আগের পর্বে কবিতার কাঠামো নিয়ে সামান্য ধারনা দিতে চেষ্টা করেছি।কাঠামো বা structure  কবিতার শরীরের গড়ন। সেই কাঠামোতেই কবি ফুটিয়ে তোলেন কবিতার ভাব। ভাব ফুটিয়ে তোলার ক্ষেত্রে কবি সচেতন বা অবচেতনভাবে কিছু সূত্র বা কৌশল অবলম্বন করেন, যার কারণে সেটা উপন্যাস, গল্প বা প্রবন্ধ না হয়ে হয়ে ওঠে কবিতা।এই বার আমি সেই কাঠামোর মধ্যে বিষয় বা ভাবকে যুক্ত করার কিছু টপিক নিয়ে ধারাবাহিক আলোকপাত করতে চাই। যার কিছুটা আমার একান্ত ধারণাগত আর কিছু বই-পুস্তক থেকে পাঠলব্ধ উপলব্ধি।

“Perspective”  শব্দের আভিধানিক প্রতিশব্দ হচ্ছে “ পরিপ্রেক্ষিৎ ”। বেশ কঠিন শব্দ। কিছুটা সহজ শব্দ খুঁজতে গিয়ে পেলাম – “ দৃষ্টিকোণ ”।এই শব্দটা ছোট্ট হলেও পরিসর অনেক বড় এবং ব্যাপক। আমি কোন কবিতা সংশ্লিষ্ট বইয়ে এই বিষয়টিকে সরাসরি পাই নি। কিন্তু ছবি আঁকার কলাকৌশলের সাথে এটা নিবিড় ভাবে সংশ্লিষ্ট। স্থাপত্য বিদ্যায়ও এটি খুব পরিচিত একটি টার্ম। আমি দেখলাম কবিতা সৃজনের সাথেও এটি নিবিড়ভাবে সম্পর্কিত। দৃষ্টিকোণ শব্দ থেকেই বুঝা যাচ্ছে এর অর্থ হচ্ছে কোন কিছুকে কোন দৃষ্টিকোণ থেকে দেখা হচ্ছে এটা সেই ব্যাপার। অর্থাৎ কবি একটা নির্দিষ্ট বিষয়কে নানাভাবে নানা দৃষ্টিকোণ থেকে দেখাতে পারেন।সেটা হতে পারে-এক চোখে দেখা, অন্যের চোখে দেখা, নিজের চোখে দেখা, নিরপেক্ষ চোখে দেখা, তৃতীয় পক্ষ হয়ে দেখা, বর্তমানে দাঁড়িয়ে ভবিষ্যৎ দেখা , অতীতে গিয়ে ফিরে দেখা, পাশ থেকে দেখা, আড়াল থেকে দেখা, উপরতলা থেকে দেখা, নীচতলা থেকে দেখা, ভিতরে ঢুকে দেখা, আবছা করে দেখা, রহস্যময় করে দেখা, গভীরে গিয়ে দেখা, বিবেকের চোখে দেখা, হালকা ভাবে দেখা,  নিরীক্ষামূলক দেখা, পরীক্ষামূলক দেখা, অনুরাগের চোখে দেখা, বিরাগের চোখে দেখা, অভিমানী দৃষ্টিতে দেখা ইত্যাদি ইত্যাদি।


এই দেখাটার মধ্যেই কিন্তু লুকিয়ে আছে এক জন কবির কবিত্বের ক্ষমতা এবং প্রকাশ ভঙ্গী। কবিরা সাধারণত সরাসরি দেখাটা এড়িয়ে গিয়ে কিছু উপমা আর রূপকল্পের আশ্রয়ে বিষয়কে ফুটিয়ে তোলেন। যে যত নাটকীয়, চিত্তাকর্ষক এবং বোধগম্য ভাবে তা করতে পারবেন তিনি তত বেশি সার্থক কবি।


“Perspective”   আরো একটি বিষয়কেও অন্তর্ভূক্ত করে তা হচ্ছে দৃষ্টিকোণের পরিব্যাপ্তি। অর্থাৎ একটা বিষয়ের ঠিক কতটুকু দেখা হবে। সিনেমাতে যখন ক্যামেরার কাজ হয় তখন স্ক্রীন সট বলে একটা বিষয় থাকে। এখানেও তাই। একটা বিষয়ের কতটুকু এবং কোন অংশটুকু নিয়ে কাজ করতে চান তা কবিকে সচেতনভাবে সিলেকশন করে নিতে হবে। শুধু তাই নয় একটা বৃহৎ দৃশ্যপটে কোন অংশটুকু ঝাপসা হবে বা ছোট করে আঁকা হবে আর কোন অংশটা জুম করে প্রকাশ করা হবে সেটাও একজন কবিকে ভাবতে হবে। অন্যথায় অনেকগুলো বিষয় বা অবজেক্টের মধ্যে পাঠক ঘুরতে থাকবে। কবিতার মূল বক্তব্য স্পষ্ট হয়ে ধরা পড়বে না।


( চলবে...)