জাপানী আদলে বাংলা হাইকু-2

জাপানী আদলে বাংলা হাইকু-2
কবি
প্রকাশনী দ্বীপজ প্রকাশন
প্রচ্ছদ শিল্পী আলম আর্ট
স্বত্ব লেখক
প্রথম প্রকাশ ফেব্রুয়ারি ২০১৬
সর্বশেষ সংস্করণ প্রথম প্রকাশ
বিক্রয় মূল্য 200/-

সংক্ষিপ্ত বর্ণনা

হাইকু কবিতা

ভূমিকা

লেখকের কিছু কথা

হাইকু কবিতা সম্পর্কে পূর্বের বইয়ে আলোচনা হয়েছে। এখন আর নতুন কিছু বলার প্রয়োজনীয়তা আছে বলে মনে করি না। তবে এটুকু বলতে দ্বিধা নেই যে, বাংলা হাইকু বাংলা ভাষাতে জাপানি হাইকুর অনুকরণে লিখা সম্ভব। বিশ্বের ইতিহাসে জাপানি হাইকু সবচেয়ে ক্ষুদ্রতম কবিতা হলেও এর শব্দের আঙ্গিক ও রূপকল্পের একনিষ্ঠ বিন্যাস ও বিষয়বস্তুতে ব্যাপক পরিবর্তন লক্ষ্য করছি। এছাড়া কালের উপযোগী বিশ্ব সাহিত্যের নবতর পরমানু কবিতা হাইকু বিশাল স্থান লাভ করেছে। এত অল্প সময়ে হাইকুর জনপ্রিয়তা একটা অচিন্তনীয় ব্যাপার। বিশ্বের প্রতিটি দেশেই নিজ নিজ ভাষায় হাইকু রচনার প্রয়াস পেয়েছে। আমরাও এথেকে পিছিয়ে নেই। তাছাড়া বাংলা ভাষার শব্দেরও জাপানি হাইকুর মতো ‘অঞ্জি’ বা দল আছে। যা হাইকু লেখার জন্য শক্তিশালী প্লাটফর্ম। ডরষষরঁস ঔ. ঐরমমরহংড়হ তার লেখা বই ঞযব ঐঅওকট ঐঅঘউইঙঙক টিতে অনেক গবেষণা করে দেখিয়েছেন যে, জাপানি হাইকু পাশ্চাত্য দেশে লিখা হাইকু থেকে সম্পূর্ণ ভিন্ন। কারণ জাপানি হাইকু তাদের ট্রেডিশনাল ধারায় ৫-৭-৫ পদ্ধতিতে লিখে এবং তাদের লিখা হাইকুতে সিলেবল নেই। জাপানি হাইকুতে থাকে ‘অঞ্জি’ বা দল। আর বাংলা ভাষায় ব্যাঞ্জন বর্ণে অনেক ‘অঞ্জি’ বা দল আছে। যেমন- খ, ঘ, চ, থ, ঝ, ঠ ইত্যাদি। তাই বাংলাতে হুবহু জাপানি পদ্ধতিতে মোট ১৭ দল প্রয়োগে হাইকু লিখা সম্ভব। অর্থাৎ যে অক্ষরে বেশ চাপ দিয়ে উচ্চারণ করা হয় এমন ‘অঞ্জি’ বা দল এর প্রয়োগে হাইকু লিখলে নিশ্চয়ই সার্থক হাইকু হবে। তবে একথা বলা যায় বর্তমান সংঘাতময় দ্রুত সঞ্চারমান ও জটিল বিশ্ব পরিবেশে এ কবিতা সংক্ষিপ্ততা ও অধ্যাত্বিক উজ্জ্বল্যের ক্ষুদ্র নিদর্শন ইদানিংকালের পাঠক ও শ্রোতাদের মনে অনন্য দ্যোতনা জন্ম দেয়। তা পোস্ট-মর্ডানিজমের কিছু কিছু বিষয়ের সঙ্গে হাইকু উল্লেখযোগ্য মিল খুঁজে পাওয়া যায়। অনেক কবি, এল্যান ওয়াটস, রবার্ট হ্যাসে এবং জ্যাক কেরোয়াক হাইকুর প্রতি আকৃষ্ট হয়ে সমৃদ্ধ সংখ্যক হাইকু লেখেন। তবে ১৭ সিলেবল বা মোরাস বা অঞ্জি বা দল যাই বলি না কেন তারা কেউই আর রীতির শাসন মানছে না। অনেকে আবার এ কঠোর নিয়মের বেড়াজালকে টপকে স্বাধীনভাবে ৩ অথবা ৪ অথবা ১ লাইনের হাইকু লিখার নতুন সৌন্দর্যের নির্যাস প্রয়াসের দাবী করে আসছে।

