জাপানী আদলে বাংলা হাইকু

জাপানী আদলে বাংলা হাইকু
কবি মোঃ জুলফিকার আলী
প্রকাশনী শাহজী প্রকাশনী
প্রচ্ছদ শিল্পী আলম আর্ট
স্বত্ব লেখক
উৎসর্গ আব্বা আম্মাকে
প্রথম প্রকাশ নভেম্বর ২০১৪
সর্বশেষ সংস্করণ ১ম সংস্করণ
বিক্রয় মূল্য ১৬০/-

সংক্ষিপ্ত বর্ণনা

হাইকু কবিতা

ভূমিকা

ভূমিকা

হাইকু সম্পর্কে ভূমিকা লিখতে গিয়ে অনলাইনে অনেকের লেখার সাহায্য নেওয়ায় আমি ক্ষমা চেয়ে নিচ্ছি। আসলে হাইকু সম্পর্কে নতুন কিছু বলার প্রয়োজন মনে করি না। কারন এ সম্পর্কে অনেক লেখা বোদ্ধাগণ আগেই লিখেছেন। তবে একটা কথা না বললেই নয়, পৃথিবীর বিভিন্ন ভাষায় চমৎকার সব হাইকু রচিত হলেও বাংলা ভাষায় বেশী একটা হাইকু রচিত হয়নি। বুদ্ধদেব চ্যাটার্জী তাঁর তিনশো বছরের হাইকু গ্রন্থের ভূমিকায় প্রথমেই বলেছেন, ‘সুন্দরের প্রকাশ ব্যাপ্তিতে আছে আবার ক্ষুদ্র পরিসরেও আছে।’ এরপর তিনি অবশ্য হাইকু'র গঠন নিয়ে অন্য প্রসঙ্গ তুলেছেন। যে কথাটা না বললেই নয় তা হলো, হাইকু কেবল ক্ষুদ্র পরিসরে সুন্দরের প্রকাশ নয়, ক্ষুদ্রতার মধ্য দিয়ে ব্যাপ্তির সৌন্দর্যকে উপলব্ধি করাও বটে। হাইকু জাপানী রচয়িতাদের সৌন্দর্য চর্চার একটি বিশেষ দিক। তবে বাংলা ভাষায় প্রসার না ঘটার অন্যতম কারণ বলা যায়, কঠোর নিয়ম ও অতিসংক্ষিপ্ততা এবং তিন লাইনে লেখার বিধিবদ্ধতার কারণে। কিন্তু সেই ভাবের উপলব্দি ঠিক রেখেই হাইকু লেখা ও ব্যাপ্তির সৌন্দর্য দেখার প্রয়াস পেয়েছি।

হাইকু পৃথিবীর অতি সংক্ষিপ্ততম কাব্যরূপ। তিনটি লাইনে ১৭টি সিলেবল থাকে, যা ৫-৭-৫ পদ্ধতিতে সাজানো। হাইকুর আর এক বৈশিষ্ট। জাপানী রীতির হাইকু কবিতায় ১৭টি সিলেবলের ভাগকে বলা হয় সড়ৎধং. পৃথিবীর অনেক ভাষাতেই, হাইকু কবিরা প্রথমেই আটকে গিয়েছেন এই কঠোর নিয়মের বেড়াজালে। তবে বর্তমানে বিদেশী ভাষায় রচিত হাইকুতে সিলেবলের শাসন নেই বললেই চলে। ঋতুর সম্পৃক্ততাও অনেক ক্ষেত্রে মানা হচ্ছে না। এমনকি তিন লাইনের জায়গায় এক বা দুই লাইনের হাইকুও লেখার দাবীও উঠেছে অনেকের থেকে।

আমি হাইকু রচনা করতে গিয়ে অক্ষরবৃত্ত ছন্দে মৌল ১৭টি সিলেবল ব্যবহার করেছি। আমার মনে হয় বাংলা ভাষাতেও অক্ষরবৃত্ত ছন্দে হাইকুর রচিত নিয়মকে মেনে লেখা সম্ভব। তাই ৫-৭-৫ পদ্ধতিতে তিন লাইনের ব্যাকরণ একান্ত নিষ্ঠার সাথে অনুসরণ করেছি । অনেক হাইকু ঋতু বিস্মৃত, কারণ অনেকের মতো আমিও মনে করি তা একান্ত সম্ভবপর নয়। জাপানের চার ঋতুর তুলনায় আমাদের রয়েছে ছয় ঋতু, তাছাড়া কাব্যের বার্তাবরণ বিশ্বের বিভিন্ন দেশে আলাদা হবে সেটাই স্বাভাবিক। বিদেশী ভাষায় হাইকু রচনার ক্ষেত্রে, হাইকু- শব্দটি, হাইকু ও সেনরিউ এমনকি তানকা, এ সব মিলিয়ে ব্যাপক অর্থেই ব্যবহৃত হচ্ছে। তবে শব্দের আঁড়ালে শব্দের যে অন্য অর্থ আরোপ বা অন্য ইমেজ সৃষ্টি করা, তা বজায় রেখেই লেখার চেষ্টা করেছি।


পরিশেষে বলবো, আমাদের পাঠক/সমালোচকবৃন্দ যারা আরও কাছে থেকে জাপানী হাইকুকে হৃদয়ঙ্গম করেছেন। তিন পংক্তির বিশ্বকে দেখার প্রয়াস পেয়েছেন। তাদের কাছে আমার এ ক্ষুদ্র প্রচেষ্টা কতটুকু সার্থক বিবেচিত হবে সেই বিচারের ভার আপনাদের উপর ছেড়ে দিলাম। আমার এ হাইকু লেখা আপনাদের হৃদয়ে যদিবা এতটুকু দাগ কাটে বা গ্রহণযোগ্য হয় তবে ধরে নেব এ প্রচেষ্টা সার্থক হয়েছে। ধন্যবাদ সবাইকে।

শেয়ার করুন: