তুমি বলেছিলে,আমার জন্যে এক জীবন সময় রেখেছো নিজের হাতে,
গ্রীষ্মের প্রখর রোদে গাছ হতে চেয়েছিলে তুমি,
শ্রাবণধারায় সিক্ত আমার জানলার কার্নিসে রাত ভোর বৃষ্টি দেখার কথা ছিলো আমাদের;
জানো, সেই যে আকাশ নীল ওড়না আমি আজও যত্নে রেখেছি,
শরৎ এর প্রথম শিউলি কুড়োবো বলে;
মনে পড়ে তোমার,তুমি বলতে পথের ধারে যে কাশবন,যেখানে হলুদ প্রজাপতির ভীড়,
ঠিক সেখানে ভোর হবে আমাদের রাতের..
হেমন্তের মনকেমনের দুপুরে যখন শীত কাড়ছে আমার শরৎ,
গঙ্গা ফড়িং ওড়া ঘাসের বুকে আমার সবটা মনখারাপ ভোলাবে তুমি..
শীতের কুয়াশা চেরা মিঠে রোদের মত ভালোবাসবে বলেছিলে তুমি,
শীতের ওপারে কৃষ্ণচূড়া রঙে রাঙানো তোমার আমার প্রথম বসন্ত,জানো আসেনি আজও..
দিনের শেষ প্রহরে যখন আজ ঢলে পড়ে কালে,আর কাল হয়ে যায় আজ,
যে মুহূর্তে সময় অর্ধনারীশ্বর সেই মুহূর্তে জড়িয়ে ধরবে বলেছিলে তুমি..
আমি যদি পথ হই, সে পথে আজীবন পথিক হতে চেয়েছিলে তুমি,
তাই আজও পথ থাকে পথ চেয়ে;
পাহাড়ের যে বাঁকে তিস্তা দিক বদলায়, সেই বাঁকে আবার দেখা হওয়ার আশায় আজও আমি অপেক্ষারত..
জানো,আজও প্রতিটা ভোরের আগে রাত যখন নতজানু হয়ে শেষ বিদায় জানায় প্রেমিকা আসমানকে,
নদী সমুদ্রে মেশার ঠিক আগে ফিরে তাকায়,তার পাহাড় ছাড়ার পথের দিকে,
যে দিগন্তরেখায় ভালোবাসা আর অন্তহীন অপেক্ষা সমার্থক,
সেই দিগন্তে আজও আমি তোমার প্রতিক্ষায়,
তুমি বলেছিলে এই প্রেম চিরকালীন,
আমি জানি এই অপেক্ষা চিরকালীন..