সেই নদীটা এখনো ছবির মতো আমার মাঝে বাসা বেঁধে আছে,
পাথর বালির বিছানা বুকে নিয়ে কাঁচের স্বচ্ছতায় বয়ে যায় দুর্নিবার বেগে,
অবুঝ প্রকৃতির সন্তান বালি খুদে বানিয়েছে বহমান নদীতে একটি পুকুর,
দুপুর রৌদ্রের লুকোচুরি খেলা উঁচু দেবদারুর পাতার ফাঁকে,
দুরন্ত বনবালকের উদ্দাম আলিঙ্গনে পাগল নদী মুখ লুকতে চায়-
হারিয়ে যাওয়া সময়ের খোঁজে একঝাক বুনো হাঁস পাখা মেলে উড়ে যায়।
নদীটার জল অসময়ে শুকিয়ে যায় যখন বরফ জমে যায় উত্সমুখে,
বুকের মাঝে নিয়ে বালু নুড়ির বোঝা থমকে চেয়ে থাকে দুপাশের বৃক্ষসারির পানে,
আশায় বুক বেধে কখন আসে ভরা বর্ষার বানের ভাস দুর্বার স্রোত নিয়ে,
ভাসিয়ে নিয়ে যায় বনবালিকার সব আভরণ নিজের উদ্দামতায়,
লাজুক দৃষ্টিতে অপেক্ষায় কখন ঝাপিয়ে পড়ে সেই উদ্দাল বনবালক,
কঠিন আলিঙ্গনে ছুয়ে যায় তার তন মন সব ,আবেশের ঘনঘোরে।
সব ছেড়ে ছুটে যেতে চায় বাধভাঙ্গা এক অমোঘ আকর্ষনের টানে,
কে জানে যাওয়ার পথে মাঠ ঘাট পেরিয়ে সাগরের পানে ,
শুধু খুঁজে ফেরে হারানো সেই বনবালকের নির্নিমেষ হারানো চোখের দৃষ্টি,
অবুঝ উদ্দামতার রেশ গায়ে মেখে ছুটে যায় স্মৃতির কঠিন ভার নিয়ে,
হয়তো বা পথ শেষে যদি দেখা মেলে ছুটে আসা সেই বনবালকের আদুল গায়ের মাটি মাখা রূপ।