৬৮.
এক শিক্ষক কবিতাটির কেন্দ্রীয় চরিত্র l আকবর মাষ্টার তাঁর নাম l তিনি এক পন্ডিত ব্যক্তি l সর্বদা আধ্যাত্বিক ভাবে মগ্ন থাকেন l কথায় কথায় ধর্মশাস্ত্র থেকে উদ্ধৃতি তাঁর মুখ থেকে শোনা যায় l গানেও তাঁর রুচি আছে l স্বর সাধনা করেন l গুণ গুণ করে গানও করেন যখন তখন l চুলে খানিকটা জটা আছে l দু চোখে দৃস্টিটা একটু ক্ষীণ l চোখে গোল চশমা l পথে ধীরে ধীরে চলেন l সময়ের আন্দাজ না পেলে পথে কাউকে জিজ্ঞেস করে নেন l কখনো সময় শুনে চমকে যান l সর্বদা হাতে রাখেন তেলে মাখা একটি বাঁকা লাঠি l শারীরিক নানা অসুবিধা সত্বেও তাঁর জ্ঞানের ভাণ্ডার অসীম l বয়স আশি বছরের বেশীই হবে l এই বয়সেও তিনি তাঁর অর্জিত জ্ঞানকে ধরে রেখেছেন নিজের মাথায় l সামান্য বিস্মরণ হলেও অধিকাংশই তাঁর স্মরণে আছে l হঠাৎ পথে কোনো ছাত্রকে পেলে, তাকে পাকড়াও করেন ও পথেই তার পরীক্ষা নিতে শুরু করেন l কোনো ছাত্র পণ্ডিতমশায়ের হাতে লাঠি দেখে ভয়েই পালিয়ে যায় l কেউ বা সাহস করে এগিয়ে আসে l অঙ্কের ওপর প্রশ্ন করেন l ছাত্ররা তা পেরে ওঠে না l সমাজবিদ্যা, ভূগোল বিষয়ে তবু তারা উত্তর দিতে সক্ষম হয় l ধর্ম বিষয়ে ভালো উত্তর পান l ইংরেজিতে তাঁর ছেলেরা দূর্বল একথা তিনি স্বীকার করেন l বিজ্ঞান বিষয়ে, সাধারণ জ্ঞান বিষয়ে যে ছাত্রেরা দুর্বল এটা হাসিমুখেই তিনি স্বীকার করেন l
ছাত্রদের পিঠে চাপড় মারেন তিনি l উত্তর না পারলে থাপর ও মারেন l কিন্তু ছাত্রেরা এটাকে অত্যাচার হিসাবে নেয় না l মাস্টারমশাই এর স্নেহ হিসাবেই গ্রহণ করে l এই শাসনে তারা আনন্দ পায় l তাদের উৎসাহ বাড়ে l


"এ শাসনে নাই খাঁত নাই কোন ক্লেশ
উৎসাহ, আনন্দ আছে বেশ বেশ।"


কবিতাটির বিষয় ভালো l হাসি মজা আছে l চরিত্র চিত্রণ সুন্দর l কিন্তু কিছু কঠিন, শ্রুতিকটু শব্দ প্রয়োগে, বাড়তি শব্দ প্রয়োগে কবিতাটির সাবলীল পাঠ ধাক্কা খাচ্ছে বলে মনে হয় l যে কারণে কবিতাটির সুর তাল ছন্দ কেটে যাচ্ছে বারে বারে l ছন্দহীন, শ্রুতিকটু শব্দের ব্যবহার কবিতার পাঠকে প্রভাবিত করে, এবং পাঠক বিরক্ত হন l এই কবিতাটিতে এরকম মনে হলো l একটি ভালো কবিতা l শব্দের বিষম  ব্যবহারে পাঠ বিঘ্নিত হচ্ছে l কবিতাটির কিছু শব্দ বাদ দিলাম, অল্প কিছু শব্দ পরিবর্তন করলাম l এরকম হল l


এক ছিল পন্ডিত / শরীফ আহমাদ


আকবর মাষ্টার বড় পন্ডিত
সর্বদা মুখে তার তত্ব-গীত।
কখনও গলায় তাঁর
রেয়াজ সা-রে-গা-মা'র।
মুখে তার গুন গুন গুন
তোরা এসে ঐ সব শুন।
চলতে পথের বাঁকে
কারে যে কাছেতে ডাকে
চুলে তার খানিকটা জটা l
কারো সাথে দেখা হলে,"বাজে ক'টা"?
চোখটা উপরে মেলে প্রশ্ন করেন
জবাবটা শুনে হাত কপালে ধরেন।
দু'চোখে দ্যাখে না ভাল তাই
কাঁচা পথে ধীরে চলে গোল চশমায়।
তেলে মাখা বাঁকা লাঠি বন্ধু যে তাঁর
মাথায় এখনও তবু জ্ঞানের বাহার।
যদিও বয়স হয় নির্ঘাত আশি
তার চেয়েও হবে কিছু বেশি।
আজও তিনি জ্ঞানপুথিময়
হতে পারে খানিকটা ক্ষয়।
কখনো পথে দেখেন চেয়ে চেয়ে
তাঁর কাছে পড়া ছেলে কিবা মেয়ে।
চেঁচিয়ে বলেন, "তোরা এই দিকে আয়,
একজামিন করি, কি আছে মাথায়"l
হয়তো লাঠির ভয়ে কেউবা পালায়
কেউবা সাহস করে এগিয়ে যায়।
ভগ্নাংশ, শতকরা, অনুপাত চিহ্ন
যাচাই শেষে বলেন, "কথা ভিন্ন,
এ যুগের ছেলেমেয়ে গণিতেই কাঁচা
ইতিহাস ভূগোলে তাও যায় বাঁচা।
ধর্মের কথা সে তো সকলেই জানে
ইংরেজী শক্ত অনেকেই মানে।
কখনো বা মুখ জুড়ে হাসিটাই আনেন
"ভিত্ নেই বিজ্ঞানে" সজোরেই বলেন
অতএব পিঠে এক মারেন চাপর
ফেল যদি করে কেউ মারেন থাপর।
এই যে শাসন তাঁর এর মানে স্নেহ
এ-শাসনে আপত্তি করে নাকো কেহ।
এ শাসনে নাই খাদ নাই কোন ক্লেশ
আনন্দ, উৎসাহ আছে বেশ বেশ l


"এক ছিল পন্ডিত" কবিতার কবি শরীফ আহমাদ মহাশয়কে ভালো একটি কবিতার জন্য শুভেচ্ছা জানাই l