আমার ক্ষুদ্র বোধের আলোকে আরো একটু কবিতা ও কবি নিয়ে আলোচনা করা যাক।


ধরুন থ্রিলার ধর্মী মুভিতে এক বিশেষ পরিস্থিতিতে নায়ক তার রোবটকে বলছে, “ ধৈর্য ধরো, এখনই বরফ গলবে।“
আর রোবট সঙ্গে সঙ্গে টেম্পারেচার মেপে বলতে শুরু করলো, “ দুঃখিত এখন বরফ গলা সম্ভব নয়।“
আক্ষরিক বা ব্যকরণগত জ্ঞানের এখানেই সীমাবদ্ধতা। কবিকে তাই হতে হয় অন্তঃদৃষ্টি সম্পন্ন প্রখর বোধের অধিকারী। তবেই তিনি লিখতে পারেন- “ফুল ফুটুক না ফুটুক আজ বসন্ত।“
আমাদের মত এই যুগের ক্ষুদে লিখিয়েদের একটা বিরাট বড় সুবিধা হচ্ছে আমরা রবীন্দ্রোত্তর যুগের মানুষ। তার মত বড় মাপের বটবৃক্ষ আমাদের মাথার উপর।
কিছু না বুঝলে তার কাছে ধর্না দিলেই হলো-আমি ঘুরে ফিরে সেই ছায়ার কাছে যাই। কান পেতে শুনি-


" আমি    কান পেতে রই      ও আমার   আপন হৃদয় গহন-দ্বারে   বারে বারে
কোন্   গোপনবাসীর কান্নাহাসির   গোপন কথা শুনিবারে--   বারে বারে ॥
          ভ্রমর সেথা হয় বিবাগি   নিভৃত নীল পদ্ম লাগি রে,
কোন্   রাতের পাখি গায় একাকী সঙ্গীবিহীন অন্ধকারে   বারে বারে ॥
          কে সে মোর   কেই বা জানে,   কিছু তার   দেখি আভা।
          কিছু পাই   অনুমানে,   কিছু তার   বুঝি না বা।
          মাঝে মাঝে তার বারতা   আমার ভাষায় পায় কি কথা রে,॥"


কবিতা হয়ত এটাই। অশরিরী একটা অনুভব ছড়িয়ে যাবে শব্দের দেহের মধ্য দিয়ে প্রাত্যহিক জীবনের চাহিদার বাইরে একটা অন্য জগতের হাতছানির মত।


আমি মনে করি কবিতায় পরিমিতিবোধ থাকতে হয়। অল্প দাগে দৃশ্যমান করে তোলা কোন চিত্রশিল্পের মত। একটা প্রসারি্ত বৃহৎ ভাবনা অথবা দর্শনকে অল্প কথায় তালুবন্দী করার মত। মূলত জীবনের অভিজ্ঞতাকে উপসংহারে পরিণত করেন কবি।