কেনো তুমি এমন হলে মানুষ হবে কবে?
মনে পুষে হনুমানটা বেঁচে রইলে ভবে।
অন্ধকারে সারাটা দিন বাদুড় ঝোলা থাকো,
রাত্রি হলে জেগে উঠো মুখটা গোমড়া রাখো।
লোকসমাজে মিশে যেতে তোমার মনে চায়না,
চোখে মুখে কালি মাখার কতো দেখি বায়না।


নিজ স্বভাব ভালো করে বন্ধু হতেই পারো,
গোমড়া মুখে তোমার মন কেনো আছাড় মারো?
এতো বেশি গোনাহ করো, আসলে কি লাভ?
উদম গায়ে লোকসমাজে দেখাও তুমি ভাব।
একা একাই ভাব নিয়ে কিবা তোমার মূল্য,
এবার তুমি ভেবে দেখো তুমি কিসের তুল্য।


ভালোভাবে চেয়ে দেখো বন বিড়ালও ভালো,
যদিও তার চেহারাটা তোমার চেয়ে কালো।
নিন্দার চোখে তুমি দেখো জগৎ পুড়ে ছাই,
এই ধরায় সকল মানুষ আসলে ভাই ভাই।
হাতটা তুলে ছুঁয়ে দেখো পিঠে চামড়া নাই,
তোমার পিঠ বেলের মতো সবাই দেখে যাই।


ঘোমটা ছেড়ে বের হও দুনিয়া ঘুরে দেখো,
মানুষ দেখে কিছু আদব তাদের কাছে শেখো।
ঘুরেফিরে ভাব দেখিয়ে কেমন শিক্ষা নিলে?
ভাবটা ধরে ভালো জানো মেশেনা তেলে জলে।
গোমড়া মুখ কেউ চেনে না, একে মানুষ কয়?
ঘরের কোণে লুকিয়ে থাকো কিসে তোমার ভয়?


এখনও তো সময় আছে বেরিয়ে তুমি আসো,
লোকসমাজে ঘুরে ঘুরে তাদের ভালোবাসো।
ঘোলা জল আর খেয়ো না পরনিন্দাটা ছাড়,
ঝেড়ে ফেলো নিন্দার কাজ আর করোনা গাঢ়।
খোলস ছেড়ে আস্তে আস্তে মানুষ হয়ে উঠো,
সমাজপতি যারা আছে তাদের পিছে ছুটো।


মানুষ কেনো সৃষ্টির সেরা ভেবে দেখো ভাই,
জ্বলে পুড়ে এই চেহারা কেনো করছো ছাই?
লোক দেখে ভয়ে থাকো, কেনো জন্ম নিলে?
জল কাদায় শাপলা শালুক হতে পারতে বিলে।
কেনো আমি সারাটা দিন তোমায় নিয়ে ভাবি?
চোখ বুজলে দেখতে পাই কালো মুখের ছবি।