চন্দ্রমুখী
উজ্জ্বল সরদার আর্য



          চম্পা ঝরা বনে এসেছি  চন্দ্রমুখী'র সন্ধানে
                    ওগো আমার আকুল নয়নে
                            দাও গো ধরা,
                    ভরুক হৃদয় তোমার ঘ্রাণে
                      অনন্তকাল আছো প্রাণে
               আজকের জাগরণে জেগেছে ওরা।
              তুমি তবে থেকো না আর অন্তরালে
                     জাগাও প্রেম প্রাণ কমলে
               আজ এঁকেছি অশ্রু জলে জলছবি,
         আমি বেলা শেষের সুরে ডেকেছি তোমারে
                 তুমি এসো হে যমুনার কিনারে
         নীলপদ্মে বসিয়ে তারে লিখবে কবিতা কবি-
                   দেবে অনন্ত অন্তরে অঞ্জলি
           পূজারী'র আত্মনিবেদন করো হে গ্রহণ
                স্মৃতিচারণে অমর গীতাঞ্জলী।


            হে প্রিয়তমা! গড়েছি তোমার প্রতিমা
                           মন মন্দিরে,
                        হই নত নমস্কারে -
                     দিবস-রজনী প্রতিক্ষণ,
               প্রতিক্ষমান থাকি নাম ধরে ডাকি
           আজ সমীরণে শুনি তোমার নূপুরগুঞ্জন।
                তাই চঞ্চলা উতলা মনে ছুটেছি
                আলেয়ার আলোয় পথ ভুলেছি
                     হারিয়েছি আমি তারে,
                        রজনীর অন্ধকারে-
                           আছি নির্জনে
               জ্বালিয়ে প্রাণে প্রেমের প্রদীপ শিখা
                      ওগো তুমি দাও দেখা
                   আজকের এই করুণ দিনে ।
                এখানে পুষ্প ঝরে চরণে অবিরত
                      দলিত দেহ হলো ক্ষত
                   নত নয়নে যায় চলে বেলা,
                     জীবন কেটেছে একলা-
                          আছি অপেক্ষায়
            তুমি চম্পা ফুটলে না বনে এই বসন্ত ক্ষণে
                    ভরেছে বুক বিরহ বেদনায়।


                    হে প্রেয়সী! উচ্চ অভিলাষী
                      অনন্তযৌবনা উর্বশী তুমি,
                 তোমার রূপ-লাবণ্য সে'তো অনন্য
                       ধন্য ধরিত্রী’ ধন্য আমি-
                          আমার ঐশ্বর্যবতী
             তোমারে করি আরতি সকাল-সন্ধ্যা বেলা
                     পুলকিত প্রাণে করছো খেলা
                দেখাও শুধু ছলাকলা’ মোহিনী শক্তি।
                  তবে কি করে ভুলবো বলো তারে
                     ভালোবাসি জনম-জনম ধরে
                  তোমায় ঘিরে ঝরে কত অশ্রুজল,
                       সকাল-বিকাল অনন্তকাল -
                   নিশুতি নিশি'তে কত কল্পনা'তে!
                   কেড়েছ ঘুম ঝুমঝুম ঝর্ণা ধারায়
                      নিয়েছ প্রাণ’ প্রাণ পিপাসায়
            আজ তোমার আ'সায় নেমেছি পথে প্রভাতে।
                 মুখরিত মেদনী তোমার সুখ সঙ্গীতে
                     আমি ডুবেছি বিরহ বেদনা'তে
                           ক্ষত বুকে শুধু তুমি,
                   উৎকণ্ঠিত থাকি মেলে দিয়ে আঁখি
                             হয়ে উদ্দাম প্রেমী।


                হে চন্দ্রমুখী চম্পা! হে আমার প্রিয়তমা!
                       হে অনন্ত মহিমাময় রূপবতী,
                          হেরেছে তিলোত্তমা’রতি-
                    প্রশস্ত স্মিত ফোটে পলকে পলকে
                       কত গুণী জন চেয়েছে দান
                আমি শুধু দেখি দূরে দাঁড়িয়ে তোমাকে।
                  তোমার ওই প্রেম পাবার অভিলাষে
                         ভরেছে বুক বিরহ বিষে
                    নিশ্বাস ফুরিয়ে আসে দিনেদিনে,
                        মিনতি করি পড়ে চরণে-
                            হও ওগো আমার
                  ফিরিয়ে দিও না আর এই বেলাশেষে
                    চলেছি কাল যাত্রায় উল্লাসে ভেসে
               তোমায় ভালোবেসে ফিরে আসবো আবার।




উজ্জ্বল সরদার আর্য
রচনাকাল ইং-১৩ জুন ২০১৯ সাল এবং
বাং- ৩০ সে জ্যৈষ্ঠ ১৪২৬ বঙ্গাব্দ
রোজ বৃহস্পতিবার সকাল ১১.৩০ মিনিট
নিজ বাড়িতে বসে লেখা....