শাপলা ফুল কিংবা শালুক,
অথবা তালের ঠোঙ্গায় ভেসে যাওয়া।
স্রোতহীন হাওড় কিংবা বড়শি ও ছিপ,
ঝাঁকে ঝাঁকে শৌ্লের ছুট।
গোল্লাছুট কিংবা ডাঙ্গুলী ও দাড়িয়া বান্ধা,
বউছি খেলার বউ হয়ে অপেক্ষ,
কপাল টোকায়, টোকা দিয়ে বলতে হবে কে সে?
আজ বিষণ রকম পড়ছে মনে, শৈশবের সেই দিন যাপন।
কি বন্ধু? কি পাড়াতো ভাই? সবাই কি যে ছিল আপন।
স্কুল পালিয়ে ফুটবল কিংবা ক্রিকেট,
গোল অথবা ছক্কা হাকিয়ে মেতে উঠা হৈ-হুল্লোরে।
সবই এখন ধূলো জমা স্মৃতির ডায়েরির পাতা জুড়ে।
মামা বাড়ির উঠনে বসে শীতল পাটিতে,
রাক্ষস-ক্ষোক্কস এর গল্প নানীমার মুখে।
আর মামীর হাতের গরম ভাপা মিঠা।
সবাই মিলে দে দৌড়, ঝাপ নদীর বুকে।
আজ সব কেমন জানি অস্পষ্ট চোখের সামনে
রুপালী চাঁদ দেয় উঁকি, চৈত্র রাতের আকাশে বাঁশ বাগানের ফাঁকে।
যান্ত্রিক এ জীবনে চার দেয়ালে বন্দী, চাঁদ!
সেতো বহু আগেই নিয়েছে ছুটি।
জোছনা রাত হয়না আর, নিয়ন আলোয় ঝাপসা।
মনে পড়ে কাঁচা লংকায় আমের ভর্তা কি যে ছিল মজা।
হায় ছেলেবেলা, হায় শৈশব, আর পাবো না ফিরে,
দামি ফোমে ঘুম আসে না, কি যে শান্তি মায়ের আঁচল ঘেরা পল্লী নীড়ে।