লোকালয় থেকে দূ্র প্রান্তিকে অঘন বনাঞ্চলে
ভিক্ষারীর বেশে তিষ্ঠাতে ক্ষণিক সময় এই ধরায়
প্রাচীন সবুজ বৃক্ষ নীচে
নিবিড় নির্জন নিভৃতে নিয়েছি ঠাঁই;
মসৃন পাষাণ বলে দেয়-
হয়তোবা কোনো একদিন, কোনো এক
পরাজিত সৈনিক এখানে বেঁধেছিল বাসা
নিয়ে বুক ভরা আশা!
সেতো আজ নেই, নেই তার ঘোড়া;
ঝুলে আছে ডালে খাপে ভরা তলোয়ার
আর জড়াজীর্ণ জিন।
দূরের পাহাড় থেকে বয়ে আসা ক্ষীণ ঝিরি
নিরবধি বয়ে চলে ধীরে
বলে যায় এখানেও রয়েছে প্রাণের সঞ্চরণ।


শাখামৃগ করে কোলাহল
ফাঁকে ফাঁকে আমাকে অবাক চোখে চেয়ে দেখে,
ইশারায় ডাকি কাছে
কেহ কেহ আসে, কাঁধে চেপে বসে
জটাধরা চুলে খুঁজে পায় উকুনের বাসা
খুঁটে খুঁটে খায় আর মিটি মিটি চায়
হয়ে গেল মিতালী তাদের সাথে;
কচি কচি পাতা ছিঁড়ে ছিঁড়ে এনে দেয়
চিবিয়ে চিবিয়ে গিলে নেই রস নরম পাতার
এটাই এখন আহার আমার।


বাদল ভিজায়, রোদ্দুর শুকায়!
শীত-গ্রীষ্ম-হেমন্ত-বসন্ত আসে আর যায়
কখন কোন সময় টের নাহি পাই
পাওয়ার প্রয়োজন অনুভূত নয়!


মাঝে মাঝে কিছু হলুদ পাতারা ঝরেপরে
উহাদেরে তুলে নেই হাতে
শীর্ণ শিরা দেখি তারপর দুই ফোঁটা অশ্রু মেখে
রেখে দেই ধুলি মাঝে...


স্রষ্টাকে করি স্মরণ, চাহি তাঁহার শরণ;
ঝরিব আমিও একদিন ঝরাপাতার মতন!