বিজয়ের চাদরটা নর্দমার কীটের ক্ষুধার অন্ন,
সন্তান হারানো মায়ের লোনা জল শকুনের পিপাসা মেটায়।
নারীর সম্ভ্রম, লজ্জা আজ পদদলিত পথের ধূলায়;
সমাজের উঁচুস্তরে স্বাধীনতার কলঙ্কের জয়গান।
ভাই হারানো বোনের দুঃস্বপ্ন গেঁথে আছে হৃদয়ের গহীনে;
বহু ত্যাগের বিনিময়ে অর্জিত পতাকা আজ ধূলার ঝাড়ন।
আহত যোদ্ধা ক্রাচে করে জীবন রসদ খুঁজে বেড়ায়-
শহীদের রক্ত মাটির উর্বরতা বাড়ায় নতুন ফসলের তরে।


আদর্শ, নীতি ধূলিসাৎ হয় শোষকের করাল থাবায়;
স্বাধীনতা মুখ থুবড়ে পড়ে সমাজের অন্ধকার গলিতে।
গণতন্ত্রের মৃত্যু হয়েছে পরাধীনতার আকন্ঠ বিষের তরলে-
অন্ধকারের বাসিন্দা সেজেছে ধর্ষকের বীর্যের অঙ্কুর;
ধর্ষিতার ছিন্নভিন্ন বসন আজ ভেসে বেড়ায় রাষ্ট্রের ছাদে।
পিতার আর্তনাদ অপ্রকাশিত ডায়েরীর পাতায় চিত্রিত;
স্বাধীনতা আজ পোশাকে, ব্যানারে, বিজ্ঞাপনে, ভাষণে –
হৃদয়ের অন্দরে অনুপস্থিত একাত্তরের সে-ই স্বাধীনতা।