"রুদ্ধ দুয়ার"
(যেহেতু কবিতা একটাই তাই দুটো বিভাগ একসাথেই প্রকাশ দিলাম)


.             __ I __


প্রাণে ভয় কখন,; না জানি কি হয়!
বধ্য ভূমিতে স্থবির জমিতে হাঁকিছে
নিনাদ হায়।
সে নাদ উচ্চ শৃঙ্গার ফুঁক; কাঁপিছে ধরণী তল
মৃতের স্তুপেতে স্তূপীকৃত লাশ, বাঁধ সে
ভাঙিলো জল।
নীলাচলে নাই গগন বিহারী হিয়াতে নাহিকো বল
রিক্ত আজিকে প্রেমের সে দ্বার; দাঁড়ায়ে
উরগ দল।
বিশল্য-করণী! আজিকে ধরণী খুঁজিয়া ফিরিয়া মরে
কুমুদো কাননে সিঞ্চনে বিষ, করোনা
হাঁকিছে দ্বারে।
বারে বারে! ঘুরে ফিরে, ঘুরে ফিরে যাপিত প্রহর কাল
নিশীথো বিহারে নাহিকো আহারে, বীণায়
ছিঁড়েছে তাল।
কটিতে নাহি গো দোল সে বিছায়ে বাহুতে রহিত বল
নিরাশা আঁধি ও শঙ্কা জড়ায়ে; নৃত্যে
অণুর দল।
নির্গমনের রুদ্ধ দুয়ার প্রলয় গাহিছে গীত
অসম সমরে হত সে নাবিক, ঘন ছায়ে
ভয় ভীত।
এসো সে পরম কৃপাতে তোমার ই পারেতে বহিতে ডিঙি
বিনাস রুধিতে এসো গো দয়াল, দয়া সে
তোমার মাঙি।


.               __ II __


বহিতেছে কাল স্তব্ধ করাল নীলিমায় নাই জ্যোতি
স্তব্ধ সে দ্বার হৃদয় দুয়ার; কর্মেতে
নাই ক্ষিতি।
নিপীড়িত প্রাণ নাহি জয়োগান দুখের দুয়ার দ্বারে
বহিতে না পায় সহিতে না পায়, দুখ; কহিবারে
নারে পারে।
জঠরো জ্বালাতে জ্বলিয়া পুড়িয়া বহিবারে নারে প্রাণ
শিশু ও কচি, অনাহার রচি; জুঝিছে
মরণ-পণ।
কে আছো দয়াল দীনের দ্বারেতে রুধিতে ক্ষণিক পল
অসহায় যেথা ক্রন্দনে গীত; দগ্ধ
অনলে ভাল।
হেরিতে কি পাও শূন্য লোচনে বাহিত সে বারি ধারা
জীর্ণ সোপানে রুধিরে রুধিরে; মরণো
সমীপে যারা।
ত্রাণের দানিতে ছোবলো হানিতে! রুক্ষ পাষাণ ভূমি!
লুটিতে সে ধন খাদ্য খাজানা; হিংস্র
আজিকে তুমি?
গরলো বায়েতে বহিতে রহিতে, কহিতে কি তুমি পারো
অমৃত বাস আরবো রজনী; কাহারি
তরেতে গড়ো?
কোন সে ঠিকানা লক্ষ্য তোমার ই; লল্যুপ তোমার ই জিহ্বা
কোন সে মহল পাঁজা তল কোল; বিদায়ী
ক্ষণেতে নিবা?
আজিকে ক্ষণেতে মানিছো তোমার ই, কাল সে কারুর হবে
রহিবে না কায় ভোগের তরে সে; কতকাল! কতকাল আর
হেথা রবে?
জননীর দায় পুকারিছে হায়; আজি অট্টালিকার ভূমে
নেমে এসো, নেমে এসো আজ বধ্য ভূমিতে;
বিছায়ে সে গড়
দানে।