একই সূর্য দেখি দুই রূপে


প্রভাতের আকাশে নববধুর কপালে সিঁদুর লাল বৃত্তের টিপ
আধো আধো ঘুমন্ত পৃথিবীর বুকে আনে প্রাণের উল্লাস, হাঁসে প্রকৃতি, স্বপ্ন দেখে সকাল
জীবনচক্রে ব্যস্ততা ও নতুন নতুন সম্ভাবনা।
আমি প্রভাতের এই ঊষাকে প্রণাম করি থালা ভরা লাল সম্ভাবনার আর্শিবাদ গিলে.
ন্ধদয়টাকে সূর্যের মতই প্রদীপ্ত ও বড় করি জীবজগতের জন্য
তখন মনে হয় আমার হয়ত থামাই হবে না কখনও,
দিনটা যেন শুরু হয় আবার নতুন স্বপ্ন ও সম্ভাবনায়
যেন আমার জন্যই প্রতি প্রভাতে সূর্য আনে পৃথিবী
আর পৃথিবীর জন্যই আমাকে প্রাণ দিয়েছেন সৃষ্টি।
মোহিত মলয় হতে উম্মাদনা নিয়ে সমস্ত দিবসে চলে অনবদ্য ক্রীড়াচক্র।
অনাবিল সানন্দে চলতে চলতে ক্রীড়াচক্রের মাঝেই চাল-চক্রের চাতুর্য ভর করে কখনও
কু-চক্রের চর্কিপাকে পাক খেতে খেতে পাকি মুর্কি-মুরি, নারু-মোয়া হয়ে গুটিয়ে সুটিয়ে পড়ে
আমার সম্ভাবনার দোকান। ক্রেতারা দৌড় দিয়ে জীবন বাঁচার জন্য পালায়, লজ্জায় ও ভয়ে।
আমি হয়ে যাই ঝিমড়ে যাওয়া রেইট্রি’র পাতাসর্বস্ব লজ্জাবতীসম খর্বকায়, হীণ ও ক্ষীণ।
অতঃপর, ঢলে পড়ে সূর্য পশ্চিমাকাশে, বসে গোধূলীর আড্ডাখানা।
মেটেলাল সিঁদুর পড়া পরাস্ত বধূর বিদায় লগনের ধূলোমাখা বিকেলের সূর্যকে মনে হয়
এই তো সীমান্ত আমার, এই তো থেমে যাওয়ার সময়।
এরপর আঁধারেরা গ্রাস করবে আলো, গিলে খাবে সূর্য
মায়াহীণ, মমতাহীণ রজনীর রোমাঞ্চ মিটাতে বিধাব বধূর সিঁথির সিঁদুর মুছিয়ে নেয়া হবে এক্ষুনি।
এক্ষুনি সকল সম্ভাবনাগুলো ডুকরে ডুকরে কাঁদবে জীবনের মায়ায়, পরিতাপের কায়ায়
সংজ্ঞাহীণ সমস্যাগুলির বৈঠকখানায় মোড়লের বিচার মানতে হবে অসহায়েত্বে
এবং সমাজকে জিম্মি করে পড়িয়ে দেবে পরিনয়ের মালা। এবং সমাজের যে আলোক দূর্দশা আগত তা লজ্জাবতী সূর্যকে অপহরণের মধ্যদিয়ে মনস্কাম পূর্ণ করবে অসাধু ক্রীড়ানকরা।
তখনও প্রভাতের যে যৌবনদীপ্ত উত্তাপ ও ত্যেজ
তেল শেষ হওয়া প্রদীপের মত মৃত প্রায় বিকেলের সূর্য।