সে যাই হোক আমি আগেও বলেছি হাইকু লিখতে বাংলা ভাষার ভাবগম্ভীর অক্ষরবৃত্ত ছন্দকে গ্রহণ করেছি। এ ব্যাপারে অনেকের মত পার্থক্য পরিলক্ষিত হলেও আমি মনে
করি হাইকু লেখার নিয়মকে সঠিক প্রয়োগে কাব্যিক সৌন্দর্যকে গ্রহণ করতে পেরেছি। আজকাল অনেক দেশেই ঋতুর সম্পৃক্ততা মানছেন না। তার এ ধারাকে ভেঙ্গে দৈনন্দিন জীবনের অপ্রাকৃত চিত্রকল্প ব্যবহারের দিকে ঝুঁকে পড়েছেন। তবে সময়ই বলে দেবে এ ধারা কতটা জনপ্রিয়তা পাবে।




বেগম জাহান আরা বাংলা হাইকু বইতে বলেছেন, ‘এতো জানা, অনেক চেনা কোন ছড়ার ছন্দ। বিশেষ আঙ্গিকের অনু কবিতা যেনো’। কবি নির্মলেন্দু গুণ হাইকু শৈলীতে লেখা হোসে লুই বোর্হেসের সতেরটি ছোট কবিতার অনুবাদ করেছিলেন। তিনি বলেছেন, ‘ভবিষ্যতে বিশ্ব সাহিত্যে হাইকু কবিতার অবস্থান কী হবে তা নিয়ে আমি এখানে একটি ভবিষ্যতবাণী করতে চাই। সংহতির কারণে শব্দ নির্বাচনে হাইকুর বিষয়বস্তুকে সামনে নিয়ে আসে। অধিকাংশ ক্ষেত্রে দেখা যায়, কবিতার বিষয়বস্তু নিরেট কোন কিছু।

সকল পরিস্থিতি বিবেচনায় নিলে হাইকুর পথ অনায়াসে একটি মডেল হতে পারে। কারণ হাইকু মানব সত্তাকে আঁড়াল করে সকল কিছুর সারমর্মকে উপরে নিয়ে আসে। স্বভাবতই বিশ্বের সহজতম শৈলীর কবিতাই তো পৃথিবী ও তার বাসিন্দাদের ভবিষ্যত পথের গোপন নির্দেশনা ধারণ করবে এটাই স্বাভাবিক। কবির মনে বিচিত্র অনুভূতি ছবির মতো করে ক্ষুদ্র কবিতায় সংস্থাপন করাই হাইকু কবিতা। বাংলা ভাষায় সর্ব প্রথম এ ব্যাপারে ধারণার কথা প্রকাশ করেছেন বিশ্ব কবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর। যে নিয়মের কথা তিনি বলেছেন তার ব্যতিক্রম হয়েছে কিন্তু কম নয়। সাম্প্রতিক কবিতায় এ রীতি পশ্চিমা বিশ্বে লেখকদের দৃষ্টি আকর্ষণ করছে। আর হাইকুর মাধ্যমে জাপানি কবিতার প্রসার ছড়িয়ে পড়ছে বিশ্বব্যাপী। জাপানের হাতে পরমানু বোমা না থাকলেও আছে পরমানু কবিতা। যার আবেদন অসীম, বিশ্বময়ী সমাদৃত। পরমানু বোমা নিমেষেই অনেক ধ্বংসযজ্ঞ ঘটাতে পারে কিন্তু পারমানু কবিতা হাইকুর মধ্যে নিহীত আছে জাতি বেঁচে থাকার মন্ত্র। আর এ মন্ত্রের দীক্ষা গ্রহণ করে বিশ্বের অনেক দেশই আবিস্কার করছে হাইকু কবিতা। তেমনি হয়তো বাংলা সাহিত্যেও এর প্রচার ও প্রসার পর্যায়ক্রমে বৃদ্ধি পাবে নিশ্চয়।

পরিশেষে বলব, আমাদের পাঠক/ সমালোচকবৃন্দ যারা আরও কাছে থেকে জাপানী হাইকুকে দেখার প্রয়াস পেয়েছেন। তাদের কাছে আমার এ ক্ষুদ্র প্রয়াস বা প্রচেষ্টা কতটুকু সার্থক বিবেচিত হবে সেই বিচারের ভার আপনাদের কাছে ছেড়ে দিলাম। আমার এ দ্বিতীয় হাইকু লেখা গ্রন্থটি আপনাদের হৃদয়ে এতটুকু দাগ কাটলে বা গ্রহণযোগ্য হলে ধরে নেব এ প্রচেষ্টা সার্থক হয়েছে। সবাইকে ধন্যবাদ।

উৎসর্গ

মোবাশ্বির উল্লাহ চৌধুরী
সাধারণ সম্পাদক
ভোলা মিউনিসিপ্যাল কো-অপারেটিভ ক্রেঃ সোসাইটি, ভোলা।
প্রাক্তন সাধারণ সম্পাদক, ভোলা প্রেস কাব।

শেয়ার করুন: