১০৪.
আসরের প্রবীণ শ্রদ্ধেয় কবি শেখ শামসুল হক জীবন সায়ান্হে এসে পিছনে ফেলে আসা দিনগুলির দিকে ফিরে তাকিয়ে অনুভব করেন জীবনের কিছু কীর্তি কখনো সম্পূর্ণ হয় না l শুরু করা সেই কাজগুলি সম্পূর্ণ করার অবসর জোটে না l হতাশ মনকে প্রবোধ দেবার প্রয়োজনে কিছু একটা সান্ত্বনা খুঁজে নেবার প্রয়াস থাকে l


জীবনের শ্রেষ্ঠ কবিতা কোনো কবিই বোধ করি লিখে যেতে পারেন না l স্বল্প বা দীর্ঘ কবিজীবনে অনেক কবিতাই লেখা হয় l স্বপ্ন থাকে এইভাবে লিখতে লিখতেই একদিন রচিত হবে জীবনের সেরা রচনা l কিন্তু কোনো রচনাই কবিকে সম্পূর্ণ তৃপ্তি দিতে পারে না l মনের মধ্যে একটা সংশয়, একটা খুঁতখুঁতে ভাব থেকেই যায় l কতো অপূর্ণতা নজরে আসে অনেক তথাকথিত ভালো কবিতায় l জীবনের সেরা সৃষ্টি হতে গেলে একটি কবিতার যে মান্যতা প্রয়োজন বলে মনে হয়, কবির নিজের কাছে স্বরচিত কোনো কবিতাই সেই মানে পৌঁছয় না l


বহু কবিতা কবিতার খাতায় অসম্পূর্ণ হয়ে পড়ে থাকে  প্রথম খসড়া রূপে l তার পরিমার্জন, পরিবর্ধন সংশোধন প্রয়োজন থাকে l  সময় সুযোগ মতো সেই অসম্পূর্ণ কবিতা সম্পূর্ণ করার দায় থাকে l কিন্তু সেই সময় কবির জীবনে হয়ে ওঠে না l দিনভর অন্য নানা কাজের চাপে কবিতার খসড়া নিয়ে বসা হয় না l আজ কাল করতে করতে কতো সময় পার হয়ে যায় l জীবন সায়াহ্ন চলে আসে l কবিতা খসড়াতেই পড়ে থাকে l তার আর এগুনো হয় না l যাবার সময় হয় l শেষে খসড়া রেখেই বুঝি যাবার পালা l শেষ সান্ত্বনা, কিছু তো রেখে যাওয়া গেল l কবিতা না হোক, খসড়া তো থাকল l


কবিতার ক্ষেত্রে যা সত্য, জীবনের ক্ষেত্রেও বুঝি তাই l জীবন অনন্ত নয় l যাত্রাপথের শেষ থাকে l জীবনের শ্রেষ্ঠ কীর্তি অর্জনের আকাঙ্খা থাকে l অনেক কাজ শুরু করা থাকে l কিন্তু সেই কাজগুলি সম্পূর্ণ আর করা হয় না l শেষের ডাক আসে l সাড়া দিতে হয় সেই ডাকে l অসম্পূর্ণ কাজ পিছনে রেখেই এই পৃথিবী ছেড়ে চলে যেতে হয় l সেই এক সান্ত্বনা, শ্রেষ্ঠ না হোক, সম্পূর্ণ না হোক, কিছু তো থাকল করা l কবিতার খসড়া হোক, অসম্পূর্ণ কোনো কাজ হোক, সেটা রেখেই চলে যাওয়া l তাই দুঃখ নয়, ওই সান্ত্বনাটুকুই সম্বল l শেষের পারানি l


শ্রদ্ধেয় কবি তাঁর কবিতায় যে কোনো শিল্পীমনের সৃজনকেন্দ্রিক চিন্তা ভাবনাকে রূপদান করেছেন l প্রবীণ কবিকে জানাই অন্তরের গভীর শ্রদ্ধা ও ভালবাসা l