আমি কোলকে গাছের একটা সরু ডালে
পা ঝুলিয়ে বসে
কোলকে ফুল খেতে খেতে দেখছিলাম
সাদা চাদরে ঢাকা, শুয়ে থাকা আমাকে ।
বাতাসে ছড়ানো
রজনীগন্ধা, ধূপ, আতরের গন্ধ
আমার নাকে আসছিল ।
অনেক লোক আমাকে ঘিরে ছড়িয়ে ছিটিয়ে দাড়িয়ে আছে ।
যে ভদ্রমহিলা ছলছল চোখে, কপালে চন্দনের ফোঁটা এঁকে দিল
আমার মাথায় হাত বুলিয়ে দিচ্ছে
সম্ভবত আমার দিদি ।
রজনীগন্ধা ফুলের তোরা হাতে
খাটের চার কোণে লাগাতে যে ব্যস্ত মানুষটা
সে আমার ভাই'ই হবে।
বাবা মা আসতে পারবে না
বুড়িখালের মাঠে সবচেয়ে উঁচু যে তালগাছটা
সেটাতে নাকি আরও তিনদিন থাকতে হবে ।
একটু দূরে একটা ম্যাটাডর ভ্যান,
বাধ্য ছেলের মতো দাড়িয়ে। পাশে
দুজন দুজনকে জড়িয়ে, কম বয়সী দুটো মেয়ে
এরা মনে হয়, ভাইঝি ভাগ্নি
দোতলার খোলা বারান্দায় দাঁতে শাড়ির আঁচল
কামড়ে, পথিকের বউ ।
রক্ষিত'দাকে দেখছি না, কাজের মেয়ে ময়না,
বিন্দু মাসি….কেউ না
আমার কাউকে না
তবে, অনেক লোক
অনেক
স্থির জলে মাছের মতো চলাফেরা করছে শোকস্তব্ধ মানুষগুলো
কারও মুখে কোন কথা নেই
চারিদিকে একটা ঠান্ডা নিস্তব্ধতা..


এত লোক আমাকে ভালবাসতো, যদি আগে বুঝতে পারতাম
ঘুণাক্ষরেও টের পেতাম
তাহলে
আমি কিছুতেই মৃত্যুকে ভালবাসতাম না ।।