আমি আগুন জ্বলা দেখি
আগুন ……. আগুন …….
দাবদাহ আগুন !
কাঠ কয়লা কিম্বা
ধুপ পোড়া আগুন।
আগুন জ্বলছে
আগুন নিভছে!
ফের জ্বলে উঠছে
অনেকের অজান্তে।
আমি আগুনে আগুন পোড়া দেখি
আগুনে ঝাঁপ দেওয়া দেখি,
উচ্ছ্বসিত পতঙ্গের পালক পোড়া দেখি।
কখনোবা;
মাংস পোড়া দেখি।
সে হোক হোটেল রেস্টুরেন্ট
কিম্বা কোন চিতায়।
মানুষ ও পোড়ে
মানবিকতা ও পোড়ে!
পোড়ে না শুধু শকুনের চোখ।


নাহারদের কুয়োর জলে তাকাই;
স্ফটিক জল।
ব্যাঙের পোনা আর মাছের পোনা
বিভক্তিকরণের ক্ষুদ্র প্রচেষ্টা।
কিনারায় জমে ওঠা সবুজ ঘাস
তারই মাঝে জোঁকের বসবাস।
জোঁক রক্ত চুষে খায়
লবণের ছোঁয়া পেলে,
মরে ও যায়।
আমি লবণের প্রয়োজনে ছুটে যাই।
আমি লবণ খুঁজতে যাই।
মতিভ্রমের মতো;
ছুটতে ছুটতে পার করি
দিন মাস বছর।
আমার লবণ প্রয়োজন।
এক চিমটি নয়
দুই চিমটি নয়;
বস্তায় বস্তায়
মন এর পর মন
টন এর পর টন
লবণ প্রয়োজন!
আমার রক্ত চুষে খাচ্ছে জোঁক।
তোমার রক্ত চুষে খাচ্ছে জোঁক।
ক্রমশ’ই আমরা সাদা হয়ে যাচ্ছি!


ফের ছুটতে ছুটতে নদীর প্রান্ত ছুঁয়ে
আরক্তিম আকাশ।
যেনো জলের সাথে মেঘপুঞ্জের
প্রণয়ের শেষ দলিল।
মাঝিমাল্লা দের হাঁকাহাঁকি
নৌকা ছাড়ার ডাক।
ভাটিয়ালি গান।
এক ঝাঁক মুক্ত বলাকা।
আর;
ঊর্মি রানীর কামুক ভাঁজে
চুমু খেয়ে যাওয়া।
একটি প্রজাপতি
একটি পানকৌড়ি।
জলের ঝাঁপটা এসে
শরীর ছুঁয়ে যায়।
মন ও ভালো হয়ে যায়।
মনে হচ্ছে আমি উন্মাদ নই।
সময়ের যাঁতা কলে পেশা
এক টুকরো মাংস পিণ্ড।
মোহ শেষে দেখি;
জল আর মাটি ছুঁয়ে ভাসছে
একটি লাশ।
শকুনের উল্লাস!


সময়ের চাবুক খেয়ে
ফিরে আসি লোকালয়ে।
প্রতিনিয়ত শ্বাস নিয়ে যাচ্ছি
আমরা জীবন্ত লাশ!