ইদানিং কেন জানি মনে হয় -
কেউ আমায় ভালোবাসে না,
কী স্বজন, কী সমাজবাসী!


অথচ বিশ্বাস করুন –
এদের কাউকে আমি কখনো মন্দ-বাসিনী
কারো ক্ষতির কোনো চিন্তা কখনো করিনি
সাধ্যমত চেষ্টা করেছি উপকার করতে
হয়ত সেটা কখনো অর্থ দিয়ে নয়
তবে চেষ্টা, পরামর্শ, জ্ঞান বা শিক্ষা দিয়ে।


ছাত্রজীবনের কথাই ধরুন –
সহপাঠিদের সাথে প্রতিযোগিতার একটি ঈর্ষা থাকে
আমার সেটিও ছিলো না,
কেউ কিছু না বুঝলে বুঝিয়ে দিয়েছি স্বেচ্ছায়,
কিংবা কীভাবে পরীক্ষার প্রস্তুতি নেবে
তারও সঠিক উপদেশটি দিতে কার্পণ্য করিনি।
শিক্ষক কখনো কিছু জিজ্ঞেস করলে –
সত্য সত্যই সব কথা বলেছি,
কেননা মিথ্যা বলার অভ্যাস যে আমার ছিল না।


পাড়া-প্রতিবেশী বা খেলার সাথীদের সাথে
কখনো কটু কথা বলিনি কিংবা গালমন্দ করিনি।
তবে বেশি ক্ষেপে গেলে ‘অসভ্য’ শব্দটি ব্যবহার করেছি
আর তা শোনার জন্যই বুঝি অনেকে আমাকে ক্ষেপাতো,
আর ‘অশিব্বা, অশিব্বা’ জপে জপে হাসতো ।


খেলাধুলায় আমায় প্রায়শই দু’পক্ষের হয়ে খেলতে হতো
আর কখনো না খেললে সকলের কাপড়-চোপড়, ঘড়ি,
টাকা-পয়সা আমার কাছে গচ্ছিত রাখতে হতো।
নামাজের সময় হলে সবাইকে আমাকেই ডাকতে হতো
কিংবা আমাকেই ইমামতি করতে হতো।
খেলাধুলায় ব্যবহৃত অনেক অশালীন শব্দগুচ্ছ
আমাকেই ছাঁটাই করতে হয়েছিলো।


পাড়া-প্রতিবেশীদের কোনো চিঠিপত্র বা দরখাস্ত
আমাকেই লিখে দিতে হতো
কেননা ‘আমার লেখা বিফলে যায় না’ –
এমন কথাই যে চালু ছিলো!


আত্মীয়-অনাত্মীয় কেউ কখনো ডাকলে
সাড়া দিতে কুণ্ঠাবোধ করিনি,
সকলের মঙ্গলেচ্ছাই আমার মাথায় থাকতো।
একটা বিশ্বাস ছিলো –
‘ছোট-বড় সবাই আমার কথা নিবে’
একসময় হয়েছেও এমনটা,
কারণ তাদের স্বার্থই যে আমার স্বার্থ হয়ে উঠতো।


সহকর্মীদের সাথেও কখনো ব্যক্তিস্বার্থে অমিল হয়নি,
“বোকার মতো সবসময় সত্য কথা বলিস কেন,
নকলের জন্য তোর জান দিয়ে দেবে নাকি?”
তাদের এমন সমালোচনা আমাকে প্রাণিত করতো!


শ্রেণীকক্ষে ছাত্রছাত্রীদের পাঠদানের বাইরেও
এক এক করে কিংবা দলে দলে
অতিরিক্ত সময় পাঠ্যবিষয় পর্যালোচনা করেছি;
যা আজোবধি থামে নি
আর সেজন্য এরা আমায় ভালোবাসে।
তা দেখে অনেকেই আমায় হিংসা করে!


ওদের কথা বাদ দিন -
যারা এসেছিলো হত্যা করতে আমায়,
যারা পাঠিয়েছিলো ‘শাদা কাপড় আর রক্ত’,
থু থু কিংবা ইট-পাটকেল ছুঁড়েছিলো আমার পানে
কিংবা পাঠিয়েছিলো স্বদেশ-ত্যাগের ফরমান!
এরা তো আদৌ ছাত্র নয় -
এদের ছাত্র বলে কেন ছাত্রদের করবো অপমান!


সামাজিক আচার-অনুষ্ঠান বা প্রকল্পকে
সুন্দর ও সার্থক করার তরেও
প্রচেষ্টার অন্ত ছিল না আমার,
কথা বলতে অপারগদেরকেও
জনসমক্ষে কথা বলতে সমর্থ করেছি।
স্বদেশে তাই সকলের প্রিয়ভাজনও ছিলাম
অথচ এখানে ভুল ব্যাখায় কেউ করে অপমান!


এখন যার সাথেই কথা বলতে চাই
সে-ই যেন মনে হয় -
‘বিরক্ত আমার উপর ভীষণ,
আমি যেন বিরাট ক্ষতি করেছি তাদের
কিংবা আঘাত করছি স্বেচ্ছায়!


অথচ বিশ্বাস করুন –
এমনটি কখনো আমার মাথায়ও আসেনি!
তাহলে বলুন তো –
গোলমালটা কোথায়?
আমার প্রয়োজন ফুরিয়ে গিয়েছে তাই
তাদের দৃশ্যপট থেকে হতে হবে অতীত?
নাকি তাদের উদ্ধত স্বাধীনতার উপর থেকে
সরিয়ে নিতে হবে আমার নৈতিকতার খড়গ?


নিকটজনেরা অবশ্য বলেন,
“মুখ, তোমার মুখই তোমার বড় শত্রু!”
ওটাই নাকি ফস করে সাচ্চা বলে দেয়,
তাতেই কারো গাত্রদাহ কিংবা যত্ত বিপত্তি!
‘আমার মুখ নাকি বন্ধ রাখতে হবে!’


আচ্ছা, বলুন তো –
তা কি হয়?
আমার অনিচ্ছায় যদি কিছু বেরিয়ে আসে
তাকে কী-করে রুখি?
তাছাড়া, আমিতো কারো ক্ষতির জন্য কিছু বলিনি!
আমার বিশ্বাস –
‘সুস্থ বিবেকের নির্দেশেই চালিত আমি!’


বোবাই যদি হতে হয়, তাহলে –
যিনি সদজ্ঞানে করলেন সমৃদ্ধ,
তার কাছে কী দেবো জবাব?


(১৭/০৫/২০২০)