কেউ মনে রাখেনি তোমায়।
ঊনত্রিশ মে ঝড়ের রাতে সেই যে শয্যা নিলে আর উঠলে না।
একজন নার্সিং স্টাফ নীরবে চলে গেল
কেউ জানতেও পারল না।
শোকাতুর পোস্টে ভরে উঠল না সোশাল মিডিয়া।
শহরের রাস্তায় মোমবাতি মিছিল হল না।
ব্রেকিং নিউজ দেখালো না টিভি তে।
কৃপণ সাংবাদিক শুধু লিখল - তুমি কোভিড  যোদ্ধা। ব্যাস ঐটুকুই !
সে লিখল না পিজি এন আর এস এ তোমার বেড না পাওয়ার কথা,
লিখল না বেসরকারী নার্সিংহোমে গিয়ে তোমার গরীব বাবার নিঃস্ব হয়ে যাওয়ার কথা,
শোকে পাথর হয়ে যাওয়া তোমার মার কথাও কেউ বলল না।
কেউ জানতেও পারলনা কত আশা কত স্বপ্ন নিয়ে তোমার এই পেশায় আসা।
অথচ কুড়িতেই ঝড়ে গেল কুঁড়ি।
জীবন শুরুর আগেই দপ করে নিভে গেল।
কেউ জানল না মাত্র দেড় বছরের কর্মজীবনে তোমার নিজেকে ছাপিয়ে যাওয়ার গল্প।
কেউ মনে রাখল না শেষ নিঃস্বাস পর্যন্ত  মানুষের জন্য তোমার সেবা করার কথা।
এই তো সেদিন যে তুমি পেশেন্টের নাম বেড নম্বর ধরে ছুটি নিয়ে যাও বলে ডাক দিতে
সেই তুমি ছুটি নিলে চিরতরে।


সবাই ভুলে গেল। এই ক'দিনে সবাই ভুলে গেল।
কেউ মনে রাখল না তোমায়।
শুধু মুর্শিদাবাদ মেডিকেলের স্টাফরুমে টেবিলের এক কোণে গলে পড়া মোম আর তোমার ছবিতে সুতো বেরিয়ে পড়া মালা
সহকর্মীরা দিয়েছিলো ভালোবেসে।


অধম কবি আমি পারিনা কিছুই
তোমার স্মৃতিতে রেখে যাওয়া এই সব শব্দগুছ
পুস্পস্তবক হয়ে ঝড়ে পরুক তোমার বুকে।