার সাথে কথা বলার কোনো মুহূর্ত?
তুমি কি জানতে, আমার এ বন্ধুটির পাওয়া ফার্স্ট ক্লাস,
অন্য নীরস গাধাদের ফার্স্ট ক্লাস থেকে যোজন যোজন দূরত্বে
স্বমহিমায় উজ্জ্বল আর মূল্যবান!
কারণ, সে তার বন্ধুদের পড়া সহজ করে দিতো জলের মতো,
তারপর আড্ডা দিতো মধ্যরাত পর্যন্ত,
বন্ধুদের অনন্ত অনুরোধ রক্ষা করে কখন যে পড়তো?,
কি সংক্ষেপে উত্তর লিখতো, তারপরও ফার্স্ট ক্লাস!


রত্ন চিনবে, কিন্তু পাশের জহরতটি থেকে যাবে অজানা, তাতো হতে পারে না!
নিজেকে গুটিয়ে নিয়েছি জীবন থেকে, সাবেরা;
চব্বিশ বছর আগের স্মৃতিতে নিভৃতেই থেকে যেতে,
যদি না দেখা হতো তোমার, আমার বন্ধুর সাথে, সিডনিতে;
আমরা বন্ধুরা সব ছিলাম দাপটে,
জীবন সাজানোর চেয়ে আরো উন্মুখ জীবন বোধে, মনে কি পড়ে তোমার?
তাকাতে আমাদের দিকে?,
ভাবনা, চন্দ্রটানে কোন দিকে প্রবাহিত হত, জোয়ার নাকি ভাটায়;


আর তুমি কি জানতে! নাহ! কি করে জানবে, বন্ধুরাই জানতো না!
আমার ছিলো একটা কবি হৃদয়, একটা কবি মন আর দুটো কবি চোখ,
খুজে ফিরতো নারী, নগর, প্রকৃতি সারাক্ষণ;
ভার্সিটিতে ক্লাসে কাউকে ভালো লাগতো না;
কত শরৎ, সুনীল, হুমায়ুন পড়ে প্রস্তুত হয়ে এলাম,
একটি যুতসই রূপবতীর দেখা পেলাম না!
(প্রেমের প্রয়োজন ছিলো না, তোমাদের তো আবার রাজপূত্র খোমা ছাড়া
ঘন্টা  বেজে ওঠে না! হৃদয়ের রূপ অতি তুচ্ছ!)
রূপসীর রূপ দেখে মনে কষ্ট জাগবে, দুঃখ জাগবে,
তারপর কলমের কালিতে ঝরবে হৃদয়ের নীল রক্ত,
শুধু এটুকুই চেয়েছি, রবিদা’র প্লেটোনিক প্লেটে - সার্ভ এস ইউ প্লিজ!


হঠাৎ দেখি! আরে এ মেয়েটি কে? ভালো লাগছে ওকে!
সাবেরা! তোমায় দেখে,
মনটা একটু উদাস হলো, মাঝে মাঝে একটু রঙধনু রঙ, একটু উচাটন!
সাইনবোর্ড সতর্কতা আর কাঁহাতক মানা যায়!
বলেই ফেললাম টুকরো কিছু কথা,
ঐ একদিনই, কারণ কথা বলে ফেরার পথে,
আমার কোনো ব্যকরণসিদ্ধ গাধা বন্ধু জানালো, ওরতো বিয়ে হয়ে গেছে!


বোঝো! - বুঝেছো সাবেরা,
তোমার বিয়ে হয়ে গেছে! তোমার কাছে যাওয়া যাবে না,
তোমার স্নিগ্ধতা পান করা যাবে না, কষ্টের অনুভব খোঁড়া যাবে না!


কষ্ট ছাড়া কবিতা লেখা যায় না! কষ্টের কবি জীবনানন্দ,
                                  পড়ে দেখো, কষ্ট ছাড়া কবিতা হয় না;
আরে! হারিয়ে যাওয়া সময়ের কষ্ট থেকেই তো লিখছি তোমার জন্য এ কবিতা;
ভার্সিটির ঐ রঙিন দিনগুলোতে,
তোমার সাথে আরো কিছু নির্মল আলাপন হলে,
কি ক্ষতি হতো এমন? কবিদের যন্ত্রণা কেউ বোঝে না!


তোমাকে এসব গল্প শুনতে হতো না সাবেরা!
থেকে যেতো সব নিশ্চুপ নীরব,
আমার ভেতরে শুধু ভালোলাগার একটি নদী হয়ে,
যদি না অদ্ভুত যোগাযোগে, আজ এসে না পড়তে,
আবার আমার ভুবনের আবর্তে;


এর জন্য দায়ী, তোমার সাথে আমার বন্ধুর বন্ধুত্ব হঠাৎ মধ্যবয়সে, সুদূর সিডনিতে!


তোমার কি মত, সাবেরা?


(৩১.০৫.২০২০